ও আমার না আছে জানা টানা, না বানা
না আছে তোমার জালসম বুননের সৃষ্টির ধারণা।
—ঋগ্বেদ
দক্ষিণ এশিয়াই সুতি বয়নশিল্পের আদি পীঠস্থান। বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন সিন্ধু অববাহিকায় প্রথম তুলা চাষের নজির মেলে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীর যেসব নিদর্শন মহেঞ্জোদারো খননকার্যের সূত্রে পাওয়া গেছে, তার মধ্যে উদ্ভিদ থেকে আহরিত লাল রঙে রঞ্জিত বস্ত্রের অংশবিশেষ, সুতা কাটার টাকু এবং সুচ সেই ইতিহাসেরই সাক্ষ্যবহ। ভারত থেকেই এই বস্ত্র প্রথম বিস্তার পায় মেসোপটেমিয়া, পারস্য ও মিসরে। এরপর পহেলা শতাব্দীতে আরব বণিকরা সুতিবস্ত্র পৌঁছে দেন ইউরোপ ও দূরপ্রাচ্যে। ভারতীয় বয়নশিল্পীদের বোনা এক জাদুকরী সৃষ্টি এই সুতি কাপড়। হাতে কাটা সুতা আর হাতে বোনা তাঁতের কাপড়ের খ্যাতি উপমহাদেশজুড়ে, তবে বাংলার সুদৃশ্য জালসম সূক্ষ্ম বুননের মসলিনের জুড়ি মেলা ভার। এ মসলিন বোনা— বাতাসের মতো হালকা এবং ঝরনার স্বচ্ছ জলের মতো মোলায়েম বলে আখ্যায়িত। মূলত ‘মসলিন’ শব্দটির উত্পত্তি ইরাকের মসুল শহরের সুতিবস্ত্রের বাণিজ্য সূত্রেই।
ভারতীয় সুতি বয়নশিল্পের গুরুত্ব পৃথিবীর ইতিহাসবিদ এবং পরিব্রাজকদের নজর কেড়েছে একদিকে এর অনিন্দ্য সৌন্দর্যের কারণে, অন্যদিকে বাণিজ্যের মহার্ঘ্য সামগ্রীরূপে। প্রাচীন এবং মধ্যযুগীয় নথিপত্রে বারবার স্বচ্ছ মসলিনের উল্লেখ রয়েছে। আররিয়ান-এর পেরিপ্লাস অব দি ইরিথ্রিয়ান সি-তে প্রথম শতাব্দীতে প্লিনি লিখেছেন কীভাবে রোমের অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে ভারত থেকে মহামূল্যবান কাপড় বেশি বেশি আমদানির ফলে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে গাঙ্গেয় বদ্বীপের উন্নত সুতি বস্ত্রের উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে মেগাসথিনিস রাজসভায় ফুলেল মসলিনের অনবদ্য পোশাকের প্রশংসা করেছেন। নবম শতাব্দীতে আরব পরিব্রাজক সুলায়মানের সবিস্তার বর্ণনায় বলা হয়েছে— ‘রাহমি রাজ্যে (বাংলা) তৈরি সুতিবস্ত্র এতটাই সূক্ষ্ম যে, এর তৈরি গোটা একটি পোশাক একটি আংটির মধ্যে গলিয়ে বের করা যায়।’ তারই প্রতিধ্বনি চৌদ্দ শতকের ইবনে বতুতার বয়ানে। তিনি বলেছেন, রাজকীয় উপঢৌকনের উপযোগী এ অনন্য পেলব কাপড়। আবুল ফজলের ‘আইন-ই-আকবরী’তে বঙ্গের অত্যাশ্চর্য এই মসলিনের বিশ্ববাণিজ্যে আধিপত্যের কথার উল্লেখ রয়েছে। অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে আরব বণিকরা পূর্ব ভারতে প্রবেশ করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন; তলোয়ারের শক্তিতে নয়, বরং সুফি পীরদের ধর্মনিরপেক্ষ প্রচারণায়। ত্রয়োদশ শতকে বাংলা মুসলিম শাসকদের অধীনে চলে যায় এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে এর বাণিজ্যের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে এই মসলিন, যা আরব বণিকদের হাত ধরে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি নবীজির মাজারে হজযাত্রীর বিশেষ গিলাফটিও হয়ে ওঠে বাংলার কারুকার্যময় মসলিন রুমাল।
নবীজির মাজারে নিবেদিত যে ধন
বাংলার তাঁতের তা শ্রম-রতন।
—ক্যামিয়নের লুসিয়াড কাণ্ড
মসলিনের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মানের তিনটি কারণ উল্লেখ্য— উচ্চমানের তুলা, হাতে কাটা সুতার সূক্ষ্মতা এবং তাঁতিদের দক্ষ বয়নকৌশল। বিশিষ্ট পণ্ডিত ড. রংবার্গ তার ভারতীয় উদ্ভিদ-সম্পর্কিত গবেষণা গ্রন্থ ‘ফ্লোরা ইন্ডিকা’য় উল্লেখ করেছেন, ঢাকার কার্পাস তুলা ‘গসিপিয়াম আরবারিয়াম’ এবং ‘গসিপিয়াম আরবোরেটাম ভার নেগলেকটা’ প্রজাতির, যা স্থানীয়ভাবে ফোটি বা ফুটি কার্পাস হিসেবে পরিচিত। এই বিরল প্রজাতির কার্পাস তুলা কেবল ঢাকার অল্পবিস্তর অঞ্চলেই জন্মাত। তত্কালীন ব্রিটিশ বাণিজ্যিক আদিবাসী জেমস টেইলর জায়গাটি সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্পাস জন্মাত ঢাকার আশপাশে ‘একটি নাতিদীর্ঘ এলাকায়, যা ঢাকার ফিরিঙ্গি বাজার থেকে ১২ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে মেঘনা নদীর তীরঘেঁষে সমুদ্র থেকে ২০ মাইল উত্তরে ইদলিপুর অবধি বিস্তৃত এবং যা প্রায় ৪০ মাইল দীর্ঘ এবং কিছু জায়গায় মাত্র তিন মাইল প্রস্থ। ঢাকার এ অঞ্চলে সেরা কার্পাস জন্মায় এবং আমি আরো সংযোজন করতে চাই যে, পৃথিবীর আর কোথাও এ প্রজাতির তুলা জন্মায় না।’ তিনি এ অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্বের কারণ হিসেবে বলেছেন সমুদ্রের সঙ্গে এর নৈকট্য থাকার কথা, যা প্রতি বর্ষায় সমুদ্রবাহিত পলিকে মেঘনার দু’কূল ছাপিয়ে উর্বরতায় সমৃদ্ধ করার পথে অনুকূল ছিল। ব্রিটিশরা নানাভাবে পৃথিবীর অন্যত্র এ প্রজাতির কার্পাস চাষের জন্য প্রচুর চেষ্টা করেছিল, তবে কখনই তারা সফল হয়নি।
তুলা থেকে হাতে সুতা কাটা এবং এ উন্নত মানের সুতায় বয়ন অসামান্য দক্ষতা ও সুনিপুণ প্রয়োগ দাবি করে। সুতা কাটার উপযোগী তুলা প্রস্তুত করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার। প্রথমেই বোয়াল মাছের চোয়ালের হাড় দিয়ে আঁচড়ে বীজ এবং ময়লার অণু-কণা আলাদা করা হয়। তারপর তা তক্তায় পিষে তুলার বীজ না ভেঙে, ধনুর আদলে তৈরি ধুনকর নামের ছোট যন্ত্র দিয়ে ধুনে ভারী দলা থেকে সূক্ষ্ম তুলা আলগা করা হয়। নরম সেই তুলা কুঁচিয়া মাছের পাতলা চামড়া দিয়ে পেঁচানো হতো, যাতে সুতা তৈরির সময় তাতে ময়লা না লাগে। এই তুলাকেই অসামান্য দক্ষতায় সূক্ষ্ম মসলিন সুতায় পরিণত করা হয়। ওই সময় এ কাজটি সম্পাদন করতেন একদল হিন্দু নারী। তারা সুতাটি চরকায় নয়, সরাসরি তকমায় কাটতেন। কুক টেইলর তাদের প্রশংসায় বলেছিলেন, পৃথিবীর যেকোনো অঞ্চল থেকে এদের স্পর্শের কমনীয়তা অধিকতর। এই কাজটির জন্য প্রয়োজন আর্দ্রতার সমবণ্টন। অন্তত ৮২ ডিগ্রি (৮২০) ফারেনহাইট তাপমাত্রা এর জন্য জরুরি। এ কাজটি করতে হতো ভোর থেকে সূর্যোদয় এবং পড়ন্ত দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। শুষ্ক মৌসুমে অগভীর পাত্রে পানি রেখে তার ওপর সুতা কাটা হতো কেবল সঠিক পরিমাণ আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে। অর্থাৎ মেয়েরা কেবল প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা এ কাজ করতে সক্ষম হতো। মাসের পর মাস এমনকি বছর লেগে যেত এক রতি অর্থাৎ ১৪০ থেকে ১৫০ হাত বস্ত্র তৈরি করতে। এরপর স্বচ্ছ মসলিন তৈরির কাজটি সম্পাদিত হতো গর্তের মধ্যে বসানো এক সাদামাটা তাঁত বা ‘পিট লুম’ দ্বারা। তাঁতযন্ত্রটি গর্তে রেখে তা দুই পায়ে চালানোর সুবিধার জন্য এই ব্যবস্থা। মাটিতে গাড়া থাকত চারদিকে চারটি খুঁটি। তার ওপর আড়াআড়ি কাঠগুলো ঘরের চাল অথবা উঠোনের গাছের ডালের সঙ্গে বাঁধা হয়। মসলিন বয়নে যেসব যন্ত্রপাতি তাঁতিরা ব্যবহার করতেন, তার মধ্যে ‘শানা’ হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং কাপড়ের মান নির্ণয়ে মুখ্য ভূমিকা পালনকারী। অত্যন্ত সূক্ষ্ম কারিগরি দক্ষতায় এক বিশেষ ধরনের বাঁশের চটা দিয়ে সুনিপুণভাবে সূক্ষ্ম দাঁতের মতো মিহি খাঁজাকাটা এই শানা তৈরি হয়। সুতার মূল্য পরিমাপে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ওজনের অনুপাতে এর দৈর্ঘ্য আর মসলিন কাপড়ের মূল্য নির্ধারিত হয় তার দৈর্ঘ্য, সুতার টানা আর ওজন স্বল্পতার ওপর।
জেমস টেইলর মসলিনের বৈশিষ্ট্য, বয়নের এলাকা, নকশা এবং যে কাজে বস্ত্রটি ব্যবহার্য, সেই অনুযায়ী ফার্সি নাম দিয়ে তারতম্য লিপিবদ্ধ করেছিলেন। সবচেয়ে সূক্ষ্ম এবং মূল্যবান ছিল মলমল খাস (সূক্ষ্মতম মসলিন), যার ওপর ছিল সম্রাট-সম্রাজ্ঞীদের একচেটিয়া অধিকার। আবরাওয়ানও (ঝরনার জল) ছিল রাজকীয় সামগ্রী। অন্যদিকে সিরকার আলি বিভিন্ন অঞ্চলের নবাবদের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি হতো। জঙ্গল খাস, শবনম, তনজেব এবং নয়নসুখ গায়ের জামার জন্য তৈরি হতো। সারবান্দ এবং সারবাতি ছিল পাগড়ি ও কোমরবন্ধের বস্ত্র। শতাব্দীর ব্যাপ্তিতে মসলিন কিংবদন্তি বস্ত্র হিসেবে রাজদরবারে শোভাবর্ধন করেছে এবং এশিয়া, ইউরোপ ও অন্যত্র একচ্ছত্র আধিপত্যে শৌখিন বাণিজ্যসামগ্রী হিসেবে বিরাজ করেছে।
জামদানি, তাঁতজাত মসলিন, ঢাকাই তাঁতের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বা ‘শে দভা’ বলে বিবেচিত। জামদানি কথাটার উত্পত্তি ফার্সি শব্দ জাম-দার, যার অর্থ ফুলদানি থেকে। সব সেরা এ জামদানি সবচেয়ে মূল্যবান মসলিন। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর কারুকাজখচিত নকশা, যা নিখুঁতভাবে তৈরি হয় অতিরিক্ত ভরনার বুনন প্রক্রিয়ায়। জর্জ ওয়াটস এসব অপরূপ নকশার উত্পত্তি পারস্যে বলে দাবি করেন এবং তাকে সমর্থন জোগান পার্সি ব্রাউন— তারও অভিমত এসবের ধরন ও বৈশিষ্ট্য পারস্যের বলে। এটা সহজেই অনুমেয়— কারণ, মুহম্মদ বিন তুঘলক থেকে মোগল সম্রাট পর্যন্ত সবাই পারস্যের বয়নশিল্পীদের নিয়ে এসেছিলেন ভারতের ওস্তাদ-কারিগর বয়নশিল্পীদের সঙ্গে এই সুচারু বস্ত্র তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করতে। জামদানির নকশা ও গঠন দেখেও সেটা সহজেই ধারণা করা যায়। কারণ নকশাগুলোর ফুলেল ও জ্যামিতিক গঠন এবং ফার্সি নামকরণ, যথা— পান্না হাজারা, ফুলওয়ার, তোড়াদার, গুলদাস্তা, জামেওয়ার, তুরাঞ্জ, আশরাফি— তাদের ইসলামী উেসর সমর্থন দেয়। মূলত তিনটি মৌলিক ফুলেল ও রৈখিক বিন্যাসকে অসংখ্য সম্মিলনে উপস্থাপিত করা হয়েছে। গোটা বস্ত্রের জমিনে বুটির মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সহজ নকশাগুলোকে বলা হয় বুটিদার। ফুলেল বা রৈখিক নকশা জমিনে আড়াআড়িভাবে বেঁকে উঠে যাওয়ায় নকশার নাম হয় তেরচি, আর সারা জমিনে কারুকাজময় নকশার বিস্তার ঝালর বা জাল বলে উল্লেখিত। মসলিন অচিরেই নজর কাড়ে মুসলিম শাসকদের, যাদের রুচিতে অনুরূপ জাঁকজমক ও সমৃদ্ধির প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায়। জামদানি ও মসলিন দুটোই সুতির কাপড়। মসলিন ছিল তাদের জন্য এক অনুপম বিকল্প; ধর্মীয় অনুশাসন অনুযায়ী রেশম পরিধানে পুরুষদের বিধিনিষেধ থাকায় মোগল আমলে তাই স্বভাবতই হাতের কারুকাজ করা মসলিন ও জামদানি কাপড় বিশেষভাবে জায়গা করে নেয়। জামদানির তৈরি জামা, আংরাখা, পাটকা বা কোমরবন্ধ, চাদর, ওড়নি, রুমাল ইত্যাদির প্রচলন এক অতুলনীয় শ্রেষ্ঠত্বে পৌঁছে যায়।
মসলিন বয়নে হিন্দু তাঁতিরাই (তাঁতি*) ছিলেন প্রধান, তবে জামদানি তৈরিতে মুসলমান তাঁতিরা (জোলা) পারঙ্গম ছিলেন। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী স্বীকৃত এই তথ্যে অবশ্য কোনো নির্দিষ্ট কারণের উল্লেখ নেই। মসলিন— তা কারুকার্যবিহীন অথবা কারুকার্যময়ই হোক না কেন, সুপ্রাচীনকাল থেকেই বাংলার নিজস্ব শিল্প। তাঁতে বোনা জামদানি এসেছে বহু যুগ পরে, সম্ভবত পারস্য এবং এদেশীয় তাঁতিদের যোগাযোগের সূত্র ধরে। কথিত আছে বিপুলসংখ্যক মসলিন বয়নশিল্পী নিজেদের অঞ্চল ছেড়ে উত্তরের বাজিতপুর এবং ইদলিপুরের ঐতিহাসিক তাঁতিদের দলে যোগ দেন। স্থানীয় হিন্দু রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় জমি, জলাধার, কুয়া প্রভৃতি পেয়ে তারা সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।
তবে জামদানি বয়নশিল্পীরা তাদের আদি পীঠস্থান ঢাকার আশপাশের এলাকায় রয়ে যান। আজ অবধি এই অদ্ভুত ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ অনুদ্ঘাটিত, তবে কেবল মুসলমান তাঁতিদেরই জামদানি রাজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য। বিশিষ্ট লোককাহিনীবিদ মোহাম্মদ সাঈদুর, জামদানি নিয়ে যার ব্যাপক গবেষণা রয়েছে, তিনি ঐতিহাসিক সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জকে ঘিরে থাকা মোট ২৬টি জামদানিপল্লী লিপিবদ্ধ করেছেন। কেন্দ্র হিসেবে ডেমরা, নোয়াপাড়া, দক্ষিণ রূপসী, তারাবো, বেকুর এবং মুরগাকুলের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ্য।
ধর্মীয়ভাবে মুসলমান হলেও জামদানি বয়নশিল্পীদের ধর্মনিরপেক্ষতা তাদের লোকাচার এবং রীতিনীতিতে দৃশ্যমান। এ কালের শ্রেষ্ঠ জামদানি ওস্তাদ হিসেবে স্বীকৃত হাজি কফিল উদ্দিন ভূঁইয়ার ভাষ্যমতে, বালক বয়সে তাঁতে বসার আগে তিনি যে দোয়াটি পাঠ করতেন, তা ছিল হিন্দু দেবতা বিশ্বকর্মার উদ্দেশে, দেবতা হিসেবে নয় বরং গুরু ধার্যে।
বিশ্বকর্মা ধলেশ্বরী
ওস্তাদের চরণ ধরি
যে কাম ওস্তাদে শিখায়
সে কাম শিক্ষা করি
মা লক্ষ্মী ভর কর
অলক্ষ্মী দূর কর।
দোয়াটি শেষ হতো বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম (শুরু করছি আল্লাহর নামে, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু) দিয়ে। আজ পর্যন্ত কিছু তাঁতি এই দোয়া পড়েই তাঁতে বসেন।
অন্যান্য বয়নধারা থেকে জামদানি এই অর্থে ভিন্ন যে, একজন নয়, দুজন বয়নশিল্পী একসঙ্গে কাজ করেন। ডানে বসেন ওস্তাদ এবং বাঁ দিকে বসে সাগরেদ ওস্তাদের নির্দেশ পালন করেন। বিগত কাল থেকে জামদানি তাঁতিরা নকশাগুলোকে আক্ষরিক নির্দেশ হিসেবে বুলি আকারে মুখস্থ করেছেন। মূলত এই বুলির মধ্যেই নিহিত রয়েছে মূল নির্দেশ; যার সঙ্গে আনুষঙ্গিক নির্দেশে নকশাভেদে তারতম্য ঘটে। জটিল নকশা স্মরণ রাখার সুবিধার্থে নমুনায় বোনা হতো, যা ডোমা হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে সব নকশা ও বিন্যাস স্মৃতিনির্ভর এবং বংশানুক্রমে হস্তান্তরিত, যা পরম্পরায় পালিত হয়ে আসছে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুলির উদাহরণ:
পাঁচ খেও পিছা ধইরে
ছয় খেও জিগির রাইখে,
ঠেলা মুধ্যে আর এক পিছা
ডাইনে গারো এক খেও,
বাঁয়ে পিছা বারে এক খেও।
এক শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যবাহী নকশাগুলো লোকজ নামেই পরিচিত এবং জ্যামিতিক ও ফুলেল আঙ্গিকে প্রচলিত। কিছু অতি প্রিয় আদি এবং অকৃত্রিম জামদানি জমিনের নকশা বাঘনলি, বাঘেরপাড়া, সিঙ্গারা, চিড়া, ডালিম, ডরিংফুল, কাঁকড়া, সন্দেশ, প্রজাপতি, শাপলা, ছোটবুটি, জুঁইফুল, করলা, ঝুমকা, তারা প্রভৃতি নামে পরিচিত। আড়াআড়ি কিছু পরিচিত বিন্যাস রয়েছে তেছরি, করাত, আদারপানা, ফুল, আশরাফি, জওলি, নিমপাতা এবং সাবুদানা নামে। ঐতিহ্যবাহী ঝালর বা জাল নকশার ভাণ্ডারে রয়েছে পাতিজাল, আংটিজাল, দুবলাজাল, চন্দ্রহারজাল, বুন্দিরজাল, শঙ্খজাল, হাঁটুভাঙ্গাজাল প্রভৃতি। জামদানির পাড়ের অতুলনীয় ভাণ্ডারে রয়েছে অসামান্য সব নমুনা, যেমন— আঙুরলতা, গুলাপচর, কলকা, শাল, তিনপাতি, ময়ূরপেঁচ, ইঞ্চিপার, কাঁচিপার, ডরিংপার, কুইলতাপার, টঙকিপার, কচুপার, পাতাবাহার ও বেলপাতা। শাড়ির আঁচলে কলকা বা পঙ্খী নকশা কেবল অতি মূল্যবান শাড়িতেই জায়গা করে নেয়; কারণ, এটা সময়সাপেক্ষ। উচ্চমূল্যের জামদানিতে সোনালি ও রুপালি জরি ব্যবহার করে নকশার বৈভব বাড়ানো হয় আর শাড়ির পটভূমি সজ্জায় যোগ হয় আজরাবুটি, চালছিটা এবং সেবোরকা। শাড়ির পাড়কে পরিপাটি করে মাদলি নামের টানা নকশা আর আঁচলে থাকে ঠাসা ভরাট কাজ।
মজার ব্যাপার হলো, বয়নশিল্পের ক্ষেত্রে এমনকি বয়ন শুরুর প্রস্তুতিকালীন কলাকৌশলে আজো সেই অতীত শতকের ধারাই বিদ্যমান। প্রথমে কোড়া অথবা রঙিন সুতাকে ধোয়া হয়, তারপর মাড় দিয়ে নাটাইয়ে পেঁচিয়ে শুকাতে দেয়া হয়। নকশার জন্য ব্যবহার্য সুতা ছোট গুটিতে পেঁচানো হয়। আড়াআড়ি বা ভরনার সুতা তার চেয়ে বড় গুটি (মৌরা) আর টানার সুতা তদপেক্ষা বড় গুটিতে (নলি) পেঁচানো হয়। দৈর্ঘ্যের বা টানার সুতা বাঁশের তৈরি চিরুনির দাঁতের মতো খাঁজকাটা শানার ফাঁক দিয়ে দুজন নারী সুঁইয়ের সাহায্যে গেঁথে তোলেন। এ চিরুনি-সদৃশ চটাকে বলা হয় শানা। বয়ন বা জামদানি বুননের প্রস্তুতিমূলক অধ্যায়ের দক্ষ ভূমিকাটি পালন করেন ‘হাওজাইন্না’; সুতা টানা দেয়া যার মূল কাজ। মাটিতে সমান দূরত্বে পোঁতা ২৬টি নাতিদীর্ঘ বাঁশের কঞ্চি, যা হর বা খুঁটি বলে অভিহিত— এই জোড়া খুঁটিতে দুজন সমান তালে হেঁটে সুতা টানা দেন। টানার বয়নের সুতা ৪০ থেকে ৫০টি গুটিতে (ববিনে) পেঁচানো থাকে, যা কাঠের ফ্রেমে বসানো হয়। টানা সুতা সাজানো সম্পন্ন হলে তাঁতে ফ্রেম বসানোর পর বয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
মূলত কাঠ ও বাঁশের তৈরি জামদানির গর্ত তাঁতটি সরলতার এক বিস্ময়কর নমুনা। এমনকি এ অদ্বিতীয় বস্ত্র তৈরির উপকরণগুলোও তদ্রূপ সরল। মাটির মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে তাতে বাঁশ বা কাঠের খুঁটি গাড়া হয়। কাঠের আড়াআড়ি দণ্ড যা বাইরের নারদ হিসেবে অভিহিত, ভরনার সুতা সাজানো অবস্থায় তাঁতে বসানো হয়। তাঁতিরা সেই সুতা কোলের নারদ বা সামনের দণ্ডের টানার সুতার সঙ্গে সংযুক্ত করেন। একগুচ্ছ রঙিন সুতা থানের দুই পাশের চুরি বা কান্দি হিসেবে পরিচিত বর্গের বা পাড়ের জন্য, সূক্ষ্ম চিরুনিসম শানার মধ্যে গেঁথে ইট বা ভারী কিছু দিয়ে টানটান করা হয়। পাড়ের অংশ টানা ধারাবাহিক নকশায় ফুটে ওঠে, যা মাদলি বলে পরিচিত। নকশার জন্য ৮ বা ৯ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের রঙিন সুতা কাণ্ডুর দিয়ে টানার থানের মধ্যে গাঁথা হয়। প্রতি লাইন বা দাগ সম্পন্ন হলে ভরনার সুতাটি মাকুর সাহায্যে ওস্তাদ তাঁতের অন্য প্রান্তে বসা সাগরেদ বা সহকারীর উদ্দেশে চালান দেন। এরপর ‘দোস্তি’ টেনে ভরনার আর নকশার সুতাটি পূর্ববর্তী বোনা অংশের বা রেখার ওপর নিখুঁতভাবে স্থাপন করা হয়। ওস্তাদ কারিগর গর্তের মধ্যে তলপায় চাপ দিয়ে শানার দুই ঝাঁপ উঁচু-নিচু করেন, ফলে সঙ্গে বাঁধা সুতা শক্ত করে আঁটা হয়। জামদানি তাঁতিদের এই অংক কষে গড়ন, গঠন, নকশা, বিন্যাস ঠিক রেখে এ বয়ন প্রক্রিয়া তাদের বিরল পারদর্শিতারই সাক্ষ্যবহ।
জামদানিতে অতিরিক্ত ভরনার মাধ্যমে সূক্ষ্ম ও ভাসা ভাসা নকশা ফুটে ওঠে। তাঁতিরা নকশার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাপের সুতা ঢুকিয়ে দেন। সাধারণত এক্ষেত্রে অন্যত্র ববিন ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। সেই সুতার অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলা হয় না, বরং নকশার ভেতর খাইয়ে দেয়া হয়। ওস্তাদ-কারিগরের আসল দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায় তার জোড়া মিলিয়ে নকশাকে বয়নের উপরে নয়, বয়নের ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষমতায়।
কারুকাজ করা মসলিন এবং তাঁতজাত নকশাদার জামদানি মোগল শাসনকালে উত্কর্ষের তুঙ্গে পৌঁছায় মোগল শাসনের অবসান স্থানীয় বাজারের সমূহ ক্ষতিসাধন করে। যদিও কিছু সংখ্যক তাঁতি উত্তর প্রদেশে চলে যান এবং সেখানে আওয়াবের নবাবের পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ শুরু করেন। ব্রিটিশরা এ মসলিনের উৎপাদন এবং ব্যাপকভাবে ইউরোপে রফতানির মাধ্যমে অকল্পনীয় ধনসম্পদ আহরণ করে। ১৭৮৭ সালে এ ঢাকাই কাপড়ের আনুমানিক মূল্য ছিল ৫০ লাখ রুপি এবং এ সময়ে এর রফতানি বাণিজ্য ছিল রমরমা। এর অনতিকাল পরেই মসলিন বাণিজ্যে ভাটা পড়ে। ব্রিটেন থেকে আমদানি করা সুতা এবং কাপড় এই অঞ্চলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই মসলিন হারিয়ে যেতে থাকে। একদিকে কোর্ট অব ডিরেক্টরস মসলিনের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে আর নানা নিয়মবিধি আর নিয়ন্ত্রণ জারি করে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে ১৮১৩ সালে দায়েরকৃত ফরমান— মেশিনে বোনা মসলিনের অবাধ প্রবেশ বৈধ করে দেয়। নিজেদের শৌখিন সামগ্রীর বাজার হারিয়ে মসলিন তাঁতিরা জামদানি তৈরিতে ঝুঁকে পড়েন, যার প্রধান গ্রাহক ছিলেন শহরের বিত্তবান শ্রেণী। ১৯৪৭-এ দেশ বিভাগের মাধ্যমে ঘটে আরেক বিপর্যয়। ধনাঢ্য শ্রেণী দেশত্যাগ করলে জামদানির বাজারে মন্দা দেখা দেয়। ভারতের, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় আরো বিপদ নেমে আসে। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এবং তার পরবর্তীকালের অর্থনৈতিক সংকটে। ঘরবাড়ি, তাঁত, সম্পদ হারান তাঁতিরা, কাঁচামালের বর্ষব্যাপী ঘাটতি লেগেই থাকে। ফলে জীবন ধারণের জন্য বহু তাঁতি অন্য পেশা বেছে নেন।
জামদানির পুনরুত্থান ঘটে ১৯৮০ সালে। বাংলাদেশ কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক) ১৯৯৬ সালে সোনারগাঁয় গড়ে তোলে জামদানি পল্লী। জামদানি বয়নশিল্পীদের জন্য কারখানা গড়ার লক্ষ্যে বরাদ্দ করা হয় জমি এবং দেয়া হয় অন্যান্য সুবিধা। পাশাপাশি কিছু শিল্প উদ্যোক্তা এবং কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে বয়নশিল্পীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সহযোগিতার জন্য ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহের সুযোগ, বাজারজাতকরণের সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়। জাদুঘর ও ব্যক্তিগত সংগ্রহের গবেষণা ও নথিভুক্তকরণের ফলে বয়নশিল্পীরা তাদের আদি নকশা ও বিন্যাস সফলতার সঙ্গে পুনরুজ্জীবিত করেন। ১৯৮০ সাল থেকে আড়ং এবং অন্যান্য কারুশিল্প উন্নয়ন সংস্থা জামদানি প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ২০১৬ সালে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় ‘মসলিন উৎসব’ যেখানে প্রথমবারের মতো দীর্ঘ কয়েক দশক পরে প্রদর্শিত হয় খাদি সুতার তৈরি মসলিন জামদানি। এসব প্রদর্শনী এ দেশের বয়নশিল্পীদের ঐতিহ্য এবং বিরল দক্ষতা সম্পর্কে জনমনে বিপুল সাড়া ফেলে। উচ্চমানের শাড়ির প্রতি যেমন এই প্রদর্শনী ক্রেতাদের দৃষ্টি ফিরিয়েছে, তেমনি দৃষ্টি কেড়েছে উন্নত মানের শাড়ির বাজার চাহিদা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১৯৮৮ সালে লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল গ্যালারিতে আয়োজিত ‘উওভেন এয়ার’ বা বোনা বাতাস, ১৯৯৯ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ উৎসব পশ্চিমা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগায়। যার ফলে ইউরোপীয় বাজারে জামদানির, বিশেষ করে থানের প্রবেশ ঘটে।
সাম্প্রতিককালে কিছু ডিজাইনার এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী নকশার আধুনিকায়নের দুঃখজনক এক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আরো দুঃখজনক, সমকালীন বাজার চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে নকশাগুলোকে কাটছাঁট করে যে রূপ দেয়া হচ্ছে, তা থেকে ঐতিহাসিক নকশাগুলো চেনা দায়। যদিও জামদানি নকশা ও বিন্যাস বাজারের তাগিদে কয়েক শতক ধরেই নিজরূপে বিবর্তিত হয়ে চলেছে, তবে কালের আবর্তে এ পরিবর্তন হয়েছে তাঁতিদের দ্বারাই, মূল নকশা ও বিন্যাসের সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখেই। আমার আশা করি আমাদের বর্তমানের এই নকশা সংকলনের প্রকাশনা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বয়নশিল্পের মৌলিকত্ব সংরক্ষণে সফল হবে। আরো আশঙ্কাজনক ঘটনা এই যে— টাঙ্গাইল, ঈশ্বরদী, পাবনা প্রভৃতি অঞ্চলের কিছু বয়নশিল্পী জামদানি নকশার আদলে বোনা শাড়ি অল্প দামি জামদানি শাড়ি হিসেবে বিক্রি শুরু করেছেন। এতে আসল, উন্নত মানসম্পন্ন জামদানি বাজারের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের অপচর্চা রুখতে রাষ্ট্রীয় স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান এবং কারুশিল্প সংস্থাগুলোর কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
আদিকালের সেই অতুলনীয় সুতি আর নেই। বাংলাদেশে আজ আর নেই সেই উন্নত মানের হাতে কাটা সুতা। তবে জামদানি তাঁতিরা পৃথিবীতে অন্যতম শ্রেষ্ঠরূপে পূজনীয়, এতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। যতদিন পর্যন্ত তাঁতিদের সামাজিক স্বীকৃতি আর জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি অব্যাহত থাকবে, ততদিন বাংলাদেশে জামদানির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত থাকবে।
গ্রন্থ বিবরণী
তোফায়েল আহমেদ, আমাদের প্রাচীন শিল্প, বাংলা একাডেমি, ঢাকা ১১৬৪।
এওয়ার্ড (জু) বেইনস, আ হিস্টরি অব কটন ম্যানুফ্যাকচার ইন গ্রেট ব্রিটেন, লন্ডন ১৮৩৫।
এন. এন. ব্যানার্জি, মনোগ্রাফ অব দ্য কটন ফেব্রিক অব দ্য বেঙ্গল, ক্যালকাটা ১৯৯৮।
রুথ বার্নস, স্টিভেন কোহেন, রোজমেরি ক্রিল, ট্রেইড, টেম্পল অ্যান্ড কোর্ট, ইন্ডিয়া ২০০৩।
সুসান বিন, বেঙ্গল গুডস ফর আমেরিকা ইন দ্য নাইনটিন সেঞ্চুরি: টেক্সটাইল ফ্রম ইন্ডিয়া: দ্য গ্লোবাল ট্রেইড, ক্যালকাটা ২০০৬।
এ. কে ভৌমিক, ট্র্যাডিশনাল টেক্সটাইল অব বেঙ্গল, ক্যালকাটা।
জি বার্ডউড, রিপোর্ট অন দ্য ওল্ড রেকর্ডস অব দ্য ইন্ডিয়া অফিস, লন্ডন ১৮৯১।
কালাদেবী চট্টোপাধ্যায়, হ্যান্ডিক্র্যাফটস অব ইন্ডিয়া, দিল্লি ১৯৭৫।
রোজমেরি ক্রিল, ইন্ডিয়ান এমব্রয়ডারি, লন্ডন ১৯৯৯।
চিত্র দেব, কিংবদন্তির মসলিন, ক্যালকাটা ১৯৮২।
কল্যাণ কুমার গাঙ্গুলি, ডিজাইন ইন ট্র্যাডিশনাল আর্ট অব বেঙ্গল, ক্যালকাটা ১৯৬৩। অমিতা ঘোষ, ফিগারড ফেব্রিকস অব বেঙ্গল, মার্গ, ভলিউম ১১১, নম্বর ১, বোম্বে ১৯৪৮।
হামিদা হোসেন, দ্য কোম্পানি উইভারস অব বেঙ্গল, দিল্লি ১৯৮৮।
হামিদা হোসেন, টেক্সটাইল পারচেজেস অব ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উওভেন এয়ার, হোয়াইট চ্যাপেল গ্যালারি, লন্ডন ১৯৮৮।
সাইফুল ইসলাম, মসলিন, আওয়ার স্টোরি, দৃক পিকচার লাইব্রেরি, ঢাকা ২০১৬।
আব্দুল করিম, ঢাকাই মসলিন, বাংলা একাডেমি, ঢাকা ১৯৯৩।
ডি. বি. মিত্র, কটন উইভারস অব বেঙ্গল, ক্যালকাটা ১৯৭৮।
মোহাম্মদ সাইফুল, জামদানি, বাংলা একাডেমি, ঢাকা ১৯৯৩।
এস. পি. সাঙ্গাত, ইন্ডিয়ান মসলিন অব দ্য সেভেনটিন সেঞ্চুরি, পূর্ব, ভলিউম ৪, সংখ্যা ১ এপ্রিল, ক্যালকাটা ১৯৭৩।
জে সি সিনহা, ঢাকা মসলিন ইন্ডাস্ট্রি, দ্য মডার্ন রিভিউ, এপ্রিল ১৯২৩।
জেমস টেইলর, স্কেচ অব দ্য টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস অব ঢাকা, লন্ডন ১৮৪০।
আ ডেসক্রিপটিভ অ্যান্ড হিস্টরিক্যাল অ্যাকাউন্ট অব দ্য কটন ম্যানুফ্যাকচার অব ঢাকা ইন বেঙ্গল, লন্ডন ১৮৫১।
জন স্টেইলর, রিপোর্ট অন দ্য কটন টেক্সটাইল অব ঢাকা, ইন্ডিয়া অফিস রেকর্ডস, লন্ডন ১৮০০।
জন ফোর্বস ওয়াটসন, টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারস অ্যান্ড দ্য কস্টিউমস অব দ্য পিপল অব ইন্ডিয়া, লন্ডন ১৮৬৬।
স্যার জর্জ ওয়াট, ইন্ডিয়া আর্ট অ্যাট দিল্লি, ক্যালকাটা ১৯০৩।
ইফতেখার ইকবাল, প্রটেক্টিং বাংলাদেশ জিওগ্রাফিক্যাল ইন্টারেস্ট— দ্য কেস অব জামদানি, ঢাকা ২০১৪।
* সে সময়ের হিন্দু তাঁতিরা ‘তাঁতি’ আর মুসলমান তাঁতিরা ‘জোলা’ বলে পরিচিত ছিলেন।




