দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে, বিস্তৃত হচ্ছে ডিজিটাল আর্থিক সেবা ও ই-কমার্সের বাজার। কেনাকাটা, অর্থ পরিশোধ, ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক লেনদেনের বড় একটি অংশই এখন ইন্টারনেটনির্ভর। তবে বিশ্ব যখন ইন্টারনেটভিত্তিক অবকাঠামোগত অগ্রগতি উন্নয়নে কাজ করছে সেখানে ইন্টারনেট সেবার মান ও ধীরগতির ইন্টারনেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইন্টারনেটের ঘন ঘন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং গ্রামাঞ্চলে দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ব্যাহত হচ্ছে ডিজিটাল অর্থনীতির কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহক, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্য।

সরকারি হিসাবে পুরো দেশ ফোর-জি ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় এলেও এখনো প্রায় ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেটের বাইরে। তবে গত এক বছরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লেও সেবার মান এখনো নিম্নস্তরে রয়ে গেছে। বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো গিগাবাইট ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ গড়ে তুলছে। আর বাংলাদেশ এখনো ধীরগতির ইন্টারনেটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে বলে তথ্য উঠে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার জরিপে।

বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট গতির র‍্যাংকিং প্রকাশ করে ওকলা স্পিড টেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স। সংস্থাটির সেপ্টেম্বর জরিপে বলা হয়েছে, মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বিশ্বের ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৭তম। অন্যদিকে ব্রডব্যান্ডের ১৪০ দেশের বাংলাদেশ ৯৯তম স্থানে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থা ও ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে ইন্টারনেট সংযোগ ও গতির শক্তিশালী অবকাঠামো নির্ভর। কিন্তু দেশের চলমান দুর্বল ইন্টারনেট ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। বিশেষত বিনিয়োগ, রফতানি, প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক উন্নয়ন অ্যাটলাস ২০২৬: দি আনফিনিশড ডিজিটাল রেভল্যুশন: এক্সপান্ডিং ইন্টারনেট অ্যাকসেস’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ গতির ইন্টারনেট এখন আর শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি দেশের উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। পুরো বাংলাদেশে ইন্টারনেটে সংযোগের আওতায় এলেও এখনো ব্যক্তিগত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা খুবই সীমিত।