ভ্যানিটি ফেয়ার-এর কন্ট্রিবিউটিং এডিটর ও সংগীত লেখক লিসা রবিনসন পপ কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ১৯৭২-৮৯ সালে। এছাড়া লিসা মাইকেলকে তার বাড়ি, কনসার্ট, পার্টি, স্টুডিওতেও অনুসরণ করেছেন। সব মিলিয়ে মাইকেলের জীবন ও ক্যারিয়ারের নানা বাঁক লিসা দেখেছেন। ১৯৭২ সালে তিনি যখন মাইকেলের প্রথম সাক্ষাৎকারটি নেন, তখন ভবিষ্যৎ পপ কিংয়ের বয়স মাত্র ১৪ বছর (মাইকেলের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট)। মাইকেলের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, চিন্তার বিকাশের রূপরেখা পাওয়া যায় লিসার নেয়া সাক্ষাৎকারগুলোয়। নির্বাচিত অংশগুলো ভাষান্তর করেছেন এসএম রশিদ
হাভেনহার্স্ট, এনচিনো, ক্যালিফোর্নিয়া, ৮ অক্টোবর, ১৯৭২
মাইকেল জ্যাকসনের বাড়ির গেটে লিসা একটা নোটিস দেখতে পান— ‘রক্ষী কুকুর হইতে সাবধান।’ নোটিসে কুকুরটিকে যারা প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, তাদের ফোন নাম্বারও দেয়া ছিল। মাইকেল পরে লিসাকে বলেছিলেন, এটা কোম্পানির জন্য ‘বিজ্ঞাপন’! মাইকেলের বাসায় তখন একটি জার্মান শেফার্ড ও একটা ডবারম্যান ছিল। মাইকেল লিসাকে তার পশুপাখি ও নিজের রুম ঘুরিয়ে দেখান। মাইকেলের ঘরে একটা ঘড়ি ছিল, যাতে দুনিয়ার বিভিন্ন শহরের টাইমজোন সেট করা। মাইকেল লিসাকে গাছে চড়ে, নেচে দেখালেন। নানা কৌতুকে তাকে হাসালেন। সব দেখেশুনে লিসা সেদিন তার এক বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘এই ছেলে একদিন দুনিয়ার সেরা এন্টারটেইনার হবে। ফ্রাংক সিনাত্রার মতো।’ লিসা ও মাইকেলের কথোপকথনের কিছু অংশ—
অবসর সময়ে কী করো?
সাঁতার কাটি। পুল খেলি। আমরা বাড়ির বাইরে খুব একটা যাই না। কারণ এখানে সবই আছে। আগে যে বাসায় ছিলাম, সেখানে থেকে বাস্কেটবল খেলতে বাইরের পার্কে যেতাম।
মাইকেল সেদিন প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেয়ে লিসাকেই বেশি প্রশ্নই করেছিলেন। লিসার মেরুন নেল পলিশ, অ্যান্টিক সংগ্রহ, ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন ছিল মাইকেলের আগ্রহের বিষয়। ১৪ বছর বয়সে তো এমনটাই হওয়ার কথা!
স্টেজে কখনো ভয় পেয়েছ?
না। আপনি যদি জানেন যে, মঞ্চে আপনি কী করছেন, তাহলে কখনই ভয় পাবেন না।
মাইকেলের সাক্ষাৎকার, আনুমানিক ১৯৭৪:
তোমার কী করা উচিত, এ বিষয়ে কি অন্যরা পরামর্শ দেয়?
হ্যাঁ। আমি শেখা বন্ধ করতে চাই না। শেখা বন্ধ করে দিলে আপনি মৃত। পরিচিতরা আমাদের কী করা উচিত, সে বিষয়ে বলতেন, আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনতাম। আমরা নিজেদের মতো করেও চিন্তা করতাম। আমরা কোনো অবস্থায়ই পাপেট নই, কোনো অবস্থায়ই নই (হাসি)।
অভিনয়ের কোনো ইচ্ছা আছে? সিনেমায়?
আমার রুটসে কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু সেটার কাজ আমাদের টিভি শোর সময় চলায় আমি আর অভিনয় করতে পারিনি। আমাকে কাজের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল।
ভবিষ্যতে আর কী করার ইচ্ছা আছে?
আমি নিজের ভাবনাগুলো লিখতে চাই। একজন শিল্পী জানেন, কোন কাজ তার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। সব শিল্পীই লিখতে পারেন না। কিন্তু যারা মারভিন গে বা স্টেভি ওন্ডারের মতো লিখতে পারেন, তাদের লেখা উচিত। শুরুতে মানুষ ভাবতে পারেনি যে, স্টিভ নিজেকে কাগজে লিপিবদ্ধ করতে পারবে। সবাই ভেবেছিল, স্টিভ বড় ঝুঁকি নিতে যাচ্ছিল। কিন্তু তারপর তিনি ওই অ্যালবামগুলো উপহার দিলেন, একেবারে ডিনামাইট।
আমার কাছে ব্যালাড বিশেষ গুরুত্ব রাখে। কারণ আপনার একটি পপ গান তিন সপ্তাহেই মানুষ ভুলে যাবে। গানটির ব্যাপারে আর কিছু শুনতে পাবেন না। কিন্তু আপনি যদি একটি ভালো ব্যালাড তৈরি করেন, সেটা আজীবন দুনিয়ায় থাকবে। যেমন— স্টেভি ওন্ডারের ‘লিভিং ফর দ্য সিটি’, এটা একটা অসাধারণ গান। অনেক মানুষ গানটি পছন্দ করেছিল কিন্তু গানটি ‘মাই চেরি অ্যামর’ কিংবা ‘ফর ওয়ান্স ইন মাই লাইফ’ বা ‘ইউ আর দ্য সাইশাইন অব মাই লাইফ’-এর মতো বহুদিন ধরে টিকে থাকেনি।
দি ওয়ারউইক হোটেল, নিউইয়র্ক সিটি, ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
তোমার সর্বশেষ অ্যালবামে (ডান্সিং মেশিন) কি ভিন্ন কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে?
আমি স্বাধীনভাবে গেয়েছি। প্রথমবারের মতো নিজের কাজগুলো নিজেই করেছি।
স্বাধীনভাবে বলতে কী বোঝায়?
যখন আপনাকে কেউ কোনো নির্দেশনা দেবে না।
কোন ধরনের নির্দেশনা?
গানে কোন শব্দটা কীভাবে গাইতে হবে। এই লাইনটা এভাবে গাইতে হবে, এবার স্বর উঁচু করতে হবে, এখানে নামাতে হবে— এমন পরিস্থিতিতে আপনার নিজস্ব কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। এবার আমি নিজেকে নিজের মধ্য থেকে বের করে আনার চেষ্টা করেছি। গ্লাডিজ নাইটকে দেখুন, তিনি স্বাধীনভাবে গাইছেন, দেখুন তিনি কী অসাধারণ গাইছেন। এটাই সেরা উপায়।
তুমি কী পড়তে পছন্দ করো?
সবকিছু— অভিধান, অ্যাডভেঞ্চারের বই। ...পার্টিতে যেতে ভালো লাগে না। তবে সে রকম পার্টি ভালো লাগে যেখানে কথা বলা যায়, যেখানে একটা ফায়ারপ্লেস আর পিয়ানো থাকে।
১৯৭৭ সালে লিসা রবিনসন মাইকেল জ্যাকসনকে তার প্রথম সাক্ষাৎকারের অনেকগুলো প্রশ্নই আবার করেন। উদ্দেশ্য ছিল এ ক’বছরে মাইকেলের চিন্তা কতটা বদলেছে, তার হিসাব নেয়া। এ সাক্ষাৎকারে মাইকেলের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের তালিকাটা পাওয়া যায়।
অবসর সময়ে কী করো?
পড়ি, ভাবি আর গান লিখি।
প্রিয় খেলা?
সাঁতার
বিয়ে করার ইচ্ছা আছে?
আরো পরে।
কেমন মানুষকে বিয়ে করতে চাও?
দয়ালু।
কতজন সন্তান নিতে চাও?
২০ জন। পালিত। সব জাতির।
কেউ তোমাকে ১ মিলিয়ন ডলার দিলে কী করবে?
বিনিয়োগ।
তোমার জীবনের সবচেয়ে বড় রোমাঞ্চ কী?
যা খুঁজি সেটা পেয়ে গেলে।
তোমার ক্যারিয়ারজুড়ে কে বেশি সাহায্য করেছে?
বাবা আর অভিজ্ঞতা।
কোন কাজটি বেশি পছন্দ করো?
শেখা।
মনে কোনো কুসংস্কার আছে?
না। এগুলো মানুষের তৈরি।
প্রিয় অভিনেতা?
হেস্টন, ব্রান্ডো ও ব্রুস ডার্ন।
প্রিয় অভিনেত্রী?
গারল্যান্ড, বেটি ডেভিস।
তোমার কোন ডাকনাম আছে?
নোজ।
দিবাস্বপ্ন দেখো কী নিয়ে?
ভবিষ্যৎ।
কিছুদিন পরেই উপরের সাক্ষাৎকারের বাকি অংশ লিসা ফোনে গ্রহণ করেন। ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭।
গত ১০ বছর ধরেই স্বপ্ন দেখো। গায়ক না হলে জীবনটা কেমন হতো, সেটা নিয়ে কখনো ভেবেছ? সেক্ষেত্রে তুমি কী করতে?
নাহ, জানি না... তবে বিভিন্ন বিষয় শেখার মধ্যে দারুণ আনন্দ আছে। ঠিক এখন আমি অনেকগুলো গান লিখছি। অনেকটা সময় ধরেই গান লিখছি। এখন সেগুলো রেকর্ড করাতে চাই।
তুমি কি কখনো বিরক্ত, অবসন্ন কিংবা বিষণ্ন বোধ করো?
মাঝে মাঝে বিষণ্ন লাগে। আমাকে হোটেল রুমে বসে থাকতে হয়। ভক্তরা কেউ দরজায় টোকা দিচ্ছেন, অনেকে হোটেলের বাইরে অপেক্ষা করছেন। অথচ আমি হোটেল কামরা থেকে বের হতে পারি না। আমি কোথাও যেতে পারি না। তখন আমার খুব বিষণ্ন লাগে। কিন্তু আপনার তো ভক্তদের প্রতি একটা দায় আছে, কারণ আপনি যা, সেটা তারাই তৈরি করেছেন। তারাই আপনার রেকর্ড কিনছেন। তাই যে পারফর্মাররা ভক্তদের অটোগ্রাফ দেন না কিংবা তাদের সঙ্গে মেশেন না, তারা ভুল করেন। কারণ আপনার কনসার্টে যদি শ্রোতারা না আসেন, তাহলে তো কনসার্টই হবে না। তাই শ্রোতাদের প্রতি শিল্পীর ঋণ আছে।
মেয়েদের সঙ্গে ঘুরতে যাও? কারো সঙ্গে ডেট করছ?
না, আমি ডেট করি না। কারো সঙ্গে না। এ বিষয়ে আমি এখন আগ্রহী নই। আমি মেয়েদের পছন্দ করি কিন্তু এ মুহূর্তে আগ্রহী নই।
১৮ বছরের যে কেউ প্রতিদিন মকশো করে না, ট্যুর করে না বা দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করে না। তাদের মেয়ে বন্ধু থাকে, তারা খেলাধুলা করে, বাসায় কাজ করে; তাদের ভিন্ন একটা জীবন আছে। এটা কী তোমাকে বিমর্ষ করে?
না। কারণ আমি যা ভালোবাসি, তাই করছি। এটা যদি কাজ হতো, তাহলে আমি এভাবে করতে পারতাম না। বরং এভাবে কাজ করতে হলে পাগল হয়ে যেতাম।
তোমার কোনো বিশেষ প্রতিভা আছে, এমনটা অনুভব করো কখনো?
হ্যাঁ, প্রতিভা বিষয়টা দুনিয়ায় আছে। এটা সত্য। যেমন— অনেক শিল্পী যেকোনো কিছু আঁকতে পারেন। আবার কেউ একটা স্থির মানুষকেও আঁকতে পারেন না। পার্থক্যটা তো অবশ্যই আছে।
ছুটির দিনে কী করো?
আমি বাসায় থাকতেই পছন্দ করি। কারণ সবসময় তো ভ্রমণের ওপরই থাকি। কাজের সময়ই প্রচুর ভ্রমণ করতে হয়।
তোমার বাসায় এখন কে কে থাকে?
আমি, জ্যানেট, র্যান্ডি আর লা টোয়া।
অন্য ভাইয়েরা?
তারা সবাই বিবাহিত এবং বাইরে থাকে।
১৯৭৮ সালের ৩ আগস্ট নেয়া মাইকেল জ্যাকসনের সাক্ষাৎকার
বাস্তবে কী এখনো ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পছন্দ করো?
যারা আমাকে ভালোবাসেন, আমার রেকর্ড কেনেন, তাদের দেখতে আমার ভালো লাগে। ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ আমি সবসময় উপভোগ করি। এবং আমার মনে হয় এটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে আবার মনে করেন আমাকে জীবন দিয়ে তাদের কাছে ঋণী থাকা উচিত। তাদের অ্যাটিচিউড খারাপ, তাদের কথা হচ্ছে— ‘আমি তোমাকে তারকা বানিয়েছি।’ কথাটা হয়তো সত্য কিন্তু কোনো শ্রোতা তো আর একাই আমাকে তারকা বানাননি। অনেক সময় বাধ্য হয়ে ভক্তদের এটাও বলতে হয়, গানগুলো ভালো না হলে নিশ্চয়ই এ রেকর্ডটা কিনতেন না। এ রকমটা বলতে হয় কারণ অনেকে মনে করেন তিনি আমাকে কিনে নিয়েছেন। অনেকে বলেন, ‘বসো’, ‘একটা অটোগ্রাফ দাও।’ আমি বলি, অবশ্যই দেব। কলম দাও। তখন অনেকে বলে, ‘কলম নেই। তুমি কোথা থেকে একটা নিয়ে এসো।’ সত্যিই আমি এক বিন্দু বাড়িয়ে বলছি না।
নতুন গাড়ি নিয়ে তোমার দিন কেমন কাটছে (মাইকেল তখন সম্প্রতি একটি রোলস রয়েস কিনেছেন)?
এটা আমার সবচেয়ে প্রিয় গাড়ি। আমি গাড়িটা চালাতে পারি। কিন্তু গাড়ির ভেতরে ছবি তুলতে আমার খুব বিরক্ত লাগে। অনেককে দেখবেন নতুন গাড়ি নিয়ে কিছুটা শো-অফ করে। আমি সত্যিই তেমনটা করি না।
১৯৮৪ সালে মাইকেলের সাক্ষাৎকার
তুমি এখন অনেক বড় তারকা। লোকজন তোমাকে হিংসা করে।
আমি জানি। স্টিভেন স্পিলবার্গও এ রকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন। তবে আমি যথেষ্ট শক্ত মানুষ। আমি এসব নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমি যা করি, সেটা আমি ভালোবাসি। আমি পর্বত ঠেলে আরো বড় কিছু করতে চাইছি কারণ আমার কাজ মানুষকে আনন্দ দিচ্ছে।
শুনেছি টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় তোমার অনেক ভক্ত অসন্তুষ্ট।
তুমি জানো যে এটা আমার কাজ না। আমি চাই না টিকিটের দাম বাড়ুক।
দুনিয়ার যে প্রান্তে যা-ই, সেখানেই তোমার গান শুনি...
তুমি কোনো কিছুতে যে রকম বিনিয়োগ করবে, সে রকম ফল আসবে। এটা হচ্ছে সেই প্রমাণ। আমি থ্রিলার অ্যালবামে আমার আত্মা, রক্ত, ঘাম, চোখের পানি— সবই দিয়েছি। শুধু থ্রিলার নয়, ইটিতেও দিয়েছি।
ভাইবোনদের বয়ানে মাইকেল রবিনসন
[মাইকেল জ্যাকসন ছিলেন তার মা-বাবার ১০ সন্তানের মধ্যে অষ্টম। তাদের মধ্যে বড় ভাই মারলোন ও বোন জ্যানেটের সঙ্গেই তার সখ্য বেশি ছিল]
মাইকেল অনেক বছর শুধু ফল আর কাঁচা সবজি খেয়েছে। আর কিছু খেত না। গাজর, লেটুস, টমেটো, শসা, আপেল, পিচ পছন্দ করত। মাইকেলের মা ক্যাথরিন ছিলেন খ্রিস্টানদের এক বিশেষ শাখা জেহোভা’স উইটনেসের অনুসারী। সন্তানদের বয়স ১৮ হওয়া পর্যন্ত তিনি তার উপাসনালয়ে তাদের নিয়ে যেতেন। কিন্তু ১৮ বছর হয়ে যাওয়ার পর ক্যাথরিন তার সন্তানদের ধর্ম বেছে নেয়ার স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। জ্যানেট আমাকে জানিয়েছেন, ১৯৮৬ সালের অক্টোবরে মাইকেলের প্লাস্টিক সার্জারি ছিল শোবিজ জগতের অংশ হিসেবে একটা কাজ। জ্যানেট আরো বলেছিলেন, ‘মাইকেল আমাকে বলে যখন লোকজন তোমার নামে খারাপ কথা বলবে, তখন সেসবে কান দিয়ে সময় নষ্ট করো না। এসব নিয়ে কান্নাকাটি করাটা একেবারেই ভুল। বরং নিজের মনোযোগ, শক্তি সংগীতে ঢেলে দাও, এটা তোমাকে আরো শক্তিশালী করবে।’
বড় ভাই মারলোনের সঙ্গে মাইকেলের খুব ভালো বোঝাপড়া ছিল।
১৯৮৭ সালের অক্টোবরে মারলোন লিসাকে বলেন, ‘মাঝে মাঝে মাইকেলকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন কথা আমাদের কষ্ট দেয়। কিন্তু মূল ব্যাপার হচ্ছে, এসবের মধ্য দিয়ে মাইকেলের নামটা সবসময়ই আলোচিত হচ্ছে। ভালো বা মন্দ যে ধরনের খবরই হোক না কেন মাইকেলকে নিয়ে চর্চা হচ্ছেই। তারা যদি আপনাকে নিয়ে কথা বন্ধ করে দেয়, তাহলে আপনি সমস্যায় পড়বেন। যা খুশি লেখার অধিকার মানুষের আছে। তবে আমার মনে হয় জনগণ সবসময় ন্যায্য কথা লেখে না। কেউ তার জীবনে কী করতে চায়, সে বিষয়ে তার পূর্ণ অধিকার আছে। সাধারণ মানুষ জানে না কেন মাইকেল ‘এলিফ্যান্ট ম্যান’ খ্যাত জোসেফ ম্যারিকের কংকাল (বিরল হাড়ের রোগে যার শারীরিক গঠন বিকৃত হয়ে গিয়েছিল) কিনতে চেয়েছিলেন। মাইকেলের এই ইচ্ছাকে সবাই নেতিবাচকভাবে দেখেছেন। কিন্তু আমার মনে হয় মাইকেল এলিফ্যান্ট ম্যানের খুলিটি কোনো হাসপাতালে রাখতে চেয়েছিলেন যেন চিকিৎসকরা সেটা দেখে স্মরণ করেন, একটি আমেরিকার শিশুর জীবনে এমনটা হয়েছিল, তাই যেন তারা রোগীদের ব্যাপারে আরো যত্নবান হন। আমরা অন্যদের বিচার করার জন্য দুনিয়ায় আসিনি। আমি অনুভব করি আমরা দুনিয়ায় এসেছি অন্যকে ভালোবাসতে, সবার হূদয়ে শান্তি আনতে।’ প্রচলিত আছে শিশু বয়সে মাইকেল বেশ একাকী, বিষণ্ন ছিলেন। অন্যদের সঙ্গে খেলাধুলা, হাসি ঠাট্টা করতেন না। কিন্তু মারলোন এসব কথার ব্যাপারে একমত নন। তিনি জানালেন, অন্য ভাইবোনরা যা করত, মাইকেল সেটাই করত। আমরা সব ভাইবোনেরা একসঙ্গে রিহার্সেল করতাম। এভাবেই সবাই গড়ে উঠেছি।
জ্যানেট জানান, তাদের পরিবার মদ্যপান করত না। শুধু অতিথি এলে ওয়াইন আর শ্যাম্পেন আনা হতো। আর কেউ অসুস্থ হলে ব্র্যান্ডি। তাদের দুটো সাপ ছিল, একটির নাম মাসেল, অন্যটির নাম রিভেঞ্জ। তাদের দুটো কালো রাজহাঁস, একটা লামা, কুকুর, দুটো হরিণ এবং জাব্বার নামের একটা জিরাফ ছিল। মারলোন বিয়ে করে আলাদা বাসা নেয়ার পর মাইকেল আর জ্যানেট সবসময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত। মাইকেল এ সময় ছবি আঁকত। জ্যানেট জানিয়েছিলেন, এসব ছবিতে কখনো মাইকেল ওর নাম স্বাক্ষর করত না।
(২০০১ সালের ১৯ মার্চ মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে লিসা রবিনসনের শেষ সাক্ষাৎ হয়। আর মাইকেল দুনিয়াকে বিদায় জানান ২০০৯ সালের ২৫ জুন।)




