প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান জাপান সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া দুটি প্রকল্পে প্রায় ২৯ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।
স্বাক্ষরিত দলিলগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, কৃষি, কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের বিভিন্ন অর্জনের বিষয়ে উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন এ তথ্য জানান।
এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে জাপানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আগ্রহের কথা গতকাল এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এটি সম্ভাব্য বিনিয়োগ আগ্রহের হিসাব, চূড়ান্ত বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি নয়।
গতকাল স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা জোরদার করতে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য সর্বোচ্চ ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলারের অনুদান রয়েছে। এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সহযোগিতা জোরদার করতে জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট-এলওআই) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নবিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১০ কোটি ৮ লাখ ডলার) ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। এছাড়া উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন (১৯ কোটি ৪৭ লাখ ডলার) ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। দুটি প্রকল্পে ঋণের মোট পরিমাণ ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, যা প্রায় ২৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের সমান।
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে চারদিনের সফরে টোকিও রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের তৃতীয় দিনে গতকাল বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। এদিন জাপান সরকারের প্রতিনিধি ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি।
সফরের অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যায় টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) সদর দপ্তরে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জেট্রো ও জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
ফোরামে জাপানি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে উৎপাদন শিল্প, অটোমোবাইল, জ্বালানি, প্রযুক্তি, মহাকাশ, রেল ও সরবরাহ ব্যবস্থা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৮ কোটির বেশি মানুষের বাজার, তরুণ কর্মশক্তি এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণী জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।’
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে জাপানি অটোমোবাইল উৎপাদক, বড় খুচরা বিক্রেতা ও কৃষি যন্ত্র নির্মাতাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।’ বিনিয়োগকারীদের নির্ভরযোগ্য জ্বালানি, কার্যকর অবকাঠামো, পূর্বানুমানযোগ্য শুল্কায়ন ও কর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সরকার উপলব্ধি করছে এবং এসব বিষয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণে অংশ নিতে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জ্বালানি অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেন।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) আওতায় ৭ হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশী পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে ফোরামে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। অন্যদিকে জাপানের ইস্পাত, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদান বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা পাবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চুক্তিটির বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।
গতকাল সকালে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এতে জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে জেবিআইসির কার্যালয় স্থাপনের অনুরোধ জানানো হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার কথা জানান গভর্নর।
এছাড়া ফাস্ট রিটেইলিং ও ইউনিক্লোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাদাশি ইয়ানাইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এতে কৃত্রিম তন্তু, কারিগরি বস্ত্র, টেকসই পোশাক উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হয়। বিনিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানকে জমি ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
জেট্রোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। এতে বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ সরজমিনে দেখতে জেট্রো প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিওসেইয়ের সঙ্গেও বৈঠক করেন তারেক রহমান। বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে দেশটিতে জাপানি বিনিয়োগ আরো বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানান জাপানের মন্ত্রী।
সফরকালে দুই দেশের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক, দুটি অনুদান চুক্তি ও একটি অভিপ্রায়পত্র সই হওয়ার কথা ব্রিফিংয়ে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সমঝোতার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, কৃষি ও বন খাতে সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় দুই দেশের পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে অভিপ্রায়পত্রও সই হয়েছে।
সরকারি পর্যায়ের চুক্তি ও সমঝোতার পাশাপাশি জেট্রোর আয়োজনে বেসরকারি খাতের পর্যায়ে আরো ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন খাতে জাপানি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।
গতকাল সন্ধ্যায় টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশীই এর সুফল পাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের জন্য ভালো কিছু করা। আমরা দেশে থাকি কিংবা বিদেশে থাকি, যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের কোনো কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো হলে তা করার চেষ্টা করতে হবে।’
সভায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। জবাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
স্কুলে জাপানিসহ তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
জাপানে বাংলাদেশী কর্মীদের ভাষাগত দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা জরুরি। কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, জাপানি ভাষা শিক্ষা এবং দেশটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে।’ এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীদের দেশে কাজে লাগানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আগ্রহী হতে হবে। জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘জাপানি ভাষায় দক্ষ প্রবাসীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় অথবা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য উদ্যোগ নেয়ার পথ খুঁজে দেখা যেতে পারে।’
জাপান বিএনপির সভাপতি মীর রেজাউল করিম রেজার সভাপতিত্বে সভায় দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসে।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী পাঁচ বছরে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশে ১ লাখ কোটি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগ এবং প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশার কথা জানান তাকাইচি। এ লক্ষ্যে নিকট ভবিষ্যতে জাপানের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানোর আগ্রহও জানান তিনি।
২৬ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে টোকিও পৌঁছান তারেক রহমান। প্রথম দিন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। একই দিন মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের সভাপতি মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। আলোচনায় বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং ইপিএ বাস্তবায়নের বিষয় উঠে আসে।
প্রথম দিনে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক ও নৈশভোজের কর্মসূচি ছিল।
সফরের চতুর্থ দিন আজ টয়োটার মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও টয়োটা জাদুঘর পরিদর্শনেরও সূচি রয়েছে। এরপর সন্ধ্যায় টোকিও থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা তার।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসাবে আছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ ১৬ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, হুমায়ুন কবির, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও রেহান আসিফ আসাদসহ অন্যরা।










