সাহিত্যমাধ্যম হিসেবে বাংলা ছোটগল্পের সাফল্য বিস্ময়কর। এ ভাষায় লেখা হয়েছে অসংখ্য শিল্পসফল ছোটগল্প। এর কোনো কোনোটি আমাদের স্মৃতিতে হানা দেয় প্রতিদিন, কখনো তাত্ক্ষণিকভাবে উঁকি দিয়ে যায় কোনো কাহিনী, কোনোটি দিনযাপনের ভাষ্যকার। তেমন কিছু ছোটগল্প নিয়ে এ ধারাবাহিক—
ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণের পাঠকপ্রিয়তার কাছে আজ খানিক ম্লান ছোটগল্প লেখক বিভূতিভূষণ
বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টা কোনো হুজুগ নয়, উপন্যাসের পাঠক সবসময়ই বেশি। এই একই হিসাব তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও; আবার উল্টোটা রবীন্দ্রনাথের ক্ষেত্রে, তাঁর উপন্যাসের চেয়ে গল্প অনেক বেশি জনপ্রিয়। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে অবস্থা একেবারে ভিন্ন। তাঁর ছোটগল্প আর উপন্যাস দুটোই সমান পঠিত। এঁদের পরবর্তীকালের লেখকদের ভেতরও একই ঘটনা ঘটেছে। তবে গল্প আর উপন্যাস দুটোই প্রায় সমান পঠিত এমন লেখক বাংলা সাহিত্যে আসলেই কম। কারণটি অজ্ঞাত। যে লেখকের উপন্যাস তুমুল জনপ্রিয়, অসাধারণ ছোটগল্প লেখক হওয়ার পরও তাঁর গল্প পঠিত হয় কম, এমন ঘটনা বাংলা সাহিত্যে অনেক।
বিভূতিভূষণের অসাধারণত্ব অন্য জায়গায়, অন্তত তাঁর ছোটগল্পে। উপন্যাসের প্রসঙ্গ এখানে আসছে না। রবীন্দ্রনাথের হাতে ছোটগল্পের প্রায় নির্দিষ্ট একটি আদল পাওয়ার পরও তিনি রাবীন্দ্রিক-ছোটগল্পের স্থিরীকৃত কাঠামো মানেননি। শুরু থেকেই অসংখ্য ছোটগল্প রচনা করেছেন অনেকটাই আলগোছে, কাহিনী কিংবা ঘটনার কোনো প্রকার ঘনঘটা আর চমকহীনভাবে। ‘বাটি চচ্চড়ি’, ‘আহ্বান’, ‘লেখক’, ‘আইনস্টাইন ও ইন্দুবালা’র মতো গল্পগুলো যে ‘পথের পাঁচালী’ কিংবা ‘আরণ্যকে’র লেখকের লেখা তা একমাত্র হঠাত্ প্রকৃতি বর্ণনা ছাড়া আর কোথাও যেন ধরা পড়ে না। ছোটগল্পের কাঠামোয় যে বর্ণনার সংক্ষিপ্ততা তা মানেননি, আবার সেখানে কাহিনী গদ্য কোনোভাবে ঔপন্যাসিক কলমের মতো খানিকটা আলগাও নয়। যেন যথেচ্ছা সুতো ছাড়ার অসাধারণ কৌশল জেনে লাটাই হাতে মোক্ষম ঘুড়িবাজ। পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা বর্ণনা, গল্পের কেন্দ্রবিন্দু বলে একটি জায়গা সমালোচকরা বের করেছেন, তেমন বিন্দুটিন্দুর ধার ধারেন না বিভূতিভূষণ, এমনকি আদৌ একটি ছোটগল্প পদবাচ্য কথাসাহিত্যের একটি শিল্পমাধ্যম হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করা যায় কিনা, তেমন কোনো চিন্তা নেই। যেন, শোনো পাঠক, এই যে মানুষজন এদের এমন একটি কাহিনী আমার জানা আছে, সেটিই তোমাকে এভাবে জানানোর জন্য কলম খুলেছি, আমার ‘আলানো’ ‘শিল্পকুশলতাহীন’ গদ্যে তা তোমাকে পড়িয়ে নেব।
এখানে বিভূতিভূষণের দেখার ও বর্ণনার চোখের সরলতার ভেতরে আসল মুন্সিয়ানা। বাংলা কথাসাহিত্যে এজন্য বিভূতিভূষণের কোনো দোসর নেই, এমনকি নেই কোনো অনুসারীও। চাইলেই অমন গদ্য লেখা যায় না। দেখার চোখের অমন ক্ষমতাসম্পন্ন তলানিতে চোখ তো সবার থাকার কথা না, আমার সেই দেখাকে কোনো প্রকার আয়োজনের মোড়ক না-পরিয়ে গল্প হিসেবে শেষ পর্যন্ত একইভাবে শিখে ফেলা চাইলেই সম্ভব নয়। চাইলে সেই গল্পের কাহিনী এক কি দুই কি তিনটি বাক্যে বলেও ফেলা যায়।
যেমন, পুঁইমাচার কাহিনীটুকু এখানে তো একটি দুটি বাক্যে বলে ফেলা সম্ভব। সহায়হরি চাটুজ্যের বড় মেয়ে ক্ষেন্তি খেতে খুব পছন্দ করত। বিয়ের পরে স্বামীর বাড়িতে বিনা চিকিত্সায় মেয়েটি মারা গেছে। আজ পরের পৌষসংক্রান্তিতে সহায়হরির স্ত্রী অন্য মেয়েদের নিয়ে পিঠে খেতে বসে তাদের চোখ পড়েছে ক্ষেন্তির লাগানো পুঁইগাছটিতে। পুঁইগাছটা এখন ‘সুপুষ্ট নধর প্রবর্ধমান জীবনের লাবণ্যে ভরপুর।’ যদিও এ শুধু কাহিনীমাত্র। গোটা গল্প যেভাবে বর্ণনা করেছেন বিভূতিভূষণ, তা এভাবে কাহিনী লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। তবে গল্পের কাহিনী হিসেবে একেবারেই ‘চমক’হীন এ গল্প একবার পড়লে তা চিরদিনের সঞ্চয়। সেখানেই বিভূতিভূষণের অমর কলমের আসল বিভূতি!
হ্যাঁ, সহায়হরি চাটুজ্যে ও তার খাই খাই মেয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। গল্পের শুরুতেই তার স্ত্রীকে বলছেন, বড় ঘটি বা কিছু একটা দেয়ার জন্য তারক খুড়ো বলে একজন গাছ কেটেছে, একটু রস আনবেন।
কিন্তু অন্নপূর্ণা দেবেন না। বিভূতিভূষণের বর্ণনায় অন্নপূর্ণা একটু যেন খিটখিটে স্বভাবের। আসলে বাস্তববাদী। সে জ্ঞানটা সহায়হরির একেবারেই নেই বলতে গেলে। কারণ, ক্ষেন্তি নামের তাদের বড় মেয়েটির আশীর্বাদ হয়ে গেছে, কিন্তু এখনো বিয়ে দেয়ার নাম নেই। এখন একঘরে হতে বাকি।
অন্নপূর্ণা ঘরের বউ হয়েও সহায়হরিকে সাবধান করেন, ‘একঘরে করবে গো তোমাকে একঘরে করবে, কাল চৌধুরীদের চণ্ডীমণ্ডপে এসব কথা হয়েছে। আশীর্বাদ হয়ে মেয়ের বিয়ে হলো না— ও নাকি উচ্ছুগ্গু করা মেয়ে— গায়ের কোনো কাজে তোমাকে আর কেউ যেতে বলবে না— যাও, ভালোই হয়েছে তোমার। এখন গিয়ে দুলে-বাড়ী, বাগ্দী-বাড়ী উঠে বসে দিন কাটাও।’
এ কথায় সহায়হরির বলার কিছু নেই। একঘরে যেন সে হয়েই আছে। এখন শুধু ক্ষেন্তির বিয়ের সম্বন্ধ এনেছে যে কালীময় ঠাকুর, সেই একঘরে করলে হয়। সহায়হরির কথায় অন্নপূর্ণা তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। আর তাতেই সহায়হরি আর ক্ষেন্তি সম্পর্কে বিশেষ অবগতও হওয়া গেল। একই সঙ্গে অন্নপূর্ণার ক্ষেন্তিকে নিয়ে কষ্টের জায়গাটাও, ‘কেন, তোমাকে একঘরে করতে বেশী কিছু লাগে নাকি? তুমি কি সমাজের মাথা না একজন মাতব্বর লোক? চাল নেই, চুলো নেই, এক কড়ার মুরোদ নেই, চৌধুরীরা তোমায় একঘরে করবে তা আর এমন কঠিন কথা কি?— আর সত্যিই তো এদিকে ধাড়ী মেয়ে হয়ে উঠল। ...হঠাত্ স্বর নামিয়ে বলিলেন— হল যে পনেরো বছরের, বাইরে কমিয়ে ব’লে বেড়ালে কী হবে, লোকের চোখ নেই? পুনরায় গলা উঠাইয়া বলিলেন— না বিয়ে দেবার গা, না কিছু। আমি কি যাব পাত্তর ঠিক করতে?—’
যদিও অন্নপূর্ণা যতই বলুক, সহায়হরির তাতে কিছু যেন আসে যায় না। রস আনতে যান, কিন্তু তখনই হাতভর্তি হলদেটে হয়ে আসা পুঁইডাটা ক্ষেন্তি আর তার বোন হাজির। এখানে বিভূতিভূষণ ক্ষেন্তির বর্ণনা দেন:
বড় মেয়েটির মুখ লম্বা, গোলগাল চেহারা, মাথার চুলগুলো রুক্ষ ও অগোছালো— বাতাসে উড়িতেছে, মুখখানা খুব বড়, চোখ দু’টা ডাগর ও শান্ত। সরু সরু কাচের চুড়িগুলা দু’পয়সা ডজনের একটি সেপটিপিন দিয়া একত্রে করিয়া আটকান। পিনটির বয়স খুঁজিতে যাইলে প্রাগৈতিহাসিক যুগে গিয়া পড়িতে হয়। এই বড় মেয়েটির নামই বোধ হয় ক্ষেন্তি, কারণ সে তাড়াতাড়ি পিছন ফিরিয়া তাহার পশ্চাদ্বর্তিনীর হাত হইতে পুঁই পাতা জড়ানো দ্রব্যটি মেলিয়া ধরিয়া বলিল— চিংড়ি মাছ, বাবা। গয়া বুড়ীর কাছ থেকে রাস্তায় নিলাম, দিতে চায় না, বলে— তোমার বাবার কাছে আর— দিনকার দরুন দু’টো পয়সা বাকী আছে, আমি বলিলাম— দাও গয়া পিসী, আমার বাবা কি তোমার পয়সা নিয়ে পালিয়ে যাবে— আর এই পুঁই শাকগুলো ঘাটের ধারে রায় কাকা— বললে, নিয়ে যা... কেমন মোটা মোটা...
কিন্তু অন্নপূর্ণা ওই শাক নিয়ে মেয়েদের বাড়ি ঢুকতে দিলেন না। সেজো মেয়ে রাধী, যে ছিল ক্ষেন্তির সঙ্গে, তাকে ফেলে দিয়ে আসতে বললেন। যদিও পরে রান্না করার সময়ে মনে পড়ল, ‘গত অরন্ধনের পূর্ব দিন বাড়িতে পুঁইশাক রান্নার সময় ক্ষেন্তি আবদার করিয়া বলিয়াছিল— মা অর্ধেকগুলো কিন্তু একা আমার অর্ধেক সব মিলে তোমাদের?’— ফলে, অন্নপূর্ণা পুঁইশাকের চচ্চড়ি রান্না করলেন। দুপুরে ক্ষেন্তির পাতে তা পড়তেই সে বিস্মিত।
পাঠক হিসেবে এতক্ষণে আমাদের জানা হলো, ক্ষেন্তি নামের এই মেয়েটি খেতে খুব পছন্দ করে। কিন্তু সংকটটা তো অন্য জায়গায়। ক্ষেন্তির আশীর্বাদ হয়ে গেছে। এমন মেয়ের পাড়াময় ঘুরে বেড়ানোও ঠিক নয়। সমাজ আছে। সেই কালীময় ঠাকুরের চণ্ডীমণ্ডপে সহায়হরির ডাক পড়ে। বলা হয়, ‘ও তো এক রকম উচ্ছুগ্গু করা মেয়ে? আশীর্বাদ হওয়াও যা, বিয়ে হওয়াও তা সাত পাকের, যা বাকী এই তো? সমাজে ব’সে এসব কাজগুলো তুমি যে করবে আর আমরা ব’সে ব’সে দেখব ও তুমি মনে ভেব না। সমাজের বামুনদের যদি জাত মারবার ইচ্ছে না থাকে, মেয়ের বিয়ের বন্দোবস্ত ক’রে ফেল।’
এ কথাগুলো যিনি বলেছেন, সেই কালীময় ঠাকুর জনৈক শ্রীমন্ত মজুমদারের ছেলের সঙ্গে ক্ষেন্তির বিয়ে ঠিক করেছেন। সেখানে বাড়ি থেকে আশীর্বাদও করা হয়ে গেছে। কিন্তু ওই ছেলেটি কয়েক মাস আগে কিছু একটা করতে গিয়ে বেদম মার খেয়েছে। সহায়হরি সেখানে মেয়ের বিয়ে দেবেন না। যদিও কালীময়ের স্বার্থ এখানে ভিন্ন। তিনি ওই শ্রীমন্ত মজুমদারের কাছে অনেক টাকা ঋণী।
এমনিতে প্রকৃতি আর মানুষ ইত্যাদির মুখে ঝাল খেয়ে যে বিভূতিভূষণ চিহ্নিত, তিনি সামাজিক সম্পর্কের, সামাজিক সংস্কারের ভেতরের যেসব সংকটগুলোকে, সম্পর্কের বিভিন্ন সূত্র ও মাত্রাগুলোকে এমনভাবে নাড়িয়ে যান, কখনো কখনো তা যেন চোখেই পড়ে না। অথচ গল্পের অথবা গল্পের ভেতরকার কাহিনীতে তা এমনভাবে লুকানো থাকে, ঢুকানো থাকে, কোনোভাবে তা আলাদা করা যায় না।
এদিকে ক্ষেন্তি আর তার বাবা সহায়হরি তাদের কাজ চালিয়ে যায়। গল্পে তা সরাসরি এভাবে লেখেন বিভূতিভূষণ, কোনো প্রকার বর্ণনার আশ্রয় না নিয়ে। দুদিন পরের কথা। অর্থাত্ দুদিন পর সহায়হরি ক্ষেন্তিকে নিয়ে বরজপোতার জঙ্গলে যান। সেখান থেকে পরের ষোলো সের ওজনের একটা প্রকাণ্ড মেটে আলু নিয়ে ফেরেন। ফিরে এসে তা নিয়ে মিথ্যে কথাও বলেন সহায়হরি। কিন্তু একটু আগে অন্নপূর্ণা ওই পথে মুখজ্যে বাড়ি গিয়েছেন। সেখানে জঙ্গলের ভেতরে শাবল চালানোর শব্দ শোনা গিয়েছিল। সহায়হরি এ নিয়ে মিথ্যে বললে অন্নপূর্ণা বলেন, ‘তোমার তো ইহকালও নেই, পরকালও নেই, চুরি করতে, ডাকাতি করতে যা ইচ্ছে কর; কিন্তু মেয়েটাকে আবার এর মধ্যে নিয়ে গিয়ে ওর মাথা খাওয়া কীসের জন্যে? কিন্তু ক্ষেন্তি স্বীকার করে, যে সে আর তার বাপ ওই মেটে আলু তুলে এনেছে।’
তাহলে যেমন সহায়হরি, তেমনি ক্ষেন্তি; বাপ আর মেয়ে দরিদ্র সংসারে জিহ্বায় লাগাম দেয় না। হয়তো গল্পে এই মেটে আলুর প্রসঙ্গটি বিভূতিভূষণ বাপ-মেয়ের স্বভাব বোঝাতে লিখেছেন। নইলে ওই আড়াই পৃষ্ঠা না থাকলেও চলত। বরং দিন তিনেক পরে, বর্ষা কি শরত্ চলে যাওয়ার পরে ক্ষেন্তি একটা পুঁইগাছ লাগায় উঠোনের এক কোণে। এই সময়ে তা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবু অন্নপূর্ণা মেয়েকে বলেছেন, রাতে শিশির পড়ে; হতেও পারে এই পুঁইগাছ।
এর পর বৈশাখে এক দোজবরের সঙ্গে ক্ষেন্তির বিয়ে। পাত্রের বয়েস ‘চল্লিশের খুব বেশী কোনোমতেই হইবে না।’ এমন জামাইয়ের সামনে আসতে অন্নপূর্ণার সংকোচ। আর ফাল্গুন-চৈত্রে বিকালে মাচায় দেয়া আমসত্ত্ব তুলতে তুলতে অন্নপূর্ণার মনে হয়, ‘তাঁর অনাচারী লোভী মেয়েটি আজ বাড়ীতে নাই যে, কোথা হইতে বেড়াইয়া আসিয়া লজ্জাহীনার মতন হাতখানি পাতিয়া মিনতির সুরে অমনি বলিবে— মা বল্ব একটা কথা, ঐ কোনাটা ছিঁড়ে একটুখানি?—’
আরো এক বছর পরের ঘটনা। এখন জনৈক বিষ্ণু সরকারকে সহায়হরি জানাচ্ছেন কীভাবে মারা গেছে তার ক্ষেন্তি। মাঝখানে একবার দেখতে গিয়েছিলেন, মেয়ের অবস্থা সঙ্গিন। এর পর ফাল্গুনে বসন্ত হয়ে মরেছে ক্ষেন্তি। শ্বশুরবাড়ির লোকজন গা থেকে গহনা পর্যন্ত খুলে রেখেছে ওই অসুখে।
এর পর আবার পৌষসংক্রান্তি। আজ অন্নপূর্ণাকে ঘিরে পুঁটি আর রাধি। পিঠে খেতে খেতে পুঁটি অন্যমনস্কভাবে বলল,— দিদি বড় ভালবাসত...
এই জায়গায় বিভূতিভূষণ একটি দীর্ঘ বাক্যে ক্ষেন্তিহীন ক্ষেন্তিকে ফিরিয়ে আনেন। আর এই গল্পের পাঠক হিসেবে আমাদের নির্বাক হওয়ার দশা। মৃত্যুর পরও জীবনের আয়োজন:
... তাহার পর তাহাদের তিনজনেরই দৃষ্টি কেমন করিয়া আপনা-আপনি উঠানের এক কোণে আবদ্ধ হইয়া পড়িল— যেখানে বাড়ীর সেই লোভী মেয়েটির স্মৃতি পাতায় পাতায়, শিরায় শিরায় জড়াইয়া তাহার কত সাধের নিজের হাতে পোঁতা পুঁইগাছটি মাচা জুড়িয়া বাড়িয়া উঠিয়াছে ... বর্ষার জল ও কার্তিক মাসের শিশির লইয়া কচি-কচি সবুজ ডগাগুলি মাচাতে সব ধরে নাই, মাচা হইতে বাহির হইয়া দুলিতেছে ... সুস্পষ্ট নধর প্রবর্ধমান জীবনের লাবণ্যে ভরপুর!
বারবার পড়েও যেন এ গল্পের পড়া হয় না। আর একবার পড়ে কোনোভাবে ভোলা যায় না। কোথায় বিভূতিভূষণের অসাধারণ বর্ণনার মাহাত্ম্য, তাও অনির্ণেয় থেকে যায়!




