ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের শুরুটা সম্পর্কে জানতে চাই।
ইসলামী ব্যাংক যে বছর প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৮৩ সালে, সে বছরই ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন ‘সাদাকা তহবিল’ নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে এটি ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে।
ইসলামী ব্যাংক একটি কল্যাণধর্মী ব্যাংক। ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কল্যাণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ইসলামী ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ছিল মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এর স্লোগান ছিল ‘আর্তমানবতার সেবা এবং সমাজ উন্নয়নে নিবেদিত।’
মানবতার কল্যাণ বলতে মানুষের মৌলিক অধিকার বা চাহিদার বিষয়গুলোকে বোঝানো হয়। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা এসব ক্ষেত্রেই ব্যাংক ও ফাউন্ডেশন মিলে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের মধ্যে স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাত ও কল্যাণমূলক অন্যান্য খাত রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে আমাদের স্লোগান হচ্ছে ‘স্বাস্থ্যসেবায় যত্নের ছোঁয়া’। আমরা স্বাস্থ্যসেবায় যত্ন নিশ্চিত করতে চাই, উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে চাই এবং গ্রাহকসেবাকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।
সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে আপনাদের কী ধরনের উদ্যোগ রয়েছে?
স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের আওতায় নিয়ে আসা, সহজলভ্য করা এবং কম খরচে সেবা দেয়ার বিষয়গুলোর দিকে আমরা দৃষ্টি দেয়ার চেষ্টা করেছি। দেশে আমাদের ২০টি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাব রয়েছে। ১৯টি হাসপাতাল ও একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাব নিয়ে আমরা ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে কাজ করছি। ঢাকায় আমাদের পাঁচটি হাসপাতাল আছে। ঢাকার বাইরে আরো পাঁচটি হাসপাতাল আছে। আমাদের আটটি কমিউনিটি হাসপাতাল আছে। সব মিলিয়ে ১৯টি হাসপাতাল এবং একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাব, যেটিকে আমরা সেন্ট্রাল ল্যাব বলি।
এর বাইরে আমাদের মেডিকেল কলেজ, নার্সিং কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট আছে। স্বাস্থ্য খাতকে পরিপূরক করার জন্য এগুলো আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। এখানে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করেন। এ বছর বিশেষ করে ‘উৎকর্ষের পথে নব অভিযাত্রা’—এ স্লোগান নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি, যাতে আমাদের সার্ভিস লেভেলে, অর্থাৎ সেবার ক্ষেত্রে আরো উন্নতি সাধন করতে পারি।
বিশ্ব হার্ট দিবসকে কেন্দ্র করে আপনাদের কার্ডিয়াক সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাই।
বিশেষ করে বিশ্ব হার্ট দিবস বা হৃৎপিণ্ড দিবসকে কেন্দ্র করে আমরা বলতে পারি, আমাদের একটি হার্ট বা কার্ডিয়াক সেন্টার রয়েছে। আমরা এটি ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠা করেছি। হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা এবং হৃৎপিণ্ডের রোগ নিয়ে যেসব রোগী আমাদের কাছে আসেন, তাদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য এবং তাদের আওতার মধ্যে রেখে কীভাবে চিকিৎসা দেয়া যায়, সেই বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করছি। এখানে আমাদের উন্নত মানের সার্জন আছেন। অভিজ্ঞ সার্জন আছেন, কনসালট্যান্ট আছেন এবং আমাদের স্টেট-অব-দ্য-আর্ট প্রযুক্তি বা যেসব মেশিনারি আছে, সেগুলো আমরা সমাবেশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছি।
এখন আমাদের এখানে প্রায় ১০০-এর বেশি সিট ক্যাপাসিটি আছে। হার্ট-সম্পর্কিত যত ইস্যু আছে, সেগুলোকে আমরা ওয়ান আমব্রেলার আন্ডারে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। ২০২৭ সাল নাগাদ শুধু হার্টের জন্যই আমরা ২৫০ বেডে পৌঁছতে চাই।
ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশনের অর্থায়ন কীভাবে হয়? ইসলামী ব্যাংক কি সরাসরি এক্ষেত্রে অর্থ দেয়?
না, ইসলামী ব্যাংক থেকে সরাসরি আসে না। ফাউন্ডেশনের যে আয়, সেখান থেকেই আমরা এটাকে বিনিয়োগ করার চেষ্টা করছি। প্রতি বছর আমাদের হাসপাতালগুলো থেকে যে আয় হয়, সেখান থেকে যে সাশ্রয় থাকে, সেগুলোই আমরা নতুন ডেভেলপমেন্টের কাজে নিয়োজিত করছি।
ভবিষ্যতে আপনারা কার্ডিয়াক সেন্টারকে কোথায় দেখতে চান? আধুনিকায়ন থেকে শুরু করে নিজস্ব জায়গায় যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
দেশের ভেতরে আমরা যেমন আমাদের সেন্ট্রাল ল্যাবের ক্ষেত্রে বলছি, যেকোনো পরীক্ষা আমরা দেশের ভেতরেই করাতে চাই। দেশের বাইরে পরীক্ষার জন্য যেতে হবে না। এক্ষেত্রে আমাদের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। তেমনিভাবে কার্ডিয়াকের ক্ষেত্রেও আমাদের একই কথা দেশের চিকিৎসা আমরা দেশের ভেতরেই করতে চাই এবং আন্তর্জাতিক মানে করতে চাই। এটি আমাদের লক্ষ্য। যাতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের যারা আছেন, তারা যেন এ চিকিৎসা আমাদের কাছ থেকে নিতে পারেন এবং উন্নতমানের চিকিৎসা নিতে পারেন এটাই আমাদের লক্ষ্য।










