বিশ্ব হার্ট দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য ‘ডোন্ট মিস আ বিট’। এবারের প্রতিপাদ্যের মূল বার্তা হলো—হৃদরোগের কোনো লক্ষণ বা সতর্কসংকেতকে অবহেলা না করা এবং হৃদস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। হৃদরোগ শুধু একজন ব্যক্তির শারীরিক সুস্থতাকেই প্রভাবিত করে না; এর প্রভাব পরিবার, কর্মজীবন ও সামগ্রিক সমাজের ওপরও পড়ে। তাই হৃদরোগ প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, মাথা ঘোরা কিংবা হৃদরোগের অন্য কোনো সতর্কসংকেত দেখা দিলে তা কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও তামাক সেবনের মতো ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদরোগের চিকিৎসাসেবা মানুষের আরো কাছে পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে হৃদরোগে আক্রান্ত জটিল রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরো বিস্তৃত হবে।
বিশ্ব হার্ট দিবসে আমাদের প্রত্যয় হোক—হৃদরোগের কোনো সতর্কসংকেতকে অবহেলা নয়, সচেতনতা ও সময়মতো পদক্ষেপই হোক সুরক্ষার প্রথম ধাপ। নিজের এবং প্রিয়জনদের হৃৎস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমরা সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি।
হৃদরোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা আরো সহজলভ্য, আধুনিক ও জনবান্ধব করতে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। সম্মিলিত সচেতনতা, প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ এবং সময়োপযোগী চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ, সচেতন ও হৃদবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।










