বিশ্ব হার্ট দিবস আমাদের হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে নতুন করে গুরুত্ব দেয়ার সুযোগ তৈরি করে। হৃদরোগসহ অসংক্রামক রোগ মোকাবেলায় আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে প্রতিরোধকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। রোগ হওয়ার পর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেয়ার পরিবর্তে রোগের ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি। তাই নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও ওজন পরীক্ষা করার সুযোগ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মানুষ যেন কাছাকাছি স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই এসব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে পারে, সে ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
হৃদরোগের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হার্ট অ্যাটাকের মতো জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছার আগের সময়টিও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দেশে প্রাক-হাসপাতাল জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনো সীমিত। প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক, উপযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স ও দ্রুত রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশ্ব হার্ট দিবসে আমাদের প্রত্যাশা প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসার সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত হৃদরোগসেবা নিশ্চিত করা।










