বাংলাদেশে হৃদরোগের রোগী বাড়ার প্রধান কারণগুলো কী বলে মনে করেন?
বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ লোকই ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত। এর প্রধান কারণ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল ও স্মোকিং। এগুলো হচ্ছে প্রধান কারণ। এছাড়া আরো কিছু কারণ আছে। ল্যাক অব ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি এবং আনহেলদি ডায়েট, অ্যালকোহল কনজামশন, ফ্যামিলি হিস্ট্রি অব হাইপারটেনশন ও ডায়াবেটিস—যাদের এগুলো আছে তাদের মধ্যে প্রবণতাটা বেশি। কারণ অনেক সময় ফ্যামিলিতে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ডিজিজের প্রবণতার জন্যও এটা হয়ে থাকে।
হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক লক্ষণগুলো কী?
সে সকালে অথবা খাওয়ার পরে একটু হাঁটতে গেল, তখন তার ঠিক বুকের মাঝখানে—এটাকে সেন্ট্রাল চেস্ট পেইন বলে—ব্যথা হতে পারে। সে হাঁটার সময় বুকে চাপ অনুভব করছে এবং এ ব্যথাটা অনেক সময় পিঠের দিকে, হাতের দিকে, ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে যায়। এরপর যদি সে একটু দাঁড়ায়, রেস্ট নেয়, এক-দুই মিনিটের মধ্যে এটা কমে যায়। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে প্রধান লক্ষণ। তখন প্রথমে বোঝা যায়, সে কি তাহলে হার্টের রোগী নাকি।
এছাড়া অনেকেই কমপ্লেইন করে যে বুক ধড়ফড় করছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে অথবা অল্পতেই টায়ার্ড হয়ে যাচ্ছে, শরীরটা একটু ঘাম দেয়, বুক ধড়ফড় করে, বমি বমি ভাব হয়। এটা হচ্ছে মোটামুটি প্রধান লক্ষণ।
নারী ও পুরুষের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকিতে কোনো পার্থক্য আছে কি? বয়সের সঙ্গে এ ঝুঁকি কীভাবে পরিবর্তিত হয়?
ছেলেদের তো রিস্ক আছেই। মেয়েদের সাধারণত চাইল্ড বিয়ারিং এজে হরমোনাল কারণে একটা প্রটেকশন থাকে। কিন্তু ৫৫-৬০ বছরের পরে দুই গ্রুপেরই প্রায় একই রকম ঝুঁকি। মেয়েদের ঝুঁকিটা একটু বাড়ে চাইল্ড বিয়ারিং এজের পরে। ৪৫ বছর পর্যন্ত একটা ন্যাচারাল প্রটেকশন থাকে। উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস—আমরা জানি, এগুলোও ঝুঁকির বিষয়।

উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি কতটা বাড়ে এবং এক্ষেত্রে কী ধরনের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত?
উচ্চ রক্তচাপ যাদের থাকে, তাদের যদি ৫০-এর ওপরে হয়, ৫০ বছর বয়সের ওপরে প্রায় ৫০ শতাংশ পেশেন্টের মধ্যে হাইপারটেনশন ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। আর যাদের ডায়াবেটিস থাকে, যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের চেয়ে দুই থেকে—মানে টু টাইমস—নরমাল লোকের চেয়ে আগে তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত?
হাইপারটেনশনের প্রাথমিক অবস্থা থেকে অনেক কিছু আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। তার জন্য ব্লাড প্রেসার চেক করা এবং লাইফস্টাইল—প্রথমে যেটা বলি সবাইকে। আমরা প্রথমে সবাইকে ওষুধ দিই না। স্মোকিংয়ের অভ্যাস থাকলে বাদ দেয়ার চেষ্টা করা, হাঁটাহাঁটির অভ্যাস রাখা, প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফ্রুটস খাওয়া—এ ধরনের বিষয় প্রাথমিক অবস্থায় মেনে চলতে হবে। আর যদি ব্লাড প্রেসার আছে সেটা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে নিয়মিত ওষুধ সেবন করবে, ডাক্তারের পরামর্শ নেবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধের মাত্রা বাড়ানো-কমানো করবে।
ডায়াবেটিসের ব্যাপারে সেম। প্রাথমিক অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীদের এক্সারসাইজ, ডায়েটের অ্যাডভাইস। তারপর নেক্সট হচ্ছে মেডিকেশন।
ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে হৃদরোগীদের জন্য কী ধরনের চিকিৎসাসেবা রয়েছে?
ইউনিভার্সেল হাসপাতাল একটা মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতাল। সব ডিপার্টমেন্টই আছে। তার সঙ্গে একটা কার্ডিয়াক ডিপার্টমেন্ট, খুব স্ট্রং ডিপার্টমেন্ট এখানে আছে। এখানে ২৪ ঘণ্টা ইমার্জেন্সি সার্ভিস, সপ্তাহে সাতদিনের ইমার্জেন্সি সার্ভিস—সবই আছে।
যেহেতু কার্ডিয়াক চিকিৎসাটা খুব ব্যয়বহুল সেজন্য আমরা আমাদের দেশের কনটেক্সটে প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।










