বাংলাদেশে হৃদরোগের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী?
বাংলাদেশের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আসলে মূল চ্যালেঞ্জ হলো রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। আমাদের ডাক্তার কম, রোগীর সংখ্যা বেশি। সুযোগ-সুবিধা কম, হাসপাতাল ফ্যাসিলিটিও কম। কিন্তু রোগী অনেক বেশি। সেজন্য সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে জটিল রোগীদের আগে চিকিৎসা দিতে হয়, কম জটিল রোগীদের একটু পরে চিকিৎসা দিতে হয়। এটা একটা বিষয়। আরেকটা বিষয় হলো আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা। বিশেষ করে সরকারি সেক্টরে এটা দেখা যায়। প্রাইভেট সেক্টরে সুযোগ-সুবিধা থাকলেও চিকিৎসা কিছুটা ব্যয়সাধ্য।
হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগে শরীর কী কোনো ধরনের সংকেত দিতে পারে? কোন উপসর্গগুলোকে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়?
হার্ট অ্যাটাকের আগে অনেক সময় দেখা যায় রোগীর ব্লাড প্রেসার থাকে, ডায়াবেটিস থাকে। সেক্ষেত্রে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। হার্ট অ্যাটাকের আগে দেখা যায়, হাঁটতে গেলে অনেক সময় বুকের মধ্যে চাপ চাপ অনুভূতি হচ্ছে। তখনো কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হয়নি। এ ধরনের ক্ষেত্রে যদি রোগী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে রিপোর্ট করেন, তাহলে হার্ট অ্যাটাকের আগেই হৃদরোগ ধরা সম্ভব এবং চিকিৎসাও শুরু করা সম্ভব।
বাংলাদেশে রোগীরা অনেক সময় রোগ জটিল হওয়ার পর জন্য হাসপাতালে আসেন। এতে চিকিৎসায় কী ধরনের সমস্যা তৈরি হয়?
অনেক সময় দেখা যায়, জটিল অবস্থা হওয়ার পর রোগীরা আসছেন। সেক্ষেত্রে অপারেশনের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হয়। জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পর অস্ত্রোপচারও তখন জটিল হয়ে যায়। সেজন্য যদি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা আমাদের কাছে আসেন, তাহলে অল্প খরচে এবং ব্যয়সাধ্য না হয়ে বা কষ্টসাধ্য অপারেশন করতে হয় না। জটিল অপারেশনও লাগে না। সেজন্য যত তাড়াতাড়ি আসা যায় তত ভালো। চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।
হৃদরোগ প্রতিরোধে একজন মানুষ কী ধরনের জীবন যাপন করতে পারেন?
সমাধান হচ্ছে, হৃদরোগ যাতে না হয় সেই প্রিভেনশন। আমি সবসময় বলি, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর।’ হৃদরোগ অনেক ক্ষেত্রেই প্রিভেন্টেবল। সেই প্রিভেনশন যদি করা যায়, অর্থাৎ রোগটি হচ্ছে না, হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে না বা হৃদরোগ মোটেও হচ্ছে না—এ ধরনের জীবনপদ্ধতি যদি আমরা বেছে নিই, তাহলে ভালো।
যেমন হৃদরোগ না হওয়ার জন্য আমরা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখি, ফাস্টফুড এড়িয়ে চলি, জীবনের জটিলতা পরিহার করে চলি। তাহলেই হৃদরোগ না হলে চিকিৎসাও করতে হবে না এবং আমাদের রোগীর সংখ্যাও কমে যাবে। সমাজে আরো সুস্থ মানুষ বসবাস করবে।
জন্মগত হৃদরোগের পেছনে কী ধরনের কারণ রয়েছে? এটি কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?
আসলে জন্মগত হৃদরোগের এখন পর্যন্ত ওরকম কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে গর্ভস্থ ক্ষেত্রে, অর্থাৎ যখন গর্ভবতী মহিলা থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে জার্মান মিজলস, হাম—এসব যাতে না হয়, এটা যদি প্রিভেন্ট করা যায়, তাহলে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে জন্মগত হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।
জটিল অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে কী ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি বা সুবিধা রয়েছে?
আধুনিক বিশ্বে যেসব চিকিৎসা হচ্ছে, সবই এখানে করা সম্ভব। জটিল অপারেশনের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা এখানে আছে। জটিল হৃদরোগীর অপারেশন আমরা করি। প্রযুক্তিগত উন্নতি হচ্ছে এবং নতুন নতুন যন্ত্রপাতিও সংযোজিত হচ্ছে।
ভবিষ্যতে হৃদরোগের চিকিৎসা নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কী?
আমি আশা করব, ভবিষ্যতে যাতে হৃদরোগ না হয় সেইভাবে যেন চলি। আমি বলব, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দেন কিউর।’ তার কারণ, যদি আমরা হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে চাই, তাহলে দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করতে হবে, ডায়াবেটিস ও ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের প্রবণতা অনেক কমে যাবে। মানুষ সুস্থ থাকবে, ভালো থাকবে।










