প্রয়াত বাবার দেখানো পথ ধরেই রোগীর ডাক পেলে রাতবিরাতেও ছুটে যেতেন ফটিকছড়ির সাইফুল ইসলাম। পেশায় পল্লীচিকিৎসক সাইফুল ছিলেন অমায়িক। উচ্চস্বরে কোনো দিন কাউকে কথা বলতে শোনেননি তার আশপাশের কেউই। দিন-রাতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষ ভরসা করতেন তার ওপর। প্রাথমিক চিকিৎসাসহ ছোটখাটো চিকিৎসায় এলাকায় সুনাম ছিল ২৮ বছর বয়সী এ পল্লীচিকিৎসকের। কিন্তু হঠাৎ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৩ অক্টোবর থেমে গেছে সাইফুলের জীবন। বাবাকে হারিয়েছে চার বছরের মেয়ে আইরা জাবীন ফাইসা।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের হলুদিয়া এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম। হেয়াকো বাজারের সেবা মেডিকেল হলে চিকিৎসাসেবা দিতেন তিনি। কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর ৩০ সেপ্টেম্বর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও তার শারীরিক পরিস্থিতি ছিল বেশ ভালো। ডেঙ্গু নিয়েই অসুস্থ অবস্থায় ৩ অক্টোবরও রোগী দেখেন তিনি। পরে বেলা একটা-দেড়টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাইফুলকে প্রথমে নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। পরে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেয়ার পথে হাটহাজারীতেই তার মৃত্যু হয়।
পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন সাইফুল। তার সোনার সংসারে রয়েছে চার বছরের মেয়ে আইরা জাবীন ফাইসা। হঠাৎ করে স্বামীকে হারিয়ে নিজের ও ছোট মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন সাইফুলের স্ত্রী। ওদিকে বাবাকে হারিয়ে ছোট মেয়েটি প্রতিদিন বাবা কোথায়, কখন আসবে—এসব জানতে চাইছে। স্বামীকে হারিয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তার স্ত্রী। এখনো কারো সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না। বর্তমানে সাইফুলের স্ত্রী ও মেয়ে তার শ্বশুরবাড়ি ইসলামপুরের হেয়াকোতে অবস্থান করছেন।
বাবার মতো সাইফুলও পল্লীচিকিৎসার পেশায় যুক্ত হন আট বছর আগে। হেয়াকো বাজারে সেবা মেডিকেল নামে তার চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসত আশপাশ এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের কাছে তিনি পল্লীচিকিৎসক হিসেবেই পরিচিত। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি পরিচিতজনরাও হারিয়েছেন কাছের একজন মানুষকে।
সাইফুলের স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তার মানসিক পরিস্থিতির কারণে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সাইফুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মঈন উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাইফুল যেদিন মারা যায়, সেদিন দুপুর থেকে আমি ওর সঙ্গেই ছিলাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সে নিজেই হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে। পরে চমেকে নেয়ার পথে মারা যায় সে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সদা অমায়িক সাইফুলকে কারো সঙ্গে কখনো জোরে বা উচ্চস্বরে কথা বলতে শুনিনি আমি। তার সঙ্গে কেউ জোরে চিৎকার-চেঁচামেচি করলেও সে কখনই তার প্রতিবাদ করত না। ভালো ব্যবহার ও পিতার সুনামের কারণে এলাকায় পল্লীচিকিৎসক হিসেবে বেশ সুনাম ছিল সাইফুলের। কেউ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমেই ডাক পড়ত তার। প্রাথমিক চিকিৎসায় সিদ্ধহস্ত সাইফুল চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে হাসপাতালেও














