সাধন সূত্রধর (৫৫) একজন বাইচের নৌকার কারিগর। তিনি কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ষাইটধার গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তিনি ‘সাধন মিস্ত্রি’ নামে পরিচিত। এ পেশায় তিনি প্রায় ৩৬ বছর ধরে যুক্ত আছেন। বাইচের নৌকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মোস্তাক আহমদ
এ পেশায় আসার পেছনের গল্প কী?
আমার দাদায় নৌকা বানাইত, বাপে নৌকা বানাইত। এভাবে আমিও যুক্ত হয়েছি। মূলত বাপের হাত ধরেই এ কাজে এসেছি।
কতগুলো বাইচের নৌকা তৈরি করেছেন?
আমার কাজের বয়স ৩৬ বছর। কোনো বছর ১০টা নৌকা বানাইছি, আবার কোনো বছর একটাও বানাইছি। মাঝে কয়েক বছর গ্যাপও গেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২০০টির বাইচের নৌকা বানাইছি।
অঞ্চলভেদে এ নৌকাকে আর কী নামে ডাকা হয়?
সুনামগঞ্জে এ নৌকাকে ‘খেলনা নৌকা’ বলে, আর কিশোরগঞ্জে বলে ‘দৌড়ের নৌকা’। কোনো কোনোটার নাম ‘সোনার তরী’, কোনোটার আবার ‘ঈশানের তরী’। সাধারণত সুনামগঞ্জ, সিলেটের নৌকার গেরস্তরা এসব নাম ব্যবহার করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের গেরস্তরা সাধারণত এসব নাম দেন না।
বাইচের নৌকার বৈশিষ্ট্য কেমন?
একটি দৌড়ের নৌকা সাধারণত ৭০ হাত লম্বা এবং তিন থেকে সোয়া তিন হাত প্রশস্ত হয়। গেরস্তের চাহিদা অনুযায়ী নৌকায় প্রায় ৩১-৩৩টি গোড়া থাকে। বাইচের সময় একটি নৌকায় ৬০ জনের অধিক মানুষ উঠতে পারেন।
নৌকা তৈরিতে কী কী কাঁচামাল লাগে?
একটি বাইচের নৌকা তৈরিতে ১৫০ ফুটের মতো কাঠ এবং প্রায় ৭০ কেজি লোহা লাগে। সাধারণত দেশী জারুল বা চিটাগাংয়ের জারুলের কাঠ ব্যবহার করা হয়। তবে চিটাগাংয়ের জারুল এখন পাওয়া যায় না। তাই সিলেট থেকেই কাঠ আনা হয়।
কতজন মিস্ত্রি এবং কত সময় লাগে?
একটা বাইচের নৌকা বানাতে পাঁচ-ছয়জন মিস্ত্রির প্রায় এক মাস লাগে।
কোন কোন অঞ্চল থেকে অর্ডার আসে?
সাধারণত সুনামগঞ্জ, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চল থেকে অর্ডার বেশি আসে। যেখান থেকে অর্ডার আসে, আমরা ওই জায়গায় গিয়েই নৌকার কাজ করি।
বর্তমানে বানাতে কেমন মজুরি নেন আপনারা?
একটা নৌকা বানাতে আমি ২ লাখ টাকা মজুরি নিই। আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগে ৪০ হাজার টাকা নিতাম। আমার বাপ যখন শুরু করেছিলেন, তখন তা ছিল ৫-৬ টাকার মতো।















