সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
গতকাল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের দায়িত্ব কোনো একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয়ের নয়। সড়ক পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। সরকার, পরিবহন মালিক, শ্রমিক, চালক, যাত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’
সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে ৩১ হাজার মানুষের মৃত্যুর একটি জরিপভিত্তিক তথ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের পরিসংখ্যানের উৎস, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা ও সম্পৃক্ততা যাচাই করা প্রয়োজন। তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত না করে সড়কনিরাপত্তার বাস্তব চিত্র বোঝা সম্ভব নয়।’
সড়কনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের করণীয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সড়কে প্রাণহানি কমবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কার্যকর সুপারিশ দিলে সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।’
চালকদের আচরণ, দক্ষতা ও যানবাহনের ফিটনেসের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। একই সঙ্গে যানবাহনের উপযুক্ত ফিটনেস নিশ্চিত করাও জরুরি।’
অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, শ্রম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিবহন নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মনিরুজ্জামানসহ সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










