বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস মূলত যুদ্ধ ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস। শুরুতে এ হত্যাযজ্ঞের কারণ ছিল মসলা নিয়ন্ত্রণ। এমন একটি হত্যাযজ্ঞ কাহিনী তুলে ধরা হচ্ছে, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন ইতিহাসখ্যাত ভাস্কো দা গামা।

যেসব সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে আরবীয় ব্যবসায়ীদের আধিপত্য, তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পর্তুগিজ অভিযাত্রী ভাস্কো দা গামা ভারত মহাসাগরে তার তৃতীয় অভিযানেও নেতৃত্ব দিলেন। সময়টা ১৫০২ সাল, তার সঙ্গে ২০টি সশস্ত্র জাহাজ।

ক’বছর আগে পর্তুগিজরা কালিকটে তাদের ফ্যাক্টরি স্থাপন করেছে। তারা মনে করছে, এখন মসলা বাণিজ্যের একচেটিয়া অধিকার তাদের দেয়া হয়েছে। এর কোনো আইনি ভিত্তি ছিল না, পুরো দাবিটিই বানোয়াট। তারা মসলা নিয়ে জেদ্দার দিকে রওনা হওয়া আরব জাহাজ আটকে দিলে আরব ব্যবসায়ীরা বাধাদানকারী ক’জন পর্তুগিজকে হত্যা করে।

প্রতিশোধ নিতে গিয়ে তারা ১২টি আরব বাণিজ্য জাহাজ ধ্বংস করে দেয় এবং ভারতীয় বন্দরে কামানের গোলাবর্ষণ করে। তারা মনে করে, এতেই যথেষ্ট প্রতিশোধ নেয়া হয়নি। মসলার একচেটিয়া বাজার দখলের পথে সব বাধা নস্যাৎ করে দিতে পর্তুগিজরা পরিকল্পনা করে। আর এ কাজের জন্য বেছে নেয়া হয় ভাস্কো দা গামাকে।

পর্তুগালের রাজার ডিক্রিবলে ভাস্কো দা গামাকে অভিযানের নেতা হিসেবে ক্যাপ্টেন মেজর পদবি দেয়া হয়। তিনি ভারতের কানপুরের কাছাকাছি এসে আরব উপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে আক্রমণ ও অবরোধ চালিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন।

লুণ্ঠন চালানোর জন্য পর্তুগিজ বহর আরবীয় বাণিজ্য জাহাজের জন্য সমুদ্র চষে বেড়ায়। কিন্তু তারা ‘মেরি’ নামের একটি জাহাজ অবরোধ করে, জাহাজটি মিসরীয় (কেউ মনে করেন গুজরাটি), হজযাত্রীদের নিয়ে মক্কা থেকে ফিরে আসছিল। এতে ভারতের ও কালিকটের ক’জন বিশিষ্ট ধনী মুসলমান ব্যবসায়ীও ছিলেন। তারা নিরস্ত্র জাহাজটির দিকে গুলিবর্ষণ করতে থাকে।

একপর্যায়ে ভাস্কো দা গামা নিজেই সেই জাহাজের যাত্রী জওহর আল ফাকিহর সঙ্গে মুক্তিপণ নিয়ে দরকষাকষি করেন। জওহর প্রথম তাকে অর্থ দিতে চান এবং জিম্মি হিসেবে নিজের স্ত্রী ও ভাইপোকে তার হাতে তুলে দিতে রাজি হন। এর সঙ্গে তিনি চার জাহাজ মসলাও দেবেন বলে জানান। অধিকন্তু ভাস্কো দা গামার সঙ্গে কালিকটের শাসকের (জামোরিন) সুসম্পর্ক স্থাপন করিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তিনি রাজি হননি।

ভাস্কো দা গামা অবরুদ্ধ জাহাজের সব মূল্যবান দ্রব্য উঠিয়ে নেন; জাহাজের ২০ জন শিশুকে নিয়ে যান, তাদের খ্রিস্টীয় চার্চ ‘আওয়ার লেডি অ্যাট বেলেম’-এ দীক্ষা দিয়ে যাজক বানাবেন। অতঃপর তার বাহিনীকে ‘মেরি’ জাহাজের এক অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিলেন।

আগুন ধরিয়ে ভাস্কো দা গামার বহর চলে গেল। জাহাজের লোকজন আপ্রাণ চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে এবং একপর্যায়ে নেভাতে সক্ষম হয়। দূর থেকে ভাস্কো দা গামা যখন আগুনের শিখা দেখতে পেলেন না, তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বহর নিয়ে আবার ফিরে এলেন।

হজযাত্রীরা তাকে আরো বেশি পরিমাণ মসলা ও সম্পদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করলেন। জাহাজের সব যাত্রীকে ডেকের ভেতর ঢুকিয়ে জাহাজে গানপাউডার ছড়িয়ে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ অবস্থায় জাহাজ যাতে কোনোদিকে যেতে না পারে, সেজন্য গোলাবর্ষণও চলতে থাকে। আগুনে জ্বলতে জ্বলতে তীর্থযাত্রী বহনকারী জাহাজ মেরি ডুবে যায়। নির্মম মৃত্যুর শিকার হয় প্রায় ৪০০ মানুষ।

প্রতিশোধের তৃপ্তি নিয়ে ভাস্কো দা গামা কালিকটের কাছে আসেন এবং তার বাহিনী সন্ত্রাস ছড়াতে ৩০ জন জেলেকে হত্যা করে উপকূলে ছড়িয়ে রাখে।

ভাস্কো দা গামার কৃতিত্বের আড়ালে নির্মমতার কাহিনী চাপা পড়ে যায়।

কৃতিত্বের জন্য তাকে পর্তুগাল রাজা ইন্ডিয়ার ভাইসরয় নিয়োগ করেন। এ পদ তিনি ধরে রাখতে পারেননি। রাষ্ট্রক্ষমতায় রদবদলের সঙ্গে সঙ্গে ভাস্কো দা গামার ভাইস রয়ালটি কেড়ে নিয়ে তার অধস্তন একজনকে ভাইসরয় নিয়োগ দেয়া হয়। রাজা প্রথম ম্যানুয়েল ইন্ডিয়ার ভাইসরয় ও গভর্নরের পদটি দেন ফ্রান্সিসকো ডে অ্যালমেদিয়াকে।

হজযাত্রীবোঝাই জাহাজ অবরোধের পর ভাস্কো দা গামার পৈশাচিক নিষ্ঠুরতা আরো বেড়ে গিয়েছিল। তার প্রথম সফরের সময় যে যাজক থালাপ্পানা নাম্বুথিরি জামোরিনের দরবারে তাকে নিয়ে যান তিনিই কালিকটের রাজার পক্ষে সমঝোতা আলোচনা করতে আসেন। ভাস্কো দা গামা তাকে গুপ্তচর আখ্যা দেন। তার নির্দেশে যাজকের দুটি কান কেটে কুকুরের দুটি কান সেলাই করে দেয়া হয়। তার ঠোঁটেও সেলাই দিয়ে তাকে শহরে ফেরত পাঠানো হয়।

পর্তুগিজ ঐতিহাসিক গ্যাসপার কোরাইয়া লিখেছেন, ভাস্কো দা গামার ঠাণ্ডা মাথার নিষ্ঠুরতার সঙ্গে পৃথিবীর কোনো নিষ্ঠুরতার তুলনা চলে না।

ঐতিহাসিক কাস্তেনাদা লিখেছেন:&dquote;&dquote;

যখন (হজযাত্রীবাহী) জাহাজ আত্মসমর্পণ করল, ভাস্কো দা গামা জাহাজে উঠলেন এবং জাহাজের মালিক ও প্রধান মুরদের আদেশ করলেন, তারা যেন সব অলঙ্কার ও দ্রব্যাদি জাহাজে জড়ো করেন। তারা জানান, দেখানোর মতো কিছু তাদের কাছে নেই, সবকিছুই কালিকটে। তখন ভাস্কো দা গামার নির্দেশে তাদের একজনের হাত-পা বেঁধে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলেন। এ প্রক্রিয়া দেখে অন্যরা আতঙ্কিত হয়ে যার কাছে মূল্যবান যা আছে, সবই সমর্পণ করলেন। তিনি নির্দেশ দিলেন, জাহাজের সব শিশুকে ধরে একটি জাহাজে তুলে তাদের লেডি অব বেলেম চার্চে পাঠিয়ে খ্রিস্টীয় ধর্মযাজক বানাতে হবে। তার আদেশ অনুযায়ী শিশুদের বলপূর্বক তুলে নেয়া হলো।

২০ জন শিশু বাদে বাকি ৩৮০ জনকে নির্মমভাবে ভাস্কো দা গামা পুড়িয়ে মেরেছেন। আরেকজন ঐতিহাসিক কার বলেছেন, ভাস্কো দা গামাকে কোনোভাবেই মানুষ বিবেচনা করা যায় না।

ভারতীয়রাই ভাস্কো দা গামাকে হত্যা করেছে, এমন একটি গুজব থাকলেও ২৪ ডিসেম্বর ১৫২৪ সালে তিনি ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভারতেই মারা যান। ফোর্ট কচির কাছে সেই ফ্রান্সিস চার্চে এ দানবকে সমাহিত করা হয়। ১৫৩৯ সালে তার দেহাবশেষ উঠিয়ে পর্তুগালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুনরায় সমাহিত করা হয়।

দুই.&dquote;&dquote;

ভাস্কো দা গামার জন্ম পর্তুগালে ১৪৬০ সালে। জন্ম বছর নিয়ে বিতর্ক আছে। তিনি বিশ্ববিখ্যাত অভিযাত্রী ও ভারতে পৌঁছা প্রথম ইউরোপীয়। ১৪৯৭-৯৯ দুই বছর মেয়াদি ভাস্কো দা গামার প্রথম ভারত যাত্রা, প্রথমবারের মতো আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে সংযোজক রুট সৃষ্টি করে: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে প্রথম বাস্তব যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

বিপজ্জনক আরব উপসাগর, ঝুঁকিপূর্ণ ভূমধ্যসাগরকে পাশ কাটিয়ে পাশ্চাত্যের সঙ্গে সরাসরি ভারতের যোগসূত্র একদিকে যেমন পর্তুগিজ আধিপত্য সৃষ্টি করে, তেমনি প্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী সম্প্রসারণের পথও খুলে দেয়।

ভারতীয় মসলার আকর্ষণে পশ্চিমের অনেক সমুদ্রাভিযান ব্যর্থ হয়, জাহাজ আক্রান্ত হয়, জাহাজডুবির ঘটনা ঘটে, আরবীয় বণিকদের সতর্ক প্রহরা ডিঙিয়ে ভারতীয় উপকূলের দিয়ে এগোনো ছিল বড্ড দুরূহ কাজ। ভাস্কো দা গামা সব প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ২০ মে ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট উপকূলে অবতরণ করেন। ইতিহাস তাকে বিজয়ী বীর হিসেবে চিত্রায়িত করেছে, কিন্তু তার ভেতরের নির্মম জলদস্যু সত্তাটি তেমন উদ্ঘাটিত হয়নি।

৮ জুলাই ১৪৯৭ সালে ভাস্কো দা গামা চারটি জাহাজ ও ১৭০ জন নাবিক নিয়ে যাত্রা করেন। আনুমানিক ১৭৮ টন ওজনের সাও গ্যাব্রিয়েল জাহাজের কমান্ডার ছিলেন ভাস্কো না গামা। তার ভাই পাওলো দা গামার নিয়ন্ত্রণে যে জাহাজটি ছিল, সাও রাফায়েল একই আকার ও ওজনের; অপেক্ষাকৃত ছোট জাহাজ সাও মিগুয়েলের কমান্ডার নিকোলাও কোয়েলো এবং মালামালের গুদামজাতীয় একটি গভীর সমুদ্রের ট্রলার, যার কমান্ডার গসসালো নানস। এ বহর যখন ফিরে আসে, সঙ্গে ফেরেন কেবল ৫৫ জন নাবিক ও দুটো জাহাজ। অবশিষ্টরা হয় মৃত কিংবা নিহত অথবা দ্বীপে পরিত্যক্ত।

ভাস্কো দা গামা তার পূর্বসূরি অভিযাত্রীদের রুটই বেছে নেন। আফ্রিকার উপকূলে টেনেরিফ ও কেপ ভার্দে হয়ে সিয়েরালিওন পৌঁছে ভাস্কো দা গামা রুট পরিবর্তন করে দক্ষিণমুখে যাত্রা করেন। অনুমাননির্ভর যাত্রা হলেও তিনি ভুল করেননি। উন্মুক্ত সাগরে ছয় হাজার মাইলের বেশি (তখনকার জন্য এটাই বিশ্বরেকর্ড) পাড়ি দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার গ্রেট ফিশ রিভার দিয়ে নাটাল শহর পাশ কাটিয়ে মোজাম্বিকের প্রান্তসীমায় এসে হাজির হন। ১৪৯৮ সালের ২ থেকে ১৯ মার্চ ভাস্কো দা গামার অভিযাত্রী বহর সেখানে অবস্থান করে। এলাকাটি তখন আরবদের নিয়ন্ত্রণে। ভাস্কো দা গামা আক্রান্ত হওয়ার অপেক্ষা করছিলেন।&dquote;&dquote;

একপর্যায়ে তিনি মুসলমানদের বেশ ধরে মোজাম্বিকের সুলতানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে আমলে সুলতানরা নাবিকদের কাছ থেকে আকর্ষণীয় উপহার পেতেন। সে রকম কিছু তারা সুলতানকে দিতে পারেনি। এদিকে মোজাম্বিকের উপকূলীয় মানুষজন এ বহরে আসা বণিকদের আচরণ নিয়ে সন্দিহান হয়ে ওঠে এবং আক্রমণের পরিকল্পনা করে। জাহাজ থেকে উপকূলের দিকে গুলিবর্ষণ করতে করতে ভাস্কো দা গামা পালিয়ে যান। সেখান থেকে কেনিয়ার কাছাকাছি এসে তারা নিরস্ত্র আরব বণিকদের জাহাজ লুট করে। সশস্ত্র পর্তুগিজ জলদস্যু হিসেবেই তাদের অভিযাত্রীর মুখোশ খুলে যায়। কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরে ভাস্কো দা গামাই প্রথম ইউরোপীয় নাগরিক।

১৪ এপ্রিল ১৪৯৮ সালে তারা কেনিয়ার মালিন্দিতে পৌঁছেন। এখানে প্রথম ভারতীয় বণিকদের সঙ্গে ভাস্কো দা গামার দেখা হয়। ২৪ এপ্রিল তার বহর ভারতে রওনা হয়। ২০ মে মালাবার উপকূলে (এখনকার কেরালা) কালিকটে পৌঁছে। নাবিকদের প্রথাগত অভ্যর্থনা দেয়া হয়। কালিকটের হিন্দু নৃপতির (জামোরিন) সঙ্গে ভাস্কো দা গামার সাক্ষাৎ তাদের দিক থেকে তেমন ফলপ্রসূ হয়নি।

কালিকটে আসার উদ্দেশ্য কী জিজ্ঞেস করা হলে ভাস্কো দা গামা বলেন, তিনি এখনকার খ্রিস্টান ও মসলার খোঁজে এসেছেন।

জামোরিনকে যে উপহার দেয়া হয় তা তুচ্ছই। তিনি বা তার পারিষদ এতে সন্তুষ্ট হননি। কোনো স্বর্ণ বা রৌপ্য উপহারের মধ্যে না থাকায় এ সন্দেহ ছড়িয়ে পড়ে যে, তারা আরবদের মতো প্রকৃত বণিক নয়, তারা আসলে জলদস্যু।&dquote;&dquote;

ভাস্কো দা গামা উপকূলে বাণিজ্যকুঠির স্থাপন করতে চাইলে জামোরিন তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সব ধরনের বাণিজ্যের জন্য অন্যান্য বণিকদের মতো স্বর্ণশুল্ক দাবি করেন। এতে সম্পর্কের অবগতি ঘটে। ভাস্কো দা গামা ক্ষুদ্ধ হয়ে কিছুসংখ্যক ক্ষত্রিয়-নায়ার ও ১৬ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যান।

২৯ আগস্ট ১৪৯৮ সালে ভাস্কো দা গামার নৌবহর কালিকট ত্যাগ করে।

প্রতিকূল আবহাওয়ায় ৭ জানুয়ারি ১৪৯৯ সালে বহর যখন মালিন্দি পৌঁছে, নাবিকদের অর্ধেকই মৃত। অন্য অনেকে স্কার্ভি রোগে আক্রান্ত। চারটি জাহাজ চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো নাবিক আর নেই। ভাস্কো দা গামা এমনকি তার নিজের পরিচালিত জাহাজ সাও রাফায়েল পূর্ব আফ্রিকার উপকূলে পরিত্যাগ করেন। পথে তার ভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে ভাস্কো দা গামা তার নিয়ন্ত্রণাধীন জাহাজ সাও গ্যাব্রিয়েলের কেরানি ইউয়া দে সার কাছে হস্তান্তর করেন এবং ভাইকে নিয়ে সান্টিয়াগো দ্বীপে নেমে যান। ভাইয়ের মৃত্যু হয়। তিনি বিকল্প পথে ২৯ আগস্ট ১৪৯৯ সালে রাজধানী লিসবন পৌঁছলে তাকে সংবর্ধিত করা হয়, তাকে নিয়ে মিছিল হয়, রাজা ম্যানুয়েল চিঠি লিখে তার প্রশংসা করেন।

দুটো জাহাজ ফিরে আসতে সক্ষম হয়। লোকক্ষয়ের বিরুদ্ধে বিষয়টি বিবেচনায় না নিলে ভাস্কো দা গামার এ সমুদ্র অভিযান ও জলদস্যুবৃত্তিতে তাদের মোট ব্যয়ের ৬০ গুণ লাভ করতে সমর্থ হয়।

ভাস্কো দা গামা বিজয়ী বীর হিসেবে ১৫০১ সালে অভিজাত পরিবারের মেয়ে ক্যাটেরিনাকে বিয়ে করেন। ৩০ জানুয়ারি ১৫০২ সালে তাকে ‘অ্যাডমিরাল অব সিন্স অব অ্যারাবিয়া, পার্শিয়া, ইন্ডিয়া অ্যান্ড অল দ্য ওরিয়েন্ট’ খেতাব দেয়া হয়।

ভাস্কো দা গামার প্রত্যাবর্তনের পর দ্বিতীয় ভারত অভিযানের নেতৃত্ব দেন পেদ্রো আলভারেস ক্যাব্রাল। পেদ্রোর দায়িত্ব ছিল কালিকটের রাজার সঙ্গে সন্ধি স্থাপন, বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ। আরব ব্যবসায়ীদের গিল্ড ও কুঠি গুঁড়িয়ে দেয়। তার অভিযানের ফলে বড় ধরনের দাঙ্গা বেধে যায়। আরব ও তাদের সহযোগী স্থানীয় লোকদের হাতে ৭০ জন পর্তুগিজ নিহত হয়। পেদ্রো পর্তুগিজদের এ বিপর্যয়ের জন্য কালিকটের শাসক জামোরিনকেই দায়ী করলেন এবং জাহাজ থেকে শহরে গোলাবর্ষণ করলেন। ফলে পর্তুগাল ও কালিকটের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেল।

পর্তুগালের রাজার ফরমান নিয়ে ক্যাব্রাল প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ১৫টি সশস্ত্র জাহাজ ও ৮০০ জঙ্গি সদস্য নিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ১৫০২ সালে ভারত মহাসাগরের দিকে রওনা করল। পাঁচ স্কোয়াড্রন সৈন্যের আরেকটি বাহিনী ভারত মহাসাগরে তার সঙ্গে যোগ দিল। তাদের পরবর্তী যাত্রাপথ পুরোটাই লুটপাট, খুনখারাবি ও অবিশ্বাস্য নির্মমতার।

এবং ভারতে উপনিবেশিক শাসনের বীজ আসলে ভাস্কো দা গামার হাতেই রোপিত।