ঠোঁটের যত্ন নেয় না কে? ঠোঁট সুন্দর করতে নানা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সবচেয়ে পরিচিত ও সাধারণ উপাদানটি হলো লিপস্টিক। নারীরা তো বটেই প্রয়োজনে পুরুষরাও ‘ওষ্ঠরঞ্জনী’ ব্যবহার করে থাকেন। পৃথিবীতে নানা রঙের, নানা শেডের, নানা ব্র্যান্ডের লিপস্টিক আছে। এর মধ্যে কোনোটি খুব দামি, কোনোটি খুব নামি। কোনোটির আছে দীর্ঘ ইতিহাস। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো জনপ্রিয় (ও প্রয়োজনীয়) প্রসাধনীটিকে একসময় ডাইনিবিদ্যার অনুষঙ্গ মনে করা হতো।

একটি ছোট টিউব। বাহ্যিকভাবে নিরীহ। কিন্তু ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায় এক আগ্রহজাগানিয়া চিত্র। এ টিউবের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল সমাজের ভয়, ধর্মের নিয়ন্ত্রণ, রাজনীতির প্রতিরোধ এবং নারীর আত্মপরিচয়ের দীর্ঘ লড়াই। আজ আমাদের যে লিপস্টিক নির্দ্বিধায় ঠোঁটে ছোঁয়ানো হয়, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সেটিই ছিল নিষিদ্ধ, সন্দেহজনক এবং কখনো কখনো মৃত্যুদণ্ডের মতো শাস্তির কারণও। এক্ষেত্রে সন্দেহের তালিকায় ছিল লাল লিপস্টিক।

সামাজিক অনুশাসন আর সৌন্দর্যের এ যাত্রা বোঝার জন্য আমাদের ফিরতে হবে অতীতে। সেখানে লিপস্টিক কেবল রঙ নয়, ছিল বিপ্লব।

ইউরোপের মধ্যযুগ (পঞ্চম-পঞ্চদশ শতাব্দী) ছিল ধর্মীয় কঠোরতা, অন্ধবিশ্বাসের যুগ। এ সময়ের আলাপে নানা সময়েই মধ্যযুগীয় বর্বরতা, অন্ধকার যুগ কথাগুলো আসে। এ সময়ে নারীও ছিল অবহেলিত ও নির্যাতিত। একে নারীর প্রতি অবিশ্বাসের যুগও বলা চলে। সেই সঙ্গে এ সময় লাল রঙকে দেখা হতো শয়তান, রক্ত, প্রলোভন এবং অপরাধের প্রতীক হিসেবে। ফলে ঠোঁটে লাল রঙ মাখা নারীদের সমাজ ভাবত ‘অস্বাভাবিক’, ‘ধর্মবিরোধী’ কিংবা আরো ভয়ংকর—‘ডাইনি’।

কিন্তু লাল লিপস্টিক বা ওষ্ঠরঞ্জনীর ইতিহাস আরো পুরনো। ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ঠোঁট লাল করার প্রচলন শুরু হয়। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার রানী পুয়াবি (শুবাদ নামেও পরিচিত) সাদা সিসা ও গুঁড়া লাল পাথর মিশিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। এটি ছিল তার ক্ষমতার প্রতীক। এ ধারা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। প্রত্নতাত্ত্বিক খননে দেখা গেছে বহু সমৃদ্ধ সুমেরীয় নারী ওষ্ঠরঞ্জনীসহ সমাধিস্থ হয়েছেন। প্রাচীন মিসরের অভিজাতরা রজনের সঙ্গে লাল ওকার মিশিয়ে ঠোঁটের জন্য লাল রঙ তৈরি করতেন। রানী ক্লিওপেট্রা পছন্দ করতেন কারমাইন—গভীর লাল এক রঞ্জক, যা কোচিনিল পোকা থেকে নিষ্কাশন করা হয়।

প্রাচীন গ্রিসে লাল ঠোঁট যৌনকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। যদি তারা জনসমক্ষে তাদের নির্ধারিত ঠোঁটের রঙ (যা তৈরি হতো মালবেরি, সি-উইড, ভেড়ার ঘাম, এমনকি কুমিরের বিষ্ঠার মতো উপাদান থেকে) ছাড়া উপস্থিত হতেন, তাহলে ‘সম্মানিত নারীর ছদ্মবেশ ধারণের অপরাধে’ শাস্তির ঝুঁকি ছিল। সারা ই. শ্যাফার তার Reading our Lips: The History of Lipstick Regulation in Western Seats of Power এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।

রোমান সাম্রাজ্যে বিষয়টি নিয়ে কড়াকড়ি কমে যায়। কিন্তু মধ্যযুগে আবারো কঠোর আইন জারি করা হয়। সে সময়কার চার্চের উপদেশে বলা হতো নারী যদি নিজের মুখমণ্ডলকে পরিবর্তন করেন, তবে তিনি ঈশ্বরকে প্রতারণা করছেন। লাল লিপস্টিক ছিল সে প্রতারণার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। কারণ বিশ্বাস ছিল এটি পুরুষকে মোহিত করতে পারে, মনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, এমনকি ‘আত্মাও বন্দি করতে পারে’। এ ধারণাগুলো আজ হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু তখন সমাজকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এমন ভীতিকর গল্পই ছিল সাধারণ অস্ত্র।

ex6

সাফ্রেজ আন্দোলনের সময় ম্যাসাচুসেটসের রাস্তায় নারীরা, নার্স কর্পসের বিজ্ঞাপনে নার্সের ঠোঁটে লাল লিপস্টিক ও লাল লিপস্টিকে এলিজাবেথ টেইলর (বাঁ থেকে)

নারীর স্বাধীনতা, দৃশ্যমানতা ও আকর্ষণ—তিনটিকে একই সূত্রে বেঁধে ফেলা হতো শয়তানের কাজ হিসেবে। ফলে লাল লিপস্টিকের মতো সাধারণ ও সামান্য একটি প্রসাধনীও হয়ে উঠেছিল নারীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর অভিযোগের হাতিয়ার।

শ্যাফার লেখেন যে মধ্যযুগে, ‘যখন ক্রুসেডরা ইউরোপকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রসাধনীর সঙ্গে ব্যাপকভাবে পরিচয় করায়, লিপস্টিক তখন এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ে।’

খ্রিস্টানরা প্রসাধনীকে ধর্মীয় শিক্ষার বিরোধী মনে করত। ইংল্যান্ডে বিশ্বাস করা হতো যে লাল লিপস্টিক দুষ্ট আত্মা তাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। তবে খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী হয়েও রানী প্রথম এলিজাবেথ লাল লিপস্টিক ব্যবহার শুরু করেন। বিশেষভাবে তৈরি রঙটি কোচিনিল, গাম অ্যারাবিক, ডিমের সাদা অংশ এবং ডুমুরের দুধ দিয়ে তৈরি। রানীর ব্যবহারের কারণেই এর জনপ্রিয়তা আরো বাড়ে। প্রথম এলিজাবেথের কারণে তার শাসনামলে (১৫৫৮-১৬০৩ খ্রি.) লাল লিপস্টিক ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

তবে তার উত্তরসূরি প্রথম জেমস (১৬০৩-১৬২৫) শাসনামলে জাদুবিদ্যার ভীতি প্রসাধনী ব্যবহারকে সন্দেহের চোখে দেখাতে শুরু করে। ১৭৭০ সালে এমনকি একটি আইনও পাস হয়, যেখানে বলা হয় কোনো নারী যদি প্রসাধনী ব্যবহার করে পুরুষদের প্রতারণা করে বিবাহে প্রলুব্ধ করার অপরাধে অভিযুক্ত হন, তাহলে তাকে ডাইনি হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা যেতে পারে।

সপ্তদশ শতাব্দীর চার্চ তখন দারুণ কঠোর। তাদের মতে সৃষ্টিকর্তা নারীর চেহারা যেমন দিয়েছেন, তা পরিবর্তন করা মানেই ঈশ্বরকে প্রতারিত করা। আইনগত নথি থেকে জানা যায় কোনো নারী যদি বিয়ের সময় প্রসাধন পরে থাকেন এবং পরে তা জানা যায়, সে বিয়ে বাতিল করার অধিকার ছিল স্বামীর। অর্থাৎ সৌন্দর্যচর্চা ছিল বিবাহবিচ্ছেদের কারণ।

লিপস্টিকের—বিশেষত লাল রঙের—বিরুদ্ধে সবচেয়ে উচ্চকিত স্বর ছিল রোমান ক্যাথলিক চার্চের। মধ্যযুগে চার্চের বিচারে বহু নারীকে পুড়িয়ে মারার রেকর্ড আছে। তাদের সবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ ছিল ডাইনিবিদ্যা চর্চার। লিপস্টিকের বিরুদ্ধে নানা কথা বলেছে চার্চ। কিন্তু লিপস্টিকের জন্য কোনো নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায় না।

তবে লিপস্টিক সহজে নতুন করে জনপ্রিয় হয়নি। এর পেছনে ছিল নানা বাধা ও সামাজিক ধারণা।

সতেরো-আঠারো শতকে লিপস্টিক মূলত ব্যবহার করতেন নাট্যশিল্পী ও পতিতারা। কারণ তাদের কাজই ছিল দৃশ্যমান হওয়া, চোখে পড়া আর আকর্ষণ তৈরি করা। কিন্তু অভিজাত নারীদের জন্য তা নিষেধ ছিল। সমাজ বিষয়টি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করত। তাদের ক্ষেত্রে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা ছিল—তা হতে হবে জন্মগত। ফলে লাল লিপস্টিক হয়ে গেল ‘অন্য রকম নারী’র পরিচায়ক। আর সমাজের চোখে ‘অন্য রকম’ মানেই বিপজ্জনক।

তবে এ ধারণা ও ধারা খুব বেশিদিন টিকতে পারেনি। বিশ শতকের শুরুর দিকেই নারীরা নিজেদের অধিকারে সচেতন হন। তারা নিজেদের সামাজিক অধিকারের পাশাপাশি ভোটাধিকারও চেয়েছিলেন। এসব আন্দোলনের অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছিল লাল লিপস্টিক। তাদের পোশাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠল এটি। নারীদের অধিকার আদায়ে আন্দোলনকারীরা উনিশ শতকের নিউইয়র্কের রাস্তায় লিপস্টিক পরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছিলেন। নারীরা বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন এবং লাল রঙের লিপস্টিক ব্যবহার করে শতাব্দীপূর্ণ পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন। নারী উদ্যোক্তা ও প্রসাধনী ব্র্যান্ডের মালিক এলিজাবেথ আর্ডেন নিশ্চিত করলেন লাল লিপস্টিক সাফল্যবাদীদের মিছিলের সময় সব চোখে পড়ুক। তিনি নিজেও রাস্তায় গিয়ে নারী অংশগ্রহণকারীদের লাল লিপস্টিক বিতরণ করলেন।

যদিও এটি উজ্জ্বল, সাহসী, চ্যালেঞ্জিং ও দুঃসাহসী ছিল। লাল রঙটি নারীত্বের প্রতীকও হয়ে উঠল এবং এটি শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেল নারীত্ব, বিদ্রোহ ও নারীবাদী মনোভাবের মিশ্রণে। এর পরই বিশ শতকে নারীরা আশা দেখলেন, যখন কিছু রাজ্য নারীদের ভোটাধিকার দিতে শুরু করল। ১৯২০ সালে সংবিধানের ১৯তম সংশোধনী অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রে আট মিলিয়নেরও বেশি নারী প্রথমবারের মতো তাদের ভোট দিয়েছিলেন।

তারা অন্যান্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি ফ্যাশন ও প্রসাধনের অধিকারেও সোচ্চার ছিলেন। তারা লিপস্টিক পরতেন এবং ধীরে ধীরে প্রথাগত ধারণা ভেঙে পড়তে শুরু করে। ফলে লাল লিপস্টিকের প্রতি নেতিবাচক ধারণা একটা সময় কমতে থাকে। শেষ পর্যন্ত এর কোনো অস্তিত্ব থাকে না। এর কিছু সময় পরেই লাল লিপস্টিক বিনোদন জগতে প্রবেশ করল।

১৯২০-এর দশকের সুফ্রাজেট আন্দোলনে লাল লিপস্টিক নতুন অর্থ পায়। এটি নারীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে। এলিজাবেথ আরডেন ১৯১২ সালে সুফ্রাজেটদের হাতে লিপস্টিকের টিউব তুলে দিয়ে এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যান্টন, শার্লট পারকিন্স গিলম্যান এবং এমিলিন প্যাঙ্কহার্স্টের মতো নারীদের সাহসের প্রতীক হিসেবে লাল লিপস্টিক পরতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

পরবর্তী দশকগুলোয় লাল লিপস্টিক ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ভোগ ১৯৩৩ সালে ঘোষণা করেছিল, ‘যদি আমরা বিংশ শতাব্দীর ভঙ্গিগুলো ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করতাম, তবে লিপস্টিক পরা নিঃসন্দেহে তালিকার শীর্ষে থাকত।’

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লাল লিপস্টিক বিদ্রোহের প্রতীক থেকে রূপান্তর হয়ে দেশপ্রেমী নারীত্ব ও দৃঢ়তার প্রতীকে পরিণত হয়। ‘ফাইটিং রেড’ ও ‘ভিক্টরি রেড’—এর মতো শেড তখন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। শ্যাফার লেখেন যে লাল লিপস্টিক ছিল ‘যুদ্ধ প্রচেষ্টার একটি অপরিহার্য অংশ।’ আরডেন নারী মেরিনদের ইউনিফর্মের উজ্জ্বল লাল বর্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি বিশেষ শেড তৈরি করেন এবং শ্রমিকদের মনোবল বাড়াতে কারখানার ড্রেসিং রুমগুলোয় লিপস্টিক সরবরাহ রাখা হতো।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও সাহসী লাল ঠোঁট ছিল এক চিরন্তন স্টাইল। অড্রি হেপবার্ন ও মেরিলিন মনরোর মতো হলিউড আইকন এটি ফ্যাশনের প্রধান উপকরণে পরিণত করেন। এর উত্তরাধিকার দেখা যায় আধুনিক তারকাদের মধ্যেও।

১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের নারীবাদী আন্দোলনে প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ডকে প্রত্যাখ্যান করার অংশ হিসেবে লাল লিপস্টিকের জনপ্রিয়তা কিছুটা কমে যায়। আরো স্বাভাবিক ও সামগ্রিক এক সৌন্দর্যধারা গ্রহণের ফলে ক্ল্যাসিক লাল লিপস্টিক কিছুদিনের জন্য পিছিয়ে পড়ে। তবে ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে ‘পাওয়ার ড্রেসিং’ ও করপোরেট নারীবাদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে লাল ঠোঁটের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটে।

একুশ শতকের আধুনিক পৃথিবীতে লাল লিপস্টিক এখনো বহুমাত্রিক অর্থ বহন করে। এটি আত্মবিশ্বাস, ধনসম্পদ, ক্ষমতা, পদবি, সামাজিক মর্যাদা, স্টাইল বোঝাতে পারে এবং কখনো কখনো প্রলোভনের সংকেতও দিতে পারে। লাল লিপস্টিক মনোযোগ দাবি করে এবং এটি ক্ষমতার প্রকাশ ঘটায়। আজকাল কেবল লাল লিপস্টিক নয়, বরং সব রঙের লিপস্টিকই নারীদের পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে এবং নারীবাদের পক্ষে দাঁড়াতে সাহায্য করে। আত্মবিশ্বাসের অঙ্গ হয়ে উঠেছে লাল লিপস্টিক।

আজ লাল লিপস্টিক সাহসী আত্মপ্রকাশ, শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে টিকে আছে এবং টিকটক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক মাধ্যমেও নিজের জায়গা দখল করেছে, যেখানে সব বয়সের মানুষ তাদের নতুন করে বেছে নেয়া এ শেডকে দৈনন্দিন ব্যবহারের অংশ হিসেবে প্রদর্শন করছে। তাই বলে অন্যান্য শেডও পিছিয়ে নেই। লিপস্টিকের নানা শেড নিয়ে কাজ করে নানা ব্র্যান্ড। লাল যেমন ক্ষমতাকে প্রকাশ করে, মেরুনও একজন নারীকে দিতে পারে আত্মবিশ্বাস। এমনকি কেউ হয়তো কালো লিপস্টিক পরেও নিজেকে আত্মবিশ্বাসী মনে করতে পারেন। একেক শেড এক একজন পছন্দ করেন। তবে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি আলাদা মাহাত্ম্য ধারণ করে লাল।

মূলত লাল রঙটি সবসময়ই সংঘাত, রক্তক্ষয়ের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এটি যুক্ত হয়েছে (মূলত যুক্ত করা হয়েছে) ডাইনিবিদ্যার মতো ভয়ংকর বিষয়ের সঙ্গে। আদতে ডাইনিবিদ্যা বলে কিছু ছিল কিনা তা-ও নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই কিন্তু ভীতি তৈরি করেছিল চার্চ ও সমাজ। তবে সে ভয় ভেঙে পড়েছিল। আর লালকে মানুষ গ্রহণও করছিল। লিপস্টিকও বাদ পড়েনি।

লাল রঙের মতো লাল লিপস্টিকেরও চিরকালীন আকর্ষণ আজও মানুষকে মোহিত ও ক্ষমতায়িত করে। এরপর বিদ্রোহ ও শক্তির প্রতীক হিসেবে তার অবস্থানকে পুনরায় নিশ্চিত করে। ২০১৮ সালে নিকারাগুয়ার #SoyPicoRojo আন্দোলনে পুরুষ ও নারী উভয়েই লাল লিপস্টিক পরে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। ২০১৯ সালে চিলির হাজারো নারী লাল লিপস্টিক পরে যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, প্রমাণ করে যে সাহসী লাল ঠোঁট কোনোদিনই সত্যিকার অর্থে ফ্যাশন থেকে হারিয়ে যায়নি।

মাহমুদুর রহমান: লেখক ও সাংবাদিক