ন্যায্য
উত্তরাধিকারে পিতৃতন্ত্রের
বাগড়া
দিল্লির মসনদে বসাটা রাজিয়া সুলতানার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। উল্টো তা ছিল কণ্টকমণ্ডিত। সুলতানি সাম্রাজ্যের সময়কার ভারতে যেখানে পিতৃতান্ত্রিকতারই জয়জয়কার, সেখানে নারী হয়ে রাজসিংহাসনে বসা তো রীতিমতো অসাধ্যসাধন। প্রকৃতপক্ষে একটি বিশেষ ঘটনার কারণে রাজিয়া সুলতানার পিতার দিল্লির সুলতান শামস-উদ্দিন ইলতুতমিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, নিজের জ্যেষ্ঠ কন্যাকেই তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনয়ন দেবেন। প্রথা অনুযায়ী আগে ইলতুতমিশ ভেবেছিলেন, তার বড় ছেলে নাসেরউদ্দিন মাহমুদ শাহই উত্তরাধিকারী বলে গণ্য হবেন। তিনিই মসনদে বসবেন। কিন্তু বিধি বাম। ১২২৭ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেয়া নাসের মাত্র দেড় বছর বয়সে ১২২৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ১২৩৩ সালে রাজস্থানের গোয়ালিয়রে অভিযান সেরে দিল্লিতে ফেরার পর রাজিয়ার মা তুরকান খাতুনকে (তিনি কুতুবউদ্দিন আইবেকের কন্যাও বটেন) ইলতুতমিশ জানান, তার পরিবারের সবচেয়ে প্রথম সন্তান ও প্রথম মেয়ে রাজিয়াই পরে গদিনশিন হবেন। রাজিয়ার বয়স তখন আনুমানিক ২৮ বছর।
সুলতানি
আমলের ইতিহাস-লেখক মিনহাজ-ই-সিরাজ তার তবকাত-ই-নাসিরী গ্রন্থে লিখেছেন, ইলতুতমিশ তার কন্যার মধ্যে শাসকসুলভ প্রয়োজনীয় শক্তিমত্তা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রকাশ দেখতে পেয়েছিলেন। যদিও রাজিয়া নারী হওয়ার ‘কারণে’ জনতার দৃষ্টির বাইরে বা পর্দার অন্তরালেই ছিলেন। তা সত্ত্বেও পারিপার্শ্বিক পুরুষতান্ত্রিক আবহের কারণে রাজিয়াকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করাটা তার জন্য কঠিনতম কর্ম যে ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবু সব দ্বিধা ও পিছুটান কাটিয়ে তিনি নিজের সচিবকে নির্দেশ দেন রাজিয়াকে তার উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং এখন থেকে রাজিয়াই দিল্লির পরবর্তী শাসক এই মর্মে একটি ডিক্রি জারি করতে। তত্ক্ষণাৎ ডিক্রি জারি হয়। সিদ্ধান্তটিও পৌঁছে যায় জনপরিসরে। কিন্তু এরপর বাধল আরেক ফ্যাসাদ। ইলতুতমিশের দরবারের সভাসদেরা সুলতানের এ সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে পারলেন না। তাদের সবার মুখে এক কথা, কোনোভাবেই সুলতান নিজের কন্যাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন না। কারণ তার একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক পুত্র রয়েছে; যারা কিনা সিংহাসনের দায়িত্ব নিতে সক্ষম। এমন অবস্থায় রাজিয়াকে পরবর্তী সুলতান হিসেবে বেছে নেয়াটা রীতিবিরুদ্ধ। সভাসদদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইলতুতমিশের জবাব নাকি ছিল এমন, ‘আমার
পুত্ররা সবাই যৌবনের আনন্দে আত্মহারা এবং তাদের কারোরই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা নেই। বরং রাজিয়াই এ কাজে সবচেয়ে বেশি যোগ্য।’ এ বিষয়ে অধ্যাপক আবু মহামেদ হবিবুল্লাহর মন্তব্য হলো, মূলত ইলতুতমিশের তুর্কি শিকড়ই রাজিয়াকে বেছে নেয়ার ব্যাপারে তাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছিল। কারণ তুর্কিরাই হলো প্রথম জাতি যারা কিনা পারস্যের রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও রীতিনীতিকে নিজেদের মতো আত্মস্থ করেছিল। প্রয়োজনে নারীর হাতে ক্ষমতার উত্তরাধিকার দেয়াটাকে অনিবার্য ও স্বাভাবিক বলে পারস্যে তখন মনে করা হতো। তুর্কিরাও এ নিয়ম গ্রহণ করে। ফলে ইলতুতমিশ রাজিয়ার মধ্যে উপযুক্ত শাসকের প্রয়োজনীয় গুণাবলি রয়েছে দেখে তাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে বেছে নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। আর শাসক হিসেবে কন্যাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনয়ন করাটা ইসলামী ঐতিহ্যেও অনুপস্থিত ছিল না। আবু মহামেদ হবিবুল্লাহ মনে করেন, ‘ত্রয়োদশ
ও চর্তুদশ শতাব্দীতে একজন নারী শাসকের ধারণা ইসলামী আইনের পরিপন্থী ছিল না।’ উপরন্তু যে মিনহাজ-ই-সিরাজ একজন দক্ষ বিচারকও ছিলেন, তিনি কিন্তু তার লেখা ইতিহাস-পুস্তকে রাজিয়ার রাজাসনে বসা নিয়ে কোনো আইনি প্রশ্ন তোলেননি। কোনো দ্বিমতও জানাননি। ইসলাম আইনশাস্ত্রে পারদর্শী একজন ব্যক্তির এ অবস্থান বিবেচনায় নেয়ার মতো।
এ
ঘটনার আরেকটি ভিন্নতর বয়ান অবশ্য পাওয়া যায়। তাও কম চিত্তাকর্ষক নয়। সেটি এমন: রাজিয়াকে ইলতুতমিশ উত্তরাধিকারী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন ঠিকই। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়টা ছিল গোয়ালিয়রে অভিযানে যাওয়ার আগে। ইলতুতমিশের মৃত্যুর পর নানা কারণে সুলতানের মত পাল্টে উল্টো কাণ্ড ঘটান তার সভাসদেরাই। রাজিয়ার সৎ ভাই রোকন আল-দীন ফিরুজ শাহ ছিলেন লাহোরে। গোয়ালিয়রে নিজের সর্বশেষ সামরিক অভিযান সেরে রাজধানীতে ফেরার সময় শারীরিকভাবে যারপরনাই অসুস্থ ইলতুতমিশ ফিরুজ শাহকে সঙ্গে করে নিয়ে ফেরেন। ফলে ফিরুজ শাহ দিল্লির দরবারের সভাসদ ও জনতার নজরে বিশেষভাবে পড়েছিলেন। উপরন্তু সুলতানের বড় ছেলের অকালমৃত্যুর পর যে কয় পুত্র বেঁচে ছিলেন, তাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন জ্যেষ্ঠতম। ইলতুতমিশের মৃত্যুর দিনই (আনুমানিক ৩০ এপ্রিল, ১২৩৬) দরবারের সভাসদেরা মিলে সলাপরামর্শ করে ফিরুজ শাহকে সিংহাসনে সুলতানের উত্তরাধিকারী হিসেবে বসিয়ে দিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। কিন্তু ফিরুজ শাহ নিজ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখতেন না। তিনি চলতেন মা শাহ তেরকেনের নির্দেশনায়, নিন্দুকের ভাষায় কানকথায়। তেরকেন চাইছিলেন পূর্বতন প্রবীণ সভাসদদের সরিয়ে দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে। আর অযোগ্য ফিরুজ শাহ নিজেকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন ভাঁড়ামি, কামুকতা আর বিভাজনের রাজনীতিতে। ফলে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য রাজকর্মকর্তা-কর্মচারী ও সভাসদেরা বিদ্রোহ করলেন। ক্ষমতার রাশ ধীরে ধীরে ফিরুজ শাহর হাত থেকে সরে যেতে থাকল। বিদ্রোহের কারণে বিপাকে পড়া রাজমাতা তেরকেন সিংহাসনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী রাজিয়াকে খুনের চেষ্টাও করেন এর মাঝে। কিন্তু এ খুনের চক্রান্তের কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় দিল্লির জনগণও ক্ষিপ্ত হয়, ফুঁসে উঠে তারাও বিদ্রোহ করে। রাজপ্রাসাদে আক্রমণ করে তেরকেনকে জনতা হত্যা করে। বিদ্রোহ খানিকটা শান্ত হওয়ার পর দরবারের সভ্য ও ইলতুতমিশের ব্যক্তিগত দাসবাহিনী মিলে রাজিয়াকে সিংহাসনে বসায়। সিংহাসনে বসেই রাজিয়া ফিরুজ শাহকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৯ নভেম্বর ১২৩৬ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ও তা ওইদিন কার্যকরও হয়।
কারা
পক্ষে আর
কারা বিপক্ষে
বস্তুত দরবারের সভ্য ও সাধারণ জনতা—উভয়ই রাজিয়ার সততা ও শক্তিমত্তার ওপর ভরসা করতে শেষমেশ বাধ্য হয়েছিল। ক্ষমতায় বসতে শেষমেশ পেরেছেন ঠিকই, তাও রাজিয়া সুলতানার স্বস্তি ছিল না। একে তো মসনদে আরোহণের আগে নায্য উত্তরাধিকারটুকু বুঝে নিতে তাকে লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল। তার ওপর সর্বদাই নানা বিরুদ্ধতা ও সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। সিংহাসনের দায়িত্বভার কাঁধে আসার পর তার প্রথম কাজ হলো রাষ্ট্রের নৈমিত্তিক কাজকর্মে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। কিন্তু দিল্লির সুলতানের অধীনে থাকা কিছু রাজ্যের সুবেদার ও আমিররা তার অধীনে থেকে কাজ করতে চাননি প্রথমে। এ রকম কয়েকজন বিদ্রোহও করে বসেন। যা হোক, পরে অবশ্য পরিস্থিতি রাজিয়া সুলতানার অনুকূলে আসে। তার অধীন এলাকাগুলোতে শান্তি ফিরে আসে, সুলতানা জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করেন এবং শক্তিমত্তায় সুলতানি সাম্রাজ্য আগের থেকে অধিক বলীয়ান হয়ে উঠতে থাকে। বাংলার পশ্চিমাংশ থেকে শুরু করে সিন্ধের সমস্ত রাজ্যের অধিপতিরা রাজিয়ার আনুগত্য স্বীকার করে নেন। তাকে নিঃশর্ত সমর্থনও দিতে থাকেন। দিল্লির জ্ঞানী-গুণী ও শিক্ষক-ওস্তাদরাও রাজিয়ার অনুরাগী হয়ে ওঠেন। বিদ্যাচর্চা ও পড়াশোনার প্রতি রাজিয়ার বিশেষ নজর ছিল। নিজে পবিত্র কোরআন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছিলেন। তার উদ্যোগে একাধিক বিদ্যালয় ও গবেষণাকেন্দ্র দিল্লিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় তখনকার পণ্ডিতরা তাকে নানা জরুরি পরামর্শ ও সমর্থন দিতেন।
তবে
সাম্রাজ্যের সব অংশে রাজিয়া নিজের সর্বময় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হননি। ইতিহাসবিদ পিটার জ্যাকসন জানাচ্ছেন, রাজপুতদের শক্ত অবস্থান আছে এমন এলাকায় রাজিয়ার আমলে সুলতানি সাম্রাজ্যের ক্ষমতা খর্ব হয়েছিল। গোয়ালিয়রসহ রাজস্থানের যেসব জায়গায় ইলতুতমিশের তৈরি করা হাবশি সেনাদের বিশেষ দল সামরিক দক্ষতা দেখিয়ে ক্ষমতা দখলে সফল হয়েছিল, সেসব জায়গায় তারা রাজিয়ার সময় ক্রমে পায়ের তলার মাটি হারাতে থাকে। রাজপুতদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে এমন পশ্চাদপসরণ হাবশি বাহিনীকে নিঃসন্দেহে ক্ষুব্ধ করেছিল। অনেকের মনে হচ্ছিল, বুঝি রাজিয়ার ভুল সিদ্ধান্ত ও অপরিপক্ব নীতির কারণেই এমনটি ঘটেছে। হাবশিরা কেন রাজিয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন? রাজিয়াকে তাদের এ সমর্থন না করার নেপথ্যে কিছু ঐতিহাসিক ক্রিয়া-প্রক্রিয়া সম্ভবত কাজ করেছিল। পূর্ব আফ্রিকা থেকে আসা হাবশিদের ঐতিহ্যে ঐতিহাসিকভাবেই নারীদের বৃহৎ পরিসরে দেখা হতো না। অন্যদিকে রাজিয়াকে প্রথম থেকেই আন্তরিক সমর্থন দিয়ে আসছিলেন সুলতানি প্রশাসনের যে সদস্যরা, তাদের অধিকাংশই ছিলেন ইউরেশিয়ার স্তেপের পশ্চিমাংশ বা পন্টিক ক্যাসপিয়ান স্তেপ থেকে আসা তুর্কি। এদের অনেকেই আবার এসেছিলেন যাযাবর সমাজ থেকে। স্তেপ অঞ্চলে নারীদের মর্যাদা ও জনপরিসরে তাদের চলাফেরা বা মতের গুরুত্বও অনেকাংশে বেশি ছিল। আর যাযাবর সমাজে নারীরা এমনিতেই অনেক বেশি স্বাধীনতা পেয়ে থাকেন।
রাজিয়া
সুলতানার আমলে কিছু ধর্মীয় গোষ্ঠীর সহিংসতাকে বেশ কঠোরহস্তে দমন করতে হয়েছিল। কট্টর শিয়াপন্থী নুরুদ্দিন নামের জনৈক তুর্কি এ দুটি গোষ্ঠীকে একত্র করে তাদের সংগঠিত করছিল রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে। নুরুদ্দিন সুলতানি সাম্রাজ্যের নানা জায়গায় থেকে নিজের অনুসারীদের দিল্লিতে এনে জড়ো করতে থাকে। গুজরাট, সিন্ধ, মুলতান এবং এমনকি খোদ রাজধানীর আশপাশ এলাকা থেকেও তার অনুসারীরা দিল্লিতে ঠাঁই গাড়ে। এভাবে নানামুখী অপতত্পরতা চালিয়ে সে কিছু মানুষকে দিল্লির সুলতানি শাসনের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। রাজিয়া মসনদে আসীন হওয়ার পর নুরুদ্দিন নতুন শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ছক আঁটল। তবে নিছক বিদ্রোহ নয়, নুরুদ্দিনের মাথায় ছিল আরো ভয়াবহ এক ফন্দি। ১২৩৭ সালের ৫ মার্চ দুপুরে প্রায় হাজারজনের একটি সশস্ত্র দল সম্পূর্ণ নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। রাজিয়া সুলতানার দুই সেনাপতি নাসিরুদ্দিন আইতামার বালরামি ও আমির ইমাম নাসিরের বুদ্ধিমত্তায় অবশ্য পাল্টা লড়াই করা গিয়েছিল। তারা দ্রুততার সঙ্গে ধনুক ও বর্শায় সজ্জিত একদল যোদ্ধাকে সেখানে পাঠিয়ে নুরুদ্দিনের লোকদের শায়েস্তা করেন। সাধারণ জনগণও রুখে দাঁড়ায়, তারা পাথর-ইট ছুড়ে মারছিল। তবে পদদলিত হয়ে অনেকে মারা যায়।
অনেকে
মনে করেন, নুরুদ্দিনের এ বিদ্রোহের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল আসলে রাজিয়াকে মসনদ থেকে হঠানো। ধর্মীয় উসকানি সে দিয়েছিল রাজিয়ার সিংহাসন টালমাটাল করতেই। তাই তার তত্পরতা ধর্মকেন্দ্রিক না যতটা, তার থেকে বেশি রাজনৈতিক। তবে এতে রাজিয়ার শাসনকার্যে বিশেষ সমস্যা হয়নি। বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করার পর সাম্রাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিকতায় ফেরে। সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাজিয়াকে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে সাহায্য করেছিল। কাজেই এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, নুরুদ্দিনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাক বা না থাক, তার ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার কারণে রাজিয়া সুলতানাকে তেমন একটা টালমাটাল দশায় পড়তে হয়নি।
লড়াইটা
ছিল বহুমুখী
রাজিয়া সুলতানাকে তার জীবনে প্রকৃতপক্ষে একাধিক প্রতিবন্ধতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছিল। প্রথম জীবনে পিতার আনুকূল্য ও ইতিবাচক মনোভাব সত্ত্বেও তাকে দিল্লির মসনদে বসার সময় বিরূপতার মুখে পড়তে হয়েছে। তার পিতার অনুসারীরাই প্রথমে তাকে রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে মন থেকে পুরোপুরি দিল্লির সুলতানা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেননি। যদিও পরে পরিস্থিতির চাপে ও রাজিয়ার গুণাবলি দেখে তারা নিজেদের মত পাল্টে আনুগত্য স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আবার ক্ষমতার লড়াইয়ে রাজপুতদের কাছে কিঞ্চিৎ পিছিয়ে পড়া নিয়ে তার অধীন সামরিক কর্তাদের উষ্মা ছিল। নুরুদ্দিনের মতো হঠকারী ধর্মগুরুর তত্পরতাও তাকে বিপাকে ফেলেছিল। তবে শেষমশ রাজিয়াকে যা স্রোতের বিরুদ্ধে লড়তে ও বিপদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল, তা হলো নিজের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তা। জনতাকে তিনি সুশাসন ও ন্যায়বিচার দিয়েছিলেন, বিনিময়ে জনতা তাঁর ওপর নিঃশর্ত ভরসা রেখেছিল।
তথ্যসূত্র:
In Reality a Man
: Sultan Iltutmish, His Daughter, Raziya, and Gender Ambiguity in Thirteenth
Century Northern India- Alyssa Gabbay.
Depiction of
women in the sources of the Delhi sultanate- Farhat Jahan.
শাকের আনোয়ার: প্রাবন্ধিক




