শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের গলায় হাঁটু চেপে ধরল, প্রচণ্ড চাপ অব্যাহত রাখল টানা ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড। কালো মানুষ বলল, শ্বাস নিতে পারছি না, একবার-দুবার নয়, ষোলোবার, তারপর মৃত্যুই তাকে রেহাই দিল পুলিশের বর্বরতা থেকে—প্রতিবাদী মানুষ কাঁপিয়ে তুলল আমেরিকা, মহাপরাক্রমশালী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুঁজতে হলো ভূগর্ভের বাঙ্কার। বর্ণবাদের সমাপ্তি ঘটেনি। এই লেখাটিতে খুবই সংক্ষেপে আমেরিকায় কালো মানুষের ইতিহাস এবং তাদের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থান তুলে ধরা হবে। কালো মানুষ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারেন, তাতে বর্ণবাদের ভেতর-কাঠামোতে খুব একটা পরিবর্তন যে হয়নি, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের আচরণে। পুলিশ কি মানুষ নয়? অবশ্যই, প্রেসিডেন্টকে ‘শাট-আপ’ করিয়েছেন একজন পুলিশ কর্মকর্তাই।
উত্তর আমেরিকা মহাদেশে বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে কালো মানুষের প্রথম আগমন ঘটে ১৫২৬ সালে সাউথ ক্যারোলাইনার উপকূলে স্প্যানিশদের একটি কুঠিতে। নেতৃত্বের লড়াইয়ের সুযোগ নিয়ে এই কালো ক্রীতদাসরা কুঠি ছেড়ে স্থানীয় আমেরিকানদের সঙ্গে মিশে যায়, অনেকেই ফিরে যায় তাদের পূর্বতন ঠিকানা হাইতিতে। ইউরোপীয়দের মধ্যে উত্তর আমেরিকায় স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করে স্প্যানিশরাই, ১৫৬৫ সালে তাদের স্থাপিত কলোনিতে অজানাসংখ্যক ক্রীতদাসও ছিল।
সে সময় ব্রিটিশ রাজত্বে সূর্য অস্ত না যাওয়ার বিষয়টি মিথ্যে নয়। আজকের যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকাই তখন ব্রিটিশ নর্থ আমেরিকান টেরিটরির অন্তর্ভুক্ত ছিল। স্পেনদেশীয় ক্রীতদাস ব্যবসায়ীরা পর্তুগিজ স্লেভ-পিপে (বিশেষভাবে নির্মিত গাদাগাদি করে বহুসংখ্যক ক্রীতদাস পরিবহন করার মতো জাহাজ) জাহাজভর্তি দাস নিয়ে যখন মেক্সিকোর দিকে যাচ্ছিল ব্রিটিশ প্রাইভেটিয়ার (রাষ্ট্রের অনুমোদন ও আক্রমণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত সশস্ত্র জাহাজ) তার গতিরোধ করে এবং বলপূর্বক কিছুসংখ্যক কুড়ির অধিক ক্রীতদাস ভার্জিনিয়ার উপকূলে নামিয়ে রাখে। আমেরিকায় রেকর্ডে থাকা সেখানে আসা প্রথম কালো মানুষ। তাদের চুক্তিভিত্তিক দাস হিসেবে আনা হয়েছে।
জন পাঞ্চ নামের একজন কৃষ্ণাঙ্গ চুক্তিভিত্তিক দাস আরো দুজন সাদা দাসকে সঙ্গে নিয়ে এই কলোনি থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় মাঝপথে গ্রেফতার হয়। ভার্জিনিয়া গভর্নর্স কাউন্সিল অপরাধের শাস্তি হিসেবে তাকে আজীবন দাসত্বের নির্দেশ দেয়, শ্বেতাঙ্গ দুজনের লঘু শাস্তি হয়। ১৬৪০ সালের রেকর্ডে নাম ওঠা এই পাঞ্চ আমেরিকার প্রথম স্বীকৃত দাস। ২০১২ সালে আমেরিকান অনুসন্ধানকারীরা বের করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মায়ের দিকে দ্বাদশ পিতৃপুরুষ হচ্ছেন এই সাজাপ্রাপ্ত দাস জন পাঞ্চ।
১৭৫৩ সালে বেঞ্জামিন বেনেকার থমাস জেফারসনকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেন, বুদ্ধিবৃত্তি বিবেচনায় কালোরা সাদাদের পুরোপুরি সমান। ১৭৬০ সালে প্রথম ফিলাডেলফিয়ায় দাস ব্যবসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ১৭৭৫-এ গঠিত পেনসিলভানিয়া দাস বিলোপ কমিটির পুনর্গঠনের পর বেঞ্জামিন ফ্রাঞ্চলিন এর সভাপতি হন।
১৭৭৬ সালে আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। ১৭৮৩ পর্যন্ত বহুসংখ্যক কালো ক্রীতদাস ব্রিটিশদের হাত থেকে বেরিয়ে আসে।
১৭৮৩ সালে ম্যাসাচমেন্টস সুপ্রিম জুডিশিয়াল কোর্ট দাসপ্রথা বন্ধের আদেশ প্রদান করে।
১৭৮৩ সালে পলাতক ক্রীতদাসদের জন্য দ্য ফিউজিটিভ স্লেভ অ্যাস্ট্রি পাস করা হয়।
১৮০৭ সালে প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসন ক্রীতদাস আমদানি নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেন।
তারপর বহু বিদ্রোহ বহু ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৮০৪ সালে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন আমেরিকান সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দাসত্ব প্রথা বিলোপ করেন। দাসত্ব প্রথা বিলোপসহ সংস্কারধর্মী অনেক কাজের জন্য আততায়ীর হাতে লিঙ্কনকে প্রাণ দিতে হয়।
২০১৭ সালের জুলাই মাসের পরিসংখ্যানে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার ৪ কোটি ১৫ লাখ (১২.৭%) কৃষ্ণাঙ্গ
বা আফ্রিকান-আমেরিকান। যে ১০টি অঙ্গরাজ্যে কালো মানুষের সংখ্যা বেশি সেগুলো হচ্ছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেপ্রাস, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, নর্থ ক্যারোলাইনা, মেরিল্যান্ড, মিশিগান ও লুইজিয়ানা। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কালো মানুষের শহর নিউইয়র্ক।
নিগ্রো
কেমন করে
ব্ল্যাক হলো
দু-একটা কালো মানুষ আমাদের শৈশবে ও তারুণ্যের শুরুতেও দেখেছি যাদের আমরা নিগ্রো বলতাম আর সাদা আমেরিকানরা তাচ্ছিল্য করে বলত নিগার।
সে সময় আমাদের সবচেয়ে প্রিয় নিগ্রো মানুষটির নাম ছিল ক্যাসিয়াস ক্লে—তিনি ধর্মান্তরিত হয়ে হলেন মোহাম্মদ আলী। ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিকে লাইট হেভিওয়েট বক্সিংয়ে মোহাম্মদ আলী স্বর্ণপদক পেলেন, আমেরিকার গৌরব বাড়ল। কিন্তু দেশে ফেরার পর যখন একটি রেস্তোরাঁয় খেতে ঢুকলেন, নিগ্রো হওয়ায় তাকে প্রত্যাখ্যান করা হলো। তিনি তার স্বর্ণপদক ওহাইও নদীতে ছুড়ে ফেলে দেন বলে তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন। সে সময় কোনো কোনো রেস্তোরাঁর সামনে লেখা থাকত ‘নিগার্স অ্যান্ড ডগস নট অ্যালাউড’।
কুকুর ও নিগ্রোদের প্রবেশাধিকার নেই। অষ্টাদশ শতক থেকে বিশ শতকের ষাটের দশকের শেষ ভাগ পর্যন্ত কালো মানুষকে নিগ্রোই বলা হতো। তারপর কিছু সময় নিগ্রোর বদলে ‘কালার্ড’ বলা হতে থাকে, তখন কালো মানুষ বলাটা নিগ্রো বলার চেয়েও বেশি অভব্যতা বলে মনে করা হতো। ১৮৪৮ সালের ‘দ্য নিগ্রো ল অব সাউথ ক্যারোলাইনা’তে বলা হয়েছে, নিগ্রো শব্দটি আফ্রিকান ক্রীতদাস ও তাদের বংশধরদের জন্য প্রযোজ্য হয়ে থাকে; মিসরীয়, মুর কিংবা এশীয় লস্করগণকে নিগ্রোর অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। ১৮৯৭ সালে আফ্রিকান ক্রীতদাস ও তাদের বংশধরদের জন্য আমেরিকান নিগ্রো একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিখ্যাত মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং-ও তার ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ বক্তৃতায় নিজের জাতিকে নিগ্রো বলে উল্লেখ করেন।
দাসত্ব ও নিম্নশ্রেণীর নাগরিকত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় কালো মানুষের অন্যতম নেতা ম্যালকম এক্স এবং আরো কেউ কেউ নিগ্রো কথাটির প্রতি আপত্তি জানালেন। ম্যালকম এক্সই নিগ্রোর বদলে কালোকে গ্রহণযোগ্য মনে করলেন। আফ্রো-আমেরিকান, ব্ল্যাক এবং আফ্রিকান-আমেরিকানও ব্যবহূত হতে শুরু করল। ১৯৭০-এর শুরুর দিকে নিগ্রো কথাটি অগ্রহণযোগ্য বলে কেবল ভাবাই নয়, এর ব্যবহারও বাদ দেয়া হলো।
১৯৬৬ সালে মিসিসিপির প্রতিবাদ মিছিলে স্টককলি কারমাইকেল ‘ব্ল্যাক পাওয়ার’ কথাটি উচ্চারণ করার পর তা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয় তার বই ‘ব্ল্যাক পাওয়ার: দ্য পলিটিকস অব লিবারেশন অব আমেরিকান’ ব্ল্যাক শব্দটিকে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৭০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্ক টাইমস এবং এপি (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস) নিগ্রোর বদলে কালো লিখতে শুরু করে। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে রক্ষণশীলতার অন্যতম দুর্গ যুক্তরাষ্ট্রে সুপ্রিম কোর্টও নিগ্রো উল্লেখ করা বর্জন করে। ১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সুপ্রিম কোর্টে প্রথম কালো বিচারপতি থারগুড মার্শাল নিয়োগ পান। বয়স্ক সাদা এবং এমনকি বয়স্ক কালোরাও নিগ্রো বলতে স্বস্তি বোধ করেন। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র আদমশুমারিতে ২০১০ সালে পুনরায় নিগ্রো ব্যবহার করা হলে আপত্তি ওঠে।
সাদাকালোর
ভেদবিভেদ
রাজনৈতিক দার্শনিক ও মনস্তাত্ত্বিক ফ্রাঞ্জ ফনোঁ (১৯২৫-১৯৬১) তার ‘ব্ল্যাক স্কিন হোয়াইট মাস্ক’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন পৃথিবীজুড়েই কালো মানুষ বৈষম্যপূর্ণ সংস্কার বিরুদ্ধাচরণ ও অবিচারের শিকার। গল্পকাহিনী লোককথা, বইপত্র সাময়িকী, কমিকস, সিনেমা শ্বেতাঙ্গ নায়কের সঙ্গে নিজেকে অভিন্ন বলে গণ্য করতে শিশুদের বাধ্য করে; অন্যদিকে এসব মাধ্যম শিশুদের মনে এই ধারণা প্রোথিত করে দেয় যে কালোরা ঘৃণিত, মোটাবুদ্ধির এবং মডেল হিসেবে কোনোভাবেই শিশুর কাছে গ্রহণীয় হতে পারে না। এটা এক ধরনের সাংস্কৃতিক ফাঁদ।
অর্থনৈতিক
বঞ্চনা
বর্ণবাদী পুলিশের হাতে কালো মানুষের মৃত্যুর অনেক ঘটনা ঘটলে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু পৃথিবীর কথিত শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকার ভিত্তিমূলে ভয়ংকর মোচড় দিয়েছে। করোনাকাল এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত মস্তক হাঁটুতে নামিয়ে এনেছে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু ও তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া করোনাকালীন লকডাউন উপেক্ষা করে লাখ লাখ মানুষকে আমেরিকার প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে রাস্তায় প্রতিবাদের মিছিলে নামিয়ে এনেছে।
আমেরিকার ফোর্বস ম্যাগাজিন শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লালিত বর্ণবাদের পাশাপাশি সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে সাদা ও কালো মানুষের সম্পদ ও আয়বৈষম্যকে দায়ী করেছে।
১৯৭০-এর দশক থেকেই মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের আয়ে স্থবিরতা এসেছে কিন্তু উচ্চবিত্তের আয়ের এতটাই বৃদ্ধি ঘটেছে যে দরিদ্র সাদা মানুষও রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপর যুক্তিসংগত কারণে রুষ্ট হয়ে আছে।
অর্থনীতিবিদ মর্টিজ কুহন, মার্টিজ শুলারিক ও ওলরিস স্টেইনসের ২০১৮ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখানো হয়েছে ১৯৪৯ থেকে গত ৭১ বছরে সাদা ও কালো মার্কিন জনগণের আয়বৈষম্য কমানোর জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ব্রুকিং ইনস্টিটিউটের গবেষণা দেখিয়ে দিয়েছে চলতি শতকের শুরুতে কালো ও সাদা পরিবারের সম্পদের যে অনুপাত ছিল এতে কুড়ি বছরে সাদার পাল্লা আরো ভারী হয়েছে অথচ এই সময়ের মধ্যেই পৃথিবীকে বিস্মিত করে কালো মানুষ বারাক ওবামা আমেরিকার প্রেসিডেন্টও হয়েছেন। বৈষম্যের চিত্রসমূহ:
n ভোক্তার অর্থসম্পদ নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ সার্ভে কালো খানার (হাউজহোল্ড) গড় আয় ও সম্পদের পরিমাণ ২০১৬ সালে ১৭১৫০ ডলার তার বিপরীতে সাদা খানার গড়ে অর্থ ও সম্পদের পরিমাণ ১৭১০০০ ডলার প্রায় ১০ গুণ।
n ওয়াশিংটন পোস্ট কেন্দ্রীয় সরকারে উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে ১৯৬৮ সালে কালো মানুষের বাড়ির মোট সম্পদ ছিল সাদা মানুষের বাড়ির ৯.৪ ভাগ কিন্তু ২০১৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭ ভাগ।
n আনুপাতিক
বাড়ির মালিকানা হিসেবে সাদা মানুষদের বাড়ি ১০০টি থাকলে কালো মানুষের বাড়ি ৪০টি
n পরিসংখ্যান ব্যুরোর হাউজহোল্ড পালন সার্ভে অনুযায়ী করোনাকালে বাড়ির মর্টগেজ-বন্ধকি অর্থ পরিশোধ করতে পারেনি ২৮ কালো মালিক, পরিশোধে ব্যর্থ সাদা মালিক মাত্র ৯ ভাগ। এখান থেকে করোনাকালে চাকরিচ্যুত কিংবা আয় বঞ্চিত কালো মানুষের সংখ্যা যে সাদা মানুষের তিন গুণ তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
n ক্লোজ ডাউন ও লকডাউনের সময় প্রতি পাঁচজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর অন্তত দুজন তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। সেখানে সাদা ব্যবসায়ী প্রতি পাঁচজনে একজন।
n বেশি বেতনের চাকরিতে সাদা আধিপত্য রয়েছে, বেকারত্বের হিসেবেও কালো বেকার হিসেবে সাদা বেকারের ২৫ শতাংশ বেশি।
অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিশ্লেষকরা যথার্থই মনে করেন কালোদের মধ্যে বঞ্চনার ক্ষোভ বরাবরই ছিল আর বহুসংখ্যক সাদা বর্ণবাদ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি।
সামাজিক
ও প্রাতিষ্ঠানিক
বঞ্চনা
n সাদা আমেরিকানদের তুলনায় কালো আমেরিকান বেশি সংখ্যায় গ্রেফতার হয়, বিচারে তারা তুলনামূলকভাবে অধিক সংখ্যায় দোষী সাব্যস্ত হয় এবং কারা ভোগের প্রশ্নেও সাদাদের চেয়ে অনেক বেশি কারাবন্দি থাকে।
n ড্রাগ সেবনকারী সাদা ও কালো আমেরিকান সাধারণত সমপরিমাণ ড্রাগই গ্রহণ করে থাকে। কিন্তু একজন সাদা ড্রাগ সেবনকারীর বিপরীতে গড়ে ছয়জন কালো ড্রাগ সেবনকারী গ্রেফতার হয়ে থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রেফতার কালোদের বেলায় ১১ গুণও হয়েছে।
n চাকরির আবেদন বিবেচনা করে যখন সাক্ষাত্কারের জন্য ডাকা হয়ে তখন নাম শুনেই যাদের সাদা মনে হয় তারা ৫০ ভাগ বেশি ডাক পায়।
n ২০১৫-১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ছাত্রভর্তির মাত্র ১৫ ভাগ কালো। বিভিন্ন কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৩৬ শতাংশকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
n ১৫.৮ ভাগ কালো শিক্ষার্থী বুলিইংয়ের শিকার হয়। মানসিক রোগগ্রস্ত কালোদের ওপর সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের অধিকাংশই শৈশবে বুলিইংয়ের শিকার।
n ২০১৩ থেকে ২০১৭-এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সাদারা গড়ে কালোদের চেয়ে ৪০ ভাগ বেশি চিকিৎসাসেবা পেয়েছে।
n একই অপরাধে সাদা অপরাধীর তুলনায় কালো অপরাধী ১৯.১ ভাগ বেশি সাজাপ্রাপ্ত হয়। যে আদালত আইনের চোখে সমতা প্রতিষ্ঠার শেষ দুর্গ সেখানেই এ বৈষম্য।
n একই মান ও যোগ্যতাসম্পন্ন কালো মানুষের বেকার থাকার সম্ভাবনা সাদা মানুষের দ্বিগুন। আবার কালো মানুষ চাকরি পাওয়ার পর বেতন পাবে সাদা মানুষের চেয়ে ২৫ ভাগ কম।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থাও বর্ণবাদী হিসেবে চিহ্নিত ও নিন্দিত হয়েছে। সাদা ও কালো উভয় অপরাধীর ক্ষেত্রে সাদা মানুষটির বিচারকাজ দ্রুত সমাপ্ত হচ্ছে কিন্তু কালো মানুষকে বিচার শুরুর অপেক্ষায়ই দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হচ্ছে। কালো মানুষ তাদের আইনি অধিকার কম জানে এবং পদ্ধতিগতভাবে এ শিক্ষা তাদের দেয়াও হয় না। ফৌজদারি আদালতের জন্য নির্বাচিত কালো জুরিদের সংবেদনশীল মামলায় রাখা হয় না। উদাহরণ হিসেবে আলাবামা আদালতের ১০ জন কালো জুরির ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধের বিচারকাজ থেকে যুক্তিসংগত কোনো কারণ না দেখিয়েই বাদ দেয়া হয়েছে। বর্ণবাদ মুছে দিতে সবার আগে দরকার সাদা-কালোর সমতা।
এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা




