শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে যশোরের বাণিজ্য অঞ্চলগুলোয় এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ব্যস্ততা। নতুন পোশাক, শাঁখা-সিঁদুর, গহনা ও প্রসাধনসামগ্রী কিনতে কয়েক সপ্তাহ ধরেই ভিড় করছেন ক্রেতারা। শখের সঙ্গে সামর্থ্যের সমন্বয় করে পছন্দের পণ্য কিনছেন তারা। যশোর শহরের বড় বাজার, কালেক্টরেট মার্কেট, কাপুড়িয়াপট্টি, মুজিব সড়ক ও সোনাপট্টিতে গত কয়েক দিন ধরে চলছে পূজার কেনাকাটা। দোকানগুলোয় পোশাক ও পূজার সাজসজ্জার সামগ্রী দেখতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে পছন্দের পণ্য বেছে নিচ্ছেন, করছেন দরদামও।

শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা রুমা সরকার অঞ্জলি শেষে এসেছেন প্রসাধনী ও গহনা কিনতে। সন্তানদের সোনার গহনা উপহার দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও দাম বেশি হওয়ায় কিনেছেন রুপা ও ইমিটেশনের গহনা। তবে অলংকারের এ মন্দা বাজারের বিকল্প হয়ে উঠেছে ইমিটেশন ও সিটিগোল্ডের দোকানগুলো।

পোশাকের বাজারেও রয়েছে কেনাকাটার ব্যস্ততা। শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজের চাহিদা বেশি। বিশেষ করে কাতান, সিল্ক, এমব্রয়ডারি ও জামদানি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে বেশি। সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা। বড় বাজারের ছিটকাপড়ের ব্যবসায়ও ভালো সাড়া মিলছে। ছিটকাপড় দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও এইচএম ক্লথ স্টোরের মালিক রাফিউল আলম বাবু বলেন, ‘তাদের সমিতির অধীনে প্রায় ৪০টি দোকান রয়েছে। গত এক মাস এসব দোকানে ধারাবাহিক কেনাবেচা চলছে। ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানগুলোও ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে দিচ্ছে মূল্যছাড়।’

কেনাকাটায় বাজেটের চাপও রয়েছে। ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলেও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি বলে জানিয়েছেন কিছু ব্যবসায়ী। মুজিব সড়ক দোকান মালিক সমিতির সভাপতি ও ‘তাড়ং’-এর মালিক হাদিউর জামান বাপ্পি বলেন, ‘নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে ক্রেতারা প্রয়োজন বুঝে কেনাকাটা করছেন। ফলে প্রত্যাশা অনুযায়ী বিক্রি হয়নি।’