শারদীয় দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা নির্মাণ, মণ্ডপসজ্জা, আলোকায়ন, পোশাক, প্রসাধনী, মিষ্টি, খাবার, পরিবহন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় নানা পেশার মানুষের কাজ ও আয়ের সুযোগ। ফলে উৎসবের ব্যয় ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় বাজারে, বাড়ে মৌসুমি কর্মসংস্থান।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সভাপতি দেবেশচন্দ্র জানান, এ বছর জেলায় প্রায় ২৫৬টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একটি মধ্যম মানের পূজামণ্ডপ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ মণ্ডপে এ ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। একটি প্রতিমা তৈরিতে মৃৎশিল্পীরা দেড়-দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। প্রতিমা নির্মাণের পাশাপাশি বাঁশ-কাঠ, কাপড়, রং, পেরেক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও সাজসজ্জার উপকরণ কেনায় স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়ছে। এ বছর আলোকসজ্জায় ব্যয় সংকোচন করা হলেও বিভিন্ন ধরনের বাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও জেনারেটর ব্যবহারের ফলে ইলেকট্রিশিয়ান, ডেকোরেটর ও সরবরাহকারীদের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত গড়ে ওঠে মিষ্টি-মিঠাই ও নানা রকমারি খাবারের অস্থায়ী দোকান। মণ্ডপের আশপাশে এসব দোকানে দর্শনার্থীর ভিড় বাড়লে জমে ওঠে বেচাকেনা। ছোট উদ্যোক্তা ও মৌসুমি বিক্রেতাদের জন্য এটি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। উৎসবের চাহিদা মেটাতে মিষ্টি, দই ও অন্যান্য খাবারের উৎপাদন বাড়ে; প্রয়োজন হয় দুধ, চিনি, ময়দা ও অন্যান্য উপকরণের।
পূজা মানেই পোশাক ও কেনাকাটার বড় মৌসুম। পূজার আগে নারী, পুরুষ ও শিশুদের পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও অলংকারের চাহিদা বাড়ে। এতে পোশাকের দোকানের পাশাপাশি জুতার দোকান, প্রসাধনীর ব্যবসা, দর্জি ও ফ্যাশনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিক্রি বাড়ে। বাড়তি চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা আগেভাগে পণ্য সংগ্রহ করেন, ফলে পাইকারি ও খুচরা বাজারে লেনদেন বাড়ে।
কুষ্টিয়া শহরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পোশাকের দোকান ও বিপণিবিতান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিক্রি বাড়লে তার প্রভাব পড়ে পণ্য সরবরাহ, পরিবহন ও বিক্রয়কর্মীদের কাজেও। দুর্গা পূজার অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু মণ্ডপ বা দোকানপাটে সীমাবদ্ধ থাকে না। দর্শনার্থীদের যাতায়াতে রিকশা, সিএনজি ও অন্যান্য পরিবহনের ব্যবহার বাড়ে। মণ্ডপের আশপাশে অস্থায়ী দোকানে খেলনা, ফুল, খাবার ও পূজাসামগ্রীর বেচাকেনা জমে ওঠে। ছবি ও ভিডিও ধারণে কাজ পান ফটোগ্রাফাররা। সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে আয় করেন শিল্পী, সাউন্ড সিস্টেম সরবরাহকারী, মঞ্চ নির্মাতা ও উপস্থাপকরাও। এভাবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ও নানা পেশার শ্রমজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং সেবাদানকারীরা পূজার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।










