মাদারীপুরের বিপণিবিতান কিংবা বাজারের দোকানিরা বলছেন, এবার সরকারি ছুটি বাড়ায় ঢাকাসহ বড় শহরগুলো থেকে জেলার বাসিন্দারা ছুটি কাটাতে নিজ এলাকায় আসছেন। শুধু সনাতনী ক্রেতারাই নন, উৎসবের আমেজে অন্যরাও আসছেন কেনাকাটা করতে।

শহরের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরান বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী অনন্ত মণ্ডল বলেন, ‘এবারের দুর্গা পূজাতে অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে চাকরিজীবীরা বেশি ছুটি পাচ্ছেন। যারা চাকরির প্রয়োজনে নিজ শহরে থাকতে পারেন না, তারাও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি এসেছেন পুজোর ছুটি কাটাতে। সবাই কেনাকাটা করছেন। তাই বেচাবিক্রি বেড়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে কাপড়ের দাম বেশি। কারণ সব কিছুরই দাম বেড়েছে।’

পূজা উপলক্ষে আনা কালেকশনের বিক্রি হচ্ছে বলে জানান পোশাক প্রস্তুতকারী একটি ব্যান্ডের শোরুমের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের শোরুম থেকে অনেকেই পোশাক কিনছেন। বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবারের পুজোতে আমাদের নতুন কালেকশন নিয়েছেন। আশা করছি, পূজা উপলক্ষে আরো এক-দুদিন বিক্রি হবে।

জমে উঠেছে পূজামণ্ডপ ঘিরে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকিকিনিও। পুরান বাজার রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে মেলার আবহ। প্রতি বছর দুর্গা পূজা উপলক্ষে এ মন্দিরের সামনে দশমী ঘিরে মেলা বসে। মেলার বেচাকেনা আগের মতো না থাকলেও মন্দিরে আসা দর্শনার্থীরা শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলনা কিনে নিয়ে যান। এ মেলায় অনেক বছর ধরেই দোকান দেন আবদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অনেক বছর ধরেই মাদারীপুর পুরান বাজারের বড় মন্দিরের সামনে মেলা করছি। কিন্তু এখন আর আগের মতো মেলায় বেচাকেনা নেই। তার পরও যা হয় ভালো।

মাদারীপুর বণিক সমিতির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাদারীপুরের ব্যবসায়ীরা পূজা উপলক্ষে পণ্যের দাম খুব বেশি রাখেন না। তবে এখন ব্যবসায়ীদের সবকিছুই পাইকারিতে আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হয়। সেজন্য কিছুটা দাম বেড়েছে। তবে তা ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই আছে। প্রতি বছরই পূজার সময়ে বেচাকেনা বাড়ে। এবার অনেক দিন ছুটি থাকায় বেশিসংখ্যক চাকরিজীবী বাজারে আসছেন কেনাকাটা করতে।’