আলোর ঝরনা! নেমে এসেছিলে কালো গিরি গুহা হতে
মহা সিন্ধুর পানে যেতে যেতে তোমার চলার পথে
দুই তীর করি শ্যাম—
রচিয়া গিয়াছ কত ছায়াবীথি সুন্দর অভিরাম।
কঠোর উপল আঘাত সহিয়া, লঙ্ঘিয়া বাধা কত
বিকশিত করি তুলেছ নিজেরে সূর্যকরের মতো,
কর্মজীবনে, সংসারে ঘরে ঘরে
তোমার নামের দিব্য বিভার জ্যোতিতে উঠেছে ভরে।
নিত্য কালের স্মরণীয়া হয়ে নিত্য দিনের মাঝে
তোমার সে নাম মহীয়সী হয়ে রাজে।
অন্ধ ঘরের বন্ধনে এক আলোক পিয়াসী পাখি
একদা এক আলোক দ্যুতির সংকেতে উঠি ডাকি,
মেলিল বন্ধ পাখা
বহু বিচিত্র বর্ণ বিভব প্রজ্ঞার আলো মাখা
প্রসারিয়া সেই ডানা
নীল নভ আর মাটির ঘরের দুয়ারে সে দিয়ে হানা
সঞ্চারি দিবালোক
ডেকে বারবার বলে উঠেছিল এবার সময় হোক
আসুক লগ্ন এবার জাগার গানে
এনেছি ত দিন, তবে পথ সন্ধানে
করিব না দেরি আমরা মায়েরা সন্তান নিয়ে বুকে
অন্ধকারার অন্তরালে মরিব না ধুঁকে ধুঁকে,
বিপুলা পৃথিবী, অগাধ আলোক, বৈভব অফুরান
মুক্ত বায়ুতে আয়ু বাড়াইয়া আমাদের সন্তান
ধর্মে, কর্মে উদার মর্মে সেবা সাম্যের গানে
বেঁচে ওঠে যেন মানুষের মতো এই আশা নিয়ে প্রাণে
চির কল্যাণকর কর্মের পথে অবহিত চিতে হয়েছ অগ্রসর
মাতৃস্বরূপা কল্যাণী নারী সার্থক নামা তার
স্বরণের ক্ষণে ঘনায় নয়নে তপ্ত অশ্রু ধার।
ধানমন্ডি: ২১.৪.৬৪









