ভাইকিংরা বিশ্বাস করত তাদের দেবতারা আসগার্ডে বাস করেন (আসগার্ড হলো নর্স দেবতাদের রাজধানী বা আবাসস্থল)। দেবতাদের সন্তুষ্ট রাখতে পারলে তারা ভাইকিংদের বিপদ থেকে রক্ষা করেন। দেবতাদের সন্তুষ্টির জন্য এরা উৎসর্গ অনুষ্ঠান করত, যার নাম ব্লট। এ অনুষ্ঠানে প্রধানত প্রাণী উৎসর্গ করা হতো। প্রচলিত এক কাহিনী মতে, কয়েক বছর উপবাস করার পর সোয়েডসের রাজা দেবতা ওডিনের উদ্দেশে নিজেকে উৎসর্গ করেন। বিভিন্ন ধরনের উৎসর্গ অনুষ্ঠান আছে। বছরের শেষ প্রান্তে করা হয় ইউলেটাইড, যাতে নতুন বছর সৌভাগ্য বয়ে আনে। আরেকটি উৎসর্গ অনুষ্ঠান হয় বসন্তকালে, যখন ফসল বোনা হয়। ফসলের অবস্থা ভালো হলে গ্রীষ্মে দেবতাদের উদ্দেশে প্রাণী উৎসর্গ করা হয়।
সাধারণত পাথরের বেদির ওপর পশু বলি দেয়া হতো। পাথরের এ বেদিকে বলা হতো হর্গ। উৎসর্গকৃত পশুর রক্ত হ্লটবল্লি নামের পাথরের বাটিতে সংগ্রহ করা হতো। এরপর দেবতাদের উদ্দেশে আবৃত্তি করা হতো। আবৃত্তি শেষে পুরোহিত রক্তভরা পাত্র আগুনের শিখার চারদিকে তিনবার প্রদক্ষিণ করান। এ সময় তিনি নানা মন্ত্র পড়তেন। প্রাণীর মাংস দিয়েও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হতো। শেষে পুরোহিত উপস্থিত দর্শকসহ নিজের প্রতি প্রাণীর রক্ত ছিটিয়ে দেন আর বাকি রক্ত বেদিতে ঢেলে দেন। ভাইকিংরা দেবতাদের পূজা করত খোলা স্থানে। এক্ষেত্রে তাদের পছন্দ ছিল বন্য তৃণভূমি। এখানে তারা তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করত। এরা কোনো মূর্তি বা প্রতীক তৈরি করত না। ভাইকিংরা তৃণভূমি, পাথর ইত্যাদিকে পবিত্র মনে করে। অনেক সময় ফসলের খেতে পূজা-অর্চনা করা হতো, যাতে দেবতারা সে ফসলের খেতকে আশীর্বাদ দেন। কখনো কখনো পূজা অনুষ্ঠানের চারপাশ দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা হতো। দড়ি ঘেরা স্থানে সব ধরনের সহিংসতা নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি এখানে কেউ অস্ত্র নিয়েও ঢুকতে পারত না।
এর পরও কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালিত হতো ঘর বা মন্দিরের অভ্যন্তরে। এসব স্থানকে বলা হতো হব। এ হব কোনো সুদৃশ্য ভবন হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা ছিল না। এটি কোনো একটি হলঘর বা খামারের অংশ হতে পারত। ধনীরা তাদের পছন্দের দেবতার জন্য মন্দির তৈরি করতেন। এছাড়া ধর্মীয় পবিত্র স্থানে বিচারকার্য বা ডিংগস অনুষ্ঠিত হতো। কারণ এরা বিশ্বাস করত এতে দেবতারা ন্যায়বিচার করতে সাহায্য করেন।
এছাড়া দুজন ব্যক্তির মধ্যে যেখানে দ্বন্দ্বযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হতো, সে স্থানকেও তারা পবিত্র মনে করে। তারা বিশ্বাস করে সঠিক ব্যক্তিকে যুদ্ধে দেবতারা সহায়তা করেন। ১০০০ খ্রিস্টাব্দে এসে ভাইকিংরা তাদের নিজস্ব ধর্ম ছেড়ে খ্রিস্ট ধর্মে দীক্ষিত হতে থাকেন। এখন তাদের বেশির ভাগের ধর্মই খ্রিস্ট। তবে খ্রিস্টান হলেও তারা তাদের প্রাচীন ধর্মীয় অনেক অনুষ্ঠান এখনো পালন করেন। যেমন ফসলের জন্য উৎসর্গ অনুষ্ঠান।
এসএম রশিদ: লেখক









