যে ইতিহাস গোপন করে আসছে পশ্চিমা দুনিয়া
বাঙালির চাঁদে বসতি আছে যুগ যুগ ধরে। এই গোপন তথ্য যখন ফাঁস হলো, তখন পশ্চিমারা কিছু বলার আগেই আমাদের প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের খুবই আঁতে ঘা লাগল, দাবিটা বিশ্বদরবারে তোলার আগেই তারা হা হা করে ছুটে এল, কী? রসো রসো! কী করছ তোমরা? তোমাদের বঙ্গসন্তান কী করে চাঁদে যায়? চাঁদে তো আমাদের বালাজির চৌদ্দ পুরুষের বসবাস।
বলে কী? বালাজি? কে সে?
আরে তার পুরো নাম চিন্ময় শ্রীমান বালাজি! প্রাচীন ভারতের প্রথম বিজ্ঞানী, যিনি প্রথম নভোযান বা স্পেসশিপ, মোটরগাড়ি ও ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের আবিষ্কারক। পাঁচ হাজার বছর আগে তার জন্ম, চাঁদে। এ পৃথিবীতে নয়। বালাজির মা-বাবা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। তবে কিছু ঐতিহাসিক বিশ্বাস করেন, তার মা-বাবা হয়তো অন্য কোনো গ্রহের গ্রহচারী ছিলেন, নানা গ্রহ ঘুরে ঘুরে শেষে এসে তারা চাঁদে স্থায়ী বসতি গাড়েন এবং কৃষিকাজের পত্তন করেন।
বিখ্যাত মার্কিন নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং, প্রথম আমেরিকান যে ১৯৬৯ সালে চাঁদে নেমে খানিক হাঁটাচলা করেন, ১৯৭৯ সালে তিনি তার জীবনীগ্রন্থ মাই নাইনটিন সেভেন্টিনাইন বায়োগ্রাফিতে লেখেন: চাঁদে হাঁটার সময় চাঁদের পৃষ্ঠদেশে তিনি সাত ফুট ব্যাসের বেশকিছু পদচিহ্ন দেখেছেন। সঙ্গে তিনি একথাও উল্লেখ করেন, চাঁদের মাটিতে আরো কিছু চিহ্ন দেখেছেন, যা তার কাছে গরুর খুরের ছাপ বলে মনে হয়েছে।
আর্মস্ট্রংয়ের জীবনীর এ অংশটুকু ষড়যন্ত্র করে প্রকাশক ছাপার সময় মুছে দিলেও তিনি মৃত্যুর আগে অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে কয়েকজন ভারতীয় বিজ্ঞানীর কাছে তার এই অপকর্মের কথা স্বীকার করে গেছেন এবং এ ঘটনার পর ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেন যে, বালাজির মা-বাবাই প্রথম গরুর প্রতিপালন শুরু করেছিলেন। বিজ্ঞানীরা একথাও নিশ্চিত করেন যে, বালাজি মর্ত্যে এসেছিলেন এ রকম একটা হূষ্টপুষ্ট গরুর পিঠে চড়েই। মর্ত্যে নেমে যে অংশ তিনি সবুজকরণ করেন, তার নামই আজ ভারত। বালাজির রোপিত বীজেই ভারতবর্ষ দ্রুত সুজলা সুফলা শস্যভারে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
বালাজি গঙ্গা নদীতীরবর্তী অঞ্চলের আদিবাসীদের নিয়ে তার উপনিবেশ গড়ে তোলেন এ মর্ত্যে। বিস্ময়করভাবে বালাজির বিশেষায়িত জ্ঞানকাণ্ডের সংস্পর্শে দ্রুতই তার উপনিবেশ একটি আভাগ্রাদ সমাজে পরিণত হলো: পদার্থবিদ, বৈদ্য, অঙ্গমর্দনের চিকিত্সক (আধুনিক সময়ে যাদের বলা হয় ফিজিওথেরাপিস্ট), মানবদরদি (যাকে এ সময়ে বলা হয় ফিলানথ্রপস্টি) আর অন্তত দুজন দ্রুত তাল-লয়ের উদ্দাম সংগীত পরিবেশকের (এ সময়ে যাদের পরিচয় জাজ-ফিউশনিস্ট) আবির্ভাব ঘটল।
বালাজির উপনিবেশের ওই উত্তুঙ্গ উন্নতি পর্বেই আবিষ্কার হয় বিশ্বের প্রথম নভোখেয়াযান, মোটরগাড়ি আর ভ্যাকুয়াম ক্লিনার।
সাম্প্রতিক সময়ে আবিষ্কৃত একটি শিলালিপিকে মনে করা হচ্ছে বালাজি প্রবর্তিত উপনিবেশ সময়কার। প্রাচীন এ শিলাখণ্ডে খোদাই করা আছে একটি নভোখেয়াযানের আকৃতি। খুবই স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায় ওটা একটা আকাশযান, প্রায় এ সময়ের ফ্লাইংসসারের মতো।
বালাজির উপনিবেশ এক দশককালের উপরে স্থায়ী হয়েছিল। একদল অনগ্রসর আদিম নরনারীর আক্রমণে উন্নত এ উপনিবেশ একসময় ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই আদিম অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটেছিল বর্তমান পাকিস্তান অঞ্চল থেকেই। উপনিবেশের দখল নেয়ার পর তার নভোখেয়াযান, গাড়ি, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার আর গরু-গাভী নষ্ট করে ফেলে এবং হত্যা করে।
বালাজি এই বর্বরদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করার নির্দেশ জারি করেছিলেন, কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারই এক দলে আত্মগোপন করে থাকা এক বিশ্বাসঘাতক (যে এরই মধ্যে গোমাংসের স্বাদ বুঝে গিয়েছিল) তার আদেশ পালন করার পরিবর্তে বালাজির গলাতেই উল্টো ফাঁসির রজ্জু পরিয়ে দেয়।
এই হলো ভারতীয় দাবির সারকথা
বঙ্গসন্তানের চাঁদে ব্যবসা স্থাপনের দাবি আমাদের পুরনো শত্রুপক্ষ, যাদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে আমরা স্বরাজ পেয়েছি, তাদের কর্ণকুহরেও প্রবেশ করল এবং ভারতীয় দাবি পেশের একদিন পরই তাদের দাবির নথি ও আলোকচিত্র যথাযথ সংশ্লিষ্ট সকাশে প্রেরিত হলো।
আমেরিকান নভোচারী নীল আর্মস্ট্রং প্রথম চাঁদে পা রেখেছিলেন ১৯৬৯ সালে। আর্মস্ট্রং চাঁদে হেঁটেছেন ঠিক আছে কিন্তু পাকি দাবি হলো: আর্মস্ট্রংই প্রথম ব্যক্তি নন। তাহলে? পাকিস্তানের ইতিহাস রচনা করেছেন যেসব প্রাচ্যবিদ্যাবিদ, তাদের দাবি ভিন্ন; তারা পরিষ্কার করে বলছেন, দুনিয়াবাসী বিস্মৃত হয়েছে, বিশ্বের প্রথম যে ব্যক্তি চাঁদে গেছেন, তিনি একজন মুসলিম যোদ্ধা, কলাম্বার স্লাম; তিনিই প্রথম চাঁদের বুকে হেঁটেছেন এবং এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে নয় শতকে। আর একথা সত্যি চিন্ময় শ্রীমান বালাজি নামে এক ব্যক্তি মার্কিনি আর্মস্ট্রংয়ের আগেই চাঁদে পদচারণা করেছেন, কিন্তু বালাজির জন্মই হয়েছে চাঁদে, তিনি মর্ত্যবাসী কেউ ছিলেন না। কাজেই বালাজি এখানে জন্মসূত্রতার কারণে চাঁদে প্রথম মর্ত্যবাসী— এ দাবি বাদ পড়ে যাচ্ছে। সেদিক বিবেচনায় চাঁদে প্রথম পদচারী তাদের কলাম্বার স্লামই।
কলাম্বারের জন্ম ৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে, বর্তমান আফ্রিকা মহাদেশের কোনো দেশে (নির্দিষ্টভাবে দেশের পরিচয় এখনো বের করতে পারেননি পাকি প্রাচ্যবিদরা, তবে মিসর কিংবা ইয়েমেনের কাছাকাছি কোনো রাজ্যে)। কলাম্বার শৈশবেই দক্ষ উট পাখি পালক হিসেবে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। পরে তার এই পরিচয়ের সঙ্গে আরো যুক্ত হয় নভোচারী, পারমাণবিক পদার্থবিদ আর কুশলী বংশীবাদকের তকমা। এসব খ্যাতি আসে প্রায় কিশোর বয়সেই, মাত্র ছয় বছর বয়সে! ১৭ বছর বয়সে তিনি নতুন এক ধরনের উট পাখি প্রজননে সক্ষম হন, যে উট পাখি আলোর গতির চেয়েও দ্রুত ছুটতে পারে এবং প্রয়োজনে উড়তেও সক্ষম।
কলাম্বার তখন তার রাজ্যের প্রধানকে জানালেন, তিনি পুরো দুনিয়া জয় করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু দুরাত্মা রাজা শুধু তার প্রতিবেশী রাজ্যের উন্নত মুরগি খামারটির দখল নিতে পারলেই খুশি। তাকে আগে মুরগি খামার দখল করেই নিজের প্রমাণ দিতে বললেন। হুকুম পেয়ে কলাম্বার তার উট পাখি ছোটালেন মুরগি খামারের উদ্দেশে, কিন্তু উটের গতি নির্ধারণে সামান্য গড়বড় করে ফেলেন কলাম্বার, কয়েক মিলিয়ন মাইলের হেরফেরের কারণে তার উট পাখি মুরগি খামারের পরিবর্তে গিয়ে হাজির হলো চাঁদের দেশে। যেহেতু কলাম্বার অতিজ্ঞানী, উটে আরোহণের সময় তার স্বনির্মিত নভোচারীর পোশাকও পরনে ছিল। তার তৈরি প্রথম হেলমেট আর ছাগচর্ম আর হাড়ে তৈরি পোশাকও, ফলে চাঁদে তার ল্যান্ডিং হলো সহজ, ঝাঁকুনিবিহীন।
কিন্তু চাঁদে গিয়ে কিছুদিন থেকে কলাম্বারের মন বসল না, বিরান প্রান্তর, গাছপালা নেই, বাওবাব গাছের ডালে দোল খাওয়ার উপায় নেই, তাই আবার উঠে চেপে বসলেন তিনি। এবার পৃথিবীর দিকে উট পাখি ছোটালেন। এবং এ যাত্রায় সফলভাবে মুরগি খামারে অবতরণ করতে সক্ষম হলেন। কিন্তু তার উট পাখি অবতরণের সময় প্রবল চাপ সইতে না পেরে ল্যান্ডিংয়ের সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণ হারাল। উটের শোকে মুহ্যমান কলাম্বার তখন দিগ্বিজয়ের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে একজন সাধারণ যাযাবর বণিকে পরিণত হলেন। অনেক ঘোরাঘুরি শেষে তার আদিভূমি ছেড়ে হাজির হলেন মধ্যযুগের ভারতবর্ষে। ভারত তার পছন্দ হলো। ফলে এখানেই বসতি গাড়লেন (কলাম্বার যখন ভারতে পা রাখেন তখন এ অঞ্চলকে ভারত বলা হতো না)।
নতুন এ আবাসভূমে এসেও কলাম্বারের দেহরক্ষা হলো না, স্থানীয় মূর্তিপূজারিদের পচা শাকসবজি খেয়ে ভয়ানক রকম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মাসাধিককাল শয্যাশায়ী থাকার পর বাইরে বের হয়ে বাড়ির সামনের টালে ঝুলন্ত চালকুমড়া দেখে তাকে ভয়ঙ্কর কোনো মারণাস্ত্র সন্দেহে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করলে বর্বর মূর্তিপূজারিদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হলো। কলাম্বারের বুদ্ধিনাশ ঘটেছে, এ ধারণার বশবর্তী হয়ে প্রথমে তাকে তারা গৃহে অন্তরীণ করা হল, পরে বর্বরদের সঙ্গে তলোয়ার যুদ্ধে প্রাণ হারালেন কলাম্বার স্লাম।
কলাম্বারের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার উদ্ভাবিত সুপারসনিক উট পাখি ও অন্যান্য সরঞ্জাম প্রস্তুতের জ্ঞান হাতছাড়া হয়ে যায় দুনিয়াবাসীর।
কয়েকশ বছর পর, ১৯৬০ সালে সিআই এজেন্টরা নৃতাত্ত্বিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে কলাম্বারের দেহাবশেষ খুঁড়ে বের করল এবং সঙ্গে সংগৃহীত উটের কঙ্কাল ব্যবহার করে আমেরিকা এক অতি উন্নত রকেট নির্মাণ করল (অ্যাপোলো ১১), যাতে চড়ে আর্মস্ট্রং চাঁদে পৌঁছেন।
শুধু রকেটই নয়, কলাম্বারের অলৌকিক কৃতিত্ব তদঅঞ্চলের অধিবাসীরা বিস্মৃত হলেও মার্কিনিরা তাকে অবিষ্কারের পর তার অর্জিত জ্ঞান নিজেদের করে নিতে কোনো রকম পিছপা হয়নি, তারা স্টারটেক নামের একটি চলচ্চিত্রেও কলাম্বারের নানা কীর্তিকাহিনী বর্ধিত কল্পনায় সংযোজিত করেছে।
উপসংহার
উপরের দুটো দাবিই খুবই উর্বর! কিন্তু ভারত আর পাকিস্তানের নথির বিপরীতে প্রতিবেদকের যে প্রমাণ হস্তগত হয়েছে, তা দিয়ে সব দাবিকেই নাকচ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।
নীল আর্মস্ট্রং সাহেবের জীবনীর কিছু অংশ গায়েব করে দিলেও অনেক চেষ্টায় প্রকাশক লাভিন সাহেবের বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে আর্মস্টং সাহেবের ‘আনএডিটেড অটোবায়োগ্রাফি অব আ মুনওয়াকার’। সে বইয়ের অধ্যায় সাতে, পৃষ্ঠা ১৪৩, স্পষ্টভাবে বলা: তিনি হাঁটার একপর্যায়ে আচমকা একটি কণ্ঠস্বর শুনতে পান, ‘ফান বাই ফান!’ বিস্মিত আর্মস্ট্রং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আবিষ্কার করতে পারেননি চাঁদে ফান (আনন্দের কথা কেন বারবার বলা হচ্ছিল) শব্দ কীভাবে উচ্চারিত হলো, পরে আরেক জায়গায় তিনি বলেছেন, শ্মশ্রুমণ্ডিত একটি মনুষ্যমূর্তির হাতে একটা সবুজাভ পাতা ধরা ছিল, যাকে ইঙ্গিত করে তিনি বারবার ফান ফান শব্দটি উচ্চারিত করছিলেন।
কিন্তু একে বিরাট এক দুর্ভাগ্য বলে অভিহীত করেছেন আর্মস্ট্রং যে কৌশলগত কারণে ওই লোকের সঙ্গে আর বেশিদূর বাতচিতের সুযোগ হয়নি তার, কারণ তার অক্সিজেন টিউব থেকে বারবার তাকে সতর্ক করা হচ্ছিল, তখনো ফিরে না গেলে বড়জোর আর মিনিটখানেক তার নিঃশ্বাস চালিয়ে যাওয়ার জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করা যাবে।
পৃথিবীতে ফিরে এসে একথা নাসার কয়েকজন ঊর্ধ্বতনকে বললেও তারা কেউ বিশ্বাস করেননি আর্মস্ট্রংয়ের কথা, তারা একে চাঁদের হ্যালুসিনেশন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে আত্মজীবনীতে আর্মস্ট্রং স্পষ্টভাবে লোকটির হাতে ধরা পাতার সঙ্গে অনেক পরে ভারত সফরে এসে পানের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন।
কাজেই পানের দোকানদারির জন্য বিশ্বখ্যাত কারা, বাংলাদেশের নোয়াখালীর গৌরব... চাঁদেও, ভাবুন।
(এখানে চুপি চুপি বলি, এই প্রতিবেদকও নোয়াখালীর বটেন)।
আর নতুন আরেকটি খবর দিই, মঙ্গল গ্রহ থেকেও সম্প্রতি মার্কিন স্পেসশিপের কিছু পাথরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তাতে পাওয়া গেছে পান পাতার ছাপ, মানে ফসিল। কাজেই শুধু চাঁদে না মঙ্গলেও আমাদের উপস্থিতি প্রমাণ হওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার।
সূত্র: ডন, হিন্দুস্থান টাইমস, স্ক্রল, নিউইর্য়ক টাইমস





