জোজে লুইশ পেইশোতু সমসময়ের পর্তুগিজ সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নাম। তিনি একাধারে কবি ও ঔপন্যাসিক। জন্ম ১৯৭৪ সালে, পর্তুগালের আলেন্তেজু প্রদেশের গালভেইয়াস্ গ্রামে। এরই মধ্যে পর্তুগিজভাষী দুনিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার তার ঝুলিতে জমা হয়েছে। অনূদিত কবিতা দুটি তার ‘আ ক্রিয়াঁসা এম হুইনাস্’ (২০১২) কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া
আমরা, আইফেল টাওয়ারে
আইফেল টাওয়ারে উঠছি আমরা
ধীরে ধীরে এলিভেটরে
তোমার মোলায়েম কণ্ঠস্বরের
আলতো ছোঁয়ায় বিনীত
ধীরে ধীরে সিঁড়িতে
তোমার শান্ত আঙুলের
ধীর প্রতিধ্বনিতে তুমি শান্ত
আইফেল টাওয়ারে উঠছি আমরা
উঠি আর নিজেদেরকে খুঁজে পাই
নির্দিষ্টতায়
প্যারিস ছড়িয়ে আছে ভুবনে
সমস্ত কিছুর বাঁচা বাড়া বিস্তার
মাথা ছাড়িয়ে সমস্ত চরাচর
যা বাঁচে আর দৌড়য় রাস্তায়
রাস্তায়, আমাদের নিচে
আমরা আমাদের শিরায়-উপশিরায়
আমাদের হূদয়ে ঢালে
আলো আর রাতের প্যারিস ওই
দূরে
আমরা উঠছি
ধীর লয়ে হাওয়া
তোমার চুলে আমার হাতে
ধীর লয়ে হাওয়া
তোমার গায়ে আমার হাতে
আমরা উঠছি
প্যারিস এক মস্ত আধার
আমাদের
আমরা পাঁচজন
খাওয়ার টেবিলে, আমরা ছিলাম পাঁচজন
আমার বাবা, আমার মা, আমার বোনেরা
আর আমি। এর পর, আমার বোন বড়টির
বিয়ে হয়ে গেল। এর পর, আমার বোন ছোটটির
বিয়ে হয়ে গেল। এর পর, আমার বাবা মারা গেলেন। আজ,
খাওয়ার টেবিলে, আমরা পাঁচজন,
আমার বোন বড়টিকে বাদ দিয়ে
যে আছে তার বাসায়, আমার বোন ছোটটিকে বাদ দিয়ে
যে আছে তার বাসায়, আমার বাবাকে
বাদ দিয়ে, আমার বিধবা মাকে বাদ দিয়ে। এই টেবিলে
এরা প্রত্যেকে একটি খালি জায়গা যেখানে
আমি একলা খাই। কিন্তু এরা সারাজীবনই থাকবে
খাওয়ার টেবিলে, আমরা সবসময় পাঁচজন থাকব।
যতদিন আমাদের কোনো একজন জীবিত থাকবে, আমরা সবসময়ই
পাঁচজন থাকব।
পর্তুগিজ থেকে তর্জমা: রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী




