মীর জাফর
বাংলা ভাষায়
নাম হিসেবে
ব্যবহূত নাকি
বিশেষণ, অন্তত
১৭৫৭ সালের
পর থেকে
বিশেষণ হিসেবেই
বেশি ব্যবহূত
হয়েছে। বাংলাভাষী
কোনো মানুষ
তার সন্তানের
নাম মীর
জাফর রাখবেন
না, এটা
হলফ করেই
বলা যায়।
সে অর্থে
মীর জাফরকে
ঘৃণা করলেও
এ বিষয়ে
সবাই একমত
হবেন যে
তিনি বাংলা
তথা ভারতীয়
উপমহাদেশের ইতিহাসের
এক অতিগুরুত্বপূর্ণ
চরিত্র, যিনি
রীতিমতো বাঙালির
ভাষা-সংস্কৃতির
অংশ হয়ে
গেছেন। তিনি
এমনকি শেষ
স্বাধীন নবাব
সিরাজউদ্দৌলার চেয়েও
শক্তিশালী, নেতিবাচক
অর্থে হলেও;
কারণ ইতিহাস
বদল সিরাজ
করতে পারেননি,
করেছিলেন মীর
জাফর।
আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর
মধ্য দিয়ে
ভারতবর্ষে মোগল
শাসন ব্যবস্থা
দুর্বল হয়ে
যায়। তার
শাসনামলেই বিভিন্ন
আঞ্চলিক শক্তির
উত্থান ঘটছিল।
তার মৃত্যুর
পর বিভিন্ন
অঞ্চলে রাজনৈতিকভাবে
উচ্চাভিলাষী একদল
অভিযাত্রীর দেখা
পাওয়া যায়।
কেন্দ্রীয় শাসন
দুর্বল হয়ে
যাওয়ায় বিভিন্ন
অঞ্চলে ক্ষমতা
কাঠামো শিথিল
হয়ে যায়
এবং এতে
জায়গা তৈরি
হয় রাজনৈতিক
উচ্চাভিলাষী ব্যক্তিদের
ভাগ্য পরখ
করে দেখার।
বাংলাও ভারতের
অন্যান্য অঞ্চল
থেকে ব্যতিক্রম
ছিল না।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
ও হত্যাকাণ্ড
দৈনন্দিন জীবনের
অংশ হয়ে
উঠেছিল।
সে সময়
বাংলার আবির্ভূত
রাজনৈতিক উচ্চাভিলষীদের
অনেকের জীবনের
প্রাথমিক কাল
সম্পর্কে খুব
বেশি তথ্য
পাওয়া যায়
না। মীর
জাফরও তার
ব্যতিক্রম ছিলেন
না। কোনো
দরবারি বিবরণী
থেকে তার
জীবন সম্পর্কে
তেমন তথ্য
পাওয়া যায়
না। তার
জন্মতারিখ কিংবা
জন্মস্থানের কোনো
তথ্যও কোথাও
নেই। তিনি
প্রাথমিক জীবনে
কোনো প্রাতিষ্ঠানিক
শিক্ষা পাননি
এবং এ
মূর্খতা তাকে
সারা জীবন
ভুগিয়েছে। কিন্তু
এটা নিশ্চিত
হওয়া যায়
যে মীর
জাফর তারুণ্যে
ভালো সামরিক
প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন।
সমসাময়িক ইতিহাসবিদ
ও বিবরণী
রচয়িতারা মীর
জাফরের সমর
কুশলতার কথা
উল্লেখ করেছেন।
বাংলার নবাব
হওয়ার আগ
পর্যন্ত মীর
জাফরের জীবনকে
একজন সৈনিকের
জীবন হিসেবেও
বিবেচনা করা
যায়।
মীর জাফর
ঠিক কবে
ভারতের মাটিতে
পা রেখেছিলেন
তা কেউ
জানে না।
তার কথা
আমরা প্রথমবার
শুনতে পাই
নওয়াব সুজা-উদ-দিন
খানের শাসনামলে।
১৭৩৪ সালে
অসটান্ড কোম্পানিসংক্রান্ত
একটি ঘটনায়
মীর জাফরের
নাম সামনে
আসে। নবাব
মীর জাফরকে
নির্দেশ দেন
কোম্পানির স্থাপনা
দখল করে
তাদের বন্দি
করতে। নিজের
ছোট এক
বাহিনী নিয়ে
মীর জাফর
অসটান্ড কোম্পানির
কুঠি ঘিরে
ফেলেন। এমন
কৌশলগত অবস্থান
নেন যে
কোম্পানির সেনারা
গুলিগোলা ছুড়লেও
তাদের গায়ে
লাগবে না।
কুঠিসংলগ্ন নদীতেও
মীর জাফর
তার আধিপত্য
নিশ্চিত করেন।
কোম্পানির লোকজন
আত্মসমর্পণে বাধ্য
হন। কোনো
সন্দেহ নেই,
এ ঘটনায়
মীর জাফর
একজন দক্ষ
সামরিক নেতা
হিসেবে নিজেকে
প্রতিষ্ঠা করেন।
মীর জাফরের
সামরিক গুণাবলি
আলিবর্দি খানের
দৃষ্টি আকর্ষণ
করে। তিনি
১৭৪০ সালে
নবাব সরফরাজ
খানের বিরুদ্ধে
তার যুদ্ধে
মীর জাফরকে
সেনাপতি হিসেবে
নিয়োগ দেন।
তার কর্মকাণ্ডে
আলিবর্দি খান
মুগ্ধ হয়েছিলেন
এবং তার
ওপর দেহরক্ষীদের
একটি দল
এবং মানসবের
দায়িত্ব অর্পণ
করেন। এরপর
তিনি মীর
জাফরকে ‘বকশি’
পদেও বসান।
এ পদটি
ছিল মূলত
খাজাঞ্চির, কিন্তু
বাস্তবে তা
ছিল সেনাবাহিনী
প্রধানের। ধীরে
ধীরে আলিবর্দি
খান রাজ্যে
মীর জাফরের
অবস্থান তার
পরই তুলে
আনেন। এতদিন
পর্যন্ত মীর
জাফর ছিলেন
বেতনভুক্ত একজন
সাধারণ সৈনিক।
তার বেতন
ছিল ১০০
রুপি। আর
এখন তার
বেতন বেড়ে
পাঁচ গুণ,
অর্থাৎ তার
মাসিক বেতন
দাঁড়ায় ৫০০
রুপি। এমনকি
আলিবর্দি খান
তার বৈমাত্রেয়
বোন শাহ
খানুমকে বিয়ে
দেন মীর
জাফরের সঙ্গে।
কোনো সন্দেহ
নেই যে
এ বিয়ে
সমাজে মীর
জাফরের অবস্থানকে
তুলে দিয়েছিল
এবং দরবারের
রাজনীতিতে তার
অংশগ্রহণের সুযোগ
তৈরি করে
দেয়।
সমসাময়িক ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিবরণী এটা নিশ্চিত করে যে আলিবর্দি খানের শাসনামল ও তার মৃত্যু-পরবর্তী কয়েক বছর যুদ্ধের ময়দানে মীর জাফর তার সাহস ও সামরিক জ্ঞানের গভীরতার প্রমাণ দিয়েছিলেন। এসব যুদ্ধের অনেকগুলো এমনকি রাজ্যের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। যেকোনো গুরুতর পরিস্থিতিতে নবাব তার সঙ্গে আলোচনা করতেন।
মীর জাফরকে
বাংলার সেনাবাহিনীর
ডেপুটি কমান্ডার
হিসেবে নিয়োগ
দেয়া হয়।
আলিবর্দি খান
তখন বাংলা
ও বিহারের
ওপর তার
শাসন-নিয়ন্ত্রণ
প্রতিষ্ঠা করেছেন।
কিন্তু ওড়িশা
তখনো শাসন
করছেন রুস্তম
জং। ওড়িশার
শাসনক্ষমতা দখলের
জন্য মীর
জাফরকে সঙ্গে
নিয়ে আলিবর্দি
খান মুর্শিদাবাদ
থেকে যাত্রা
করেন ১৭৪১
সালের জানুয়ারিতে।
পথিমধ্যে রুস্তম
জংয়ের জামাই
মির্জা বকর
আচমকা আলিবর্দির
সেনাদলের ওপর
হামলা চালায়।
এ হামলায়
বাংলার সেনাবাহিনী
ছত্রভঙ্গ হয়ে
পড়ে এবং
বিশৃঙ্খলা দেখা
দেয়। কিন্তু
মীর জাফরের
সাহস ও
তত্ক্ষণাৎ বুদ্ধি
পরিস্থিতি সামাল
দেয়। সমসাময়িক
গোলাম হোসেনের
লেখা থেকে
সেদিন যুদ্ধের
ময়দানে মীর
জাফরের সমর
কুশলতা ও
সাহসের পরিচয়
পাওয়া যায়।
এখানে মীর
জাফরের বিজয়
কটক শহরকে
আলিবর্দি খানের
অধীনে নিয়ে
আসে। কিন্তু
মীর জাফর
শহর ছেড়ে
যাওয়ার পর
পরই মির্জা
বকর শহরের
নিয়ন্ত্রণ ফিরে
পেতে আক্রমণ
করে বসে।
শহরের তখন
শাসক ছিলেন
সাইয়েদ আহমেদ।
তিনি মীর
জাফরের কাছে
সাহায্য চেয়ে
বার্তা পাঠান।
দ্রুত সাহায্য
পাওয়া শাহজাদা
সাইয়েদের জন্য
দরকার ছিল।
মির্জা বকর
যখন শুনলেন
যে মীর
জাফর কটকের
১০ মাইলের
মধ্যে এসে
পড়েছেন, তখন
তিনি তিনি
বন্দি সাইয়েদকে
তার সেনাপতির
হাতে তুলে
দিয়ে নির্দেশ
দেন, বাংলার
সেনাবাহিনী কটকে
ঢুকলেই যেন
সাইয়েদকে হত্যা
করা হয়।
এসব নির্দেশ
দিয়ে বকর
নিজে কটক
ত্যাগ করেন।
মীর জাফর
সাইয়েদকে জীবিত
উদ্ধার করেন
এবং তাকে
একটি হাতির
পিঠে চড়ান
আর নিজে
পেছনে পেছনে
আসেন তার
সেনাবাহিনীর সঙ্গে।
কোনো সন্দেহ
নেই, মীর
জাফর সেদিন
পৌঁছতে দেরি
করলে সাইয়েদ
আহমেদের আর
বাঁচার কোনো
সম্ভাবনা থাকত
না।
মীর জাফর
ছিলেন আলিবর্দি
খানের বিশ্বস্ত
কর্মচারী, যিনি
তার নির্দেশে
কারো জীবন
নিতেও দ্বিধা
করতেন না।
মির্জা বকরের
সঙ্গে সম্পর্ক
থাকায় নবাব
আলিবর্দি খান
ময়ূরভঞ্জের রাজাকে
শাস্তি দেয়ার
সিদ্ধান্ত নেন।
এ রাজা
নবাবের কাছে
সমঝোতার অনুরোধ
করেছিলেন। আলিবর্দি
খান তাকে
দরবারে আসতে
বলেন। তিনি
মীর জাফরকে
নির্দেশ দেন
দরবারে প্রবেশ
করামাত্র রাজা
ও তার
দেহরক্ষীদের হত্যা
করার। রাজা
তার আসন
গ্রহণ করামাত্র
মীর জাফর
তাকে আক্রমণ
করেন এবং
নিমেষে টুকরো
করে ফেলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যে
রাজার সঙ্গীরাও
আর কেউ
জীবিত রইলেন
না।
কোনো সন্দেহ
নেই, আলিবর্দি
খানের সামনে
মীর জাফর
এটা প্রমাণ
করে দিয়েছিলেন
যে যুদ্ধের
ময়দানে তিনি
যেমন শত্রুর
মোকাবেলা করতে
পারেন, তেমনি
প্রয়োজন হলে
ঠাণ্ডা মাথায়
খুন করতেও
তার হাত
কাঁপে না।
খুব সম্ভবত
এ কারণেই
পরবর্তীকালের সব
যুদ্ধে মীর
জাফরকে বাংলার
সেনাবাহিনীর নেতা
হিসেবে পূর্ণ
ক্ষমতা দিয়ে
প্রেরণ করা
হয়েছিল।
১৭৪৪ সালে
অসটান্ড কোম্পানি
আবার মাথা
তোলার চেষ্টা
করে, যাদের
কুঠি একসময়
মীর জাফর
নবাবের পক্ষে
দখল করে
নিয়েছিলেন। কোম্পানির
একটি জার্মান
সেনাদল রাতের
আঁধারে কুঠিতে
অবস্থানরত নবাবের
সেনাদের ওপর
অতর্কিত হামলা
চালায় এবং
অনেককে হত্যা
করে। নবাব
মীর জাফরকে
নির্দেশ দেন
কোম্পানির এ
হামলার জবাব
দিতে। মীর
জাফর কুঠি
পুনর্দখলে এগিয়ে
যান, কিন্তু
কুঠিতে অবস্থানরত
জার্মান সেনারা
একটি জাহাজ
নিয়ে নদীপথে
পালিয়ে যেতে
সক্ষম হয়।
প্রচলিত আছে
যে মীর
জাফর ১০
হাজার রুপি
ঘুষের বিনিময়ে
এ জার্মান
সেনাদের পালিয়ে
যেতে সাহায্য
করেছিল। তারা
যাতে পালাতে
পারে, সেজন্য
মীর জাফর
শুধু স্থলপথে
কুঠি অবরোধ
করেন, জলপথ
অরক্ষিত ছিল।
যা হোক
কুঠি মীর
জাফরের দখলে
আসে।
এরপর মারাঠাদের
সঙ্গে লড়াইয়ে
মীর জাফর
সাফল্য দেখান,
কিন্তু সাফল্যের
পরিপ্রেক্ষিতে বেড়ে
যায় তার
মদ ও
সঙ্গীতে আসক্তি।
১৭৪৭ সালে
মারাঠাদের অগ্রসর
অভিযানের খবরে
নবাবের অনুমতি
ছাড়াই তিনি
পিছু হটে
আসেন। এতে
আলিবর্দি খান
ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন।
তিনি তার
সেনানায়ক আতাউল্লাহ
খান ও
ফখরুল্লাহ খান
বেগকে পরিস্থিতি
সামাল দিতে
প্রেরণ করেন।
এর মধ্যে
আতাউল্লাহ খান
মীর জাফরের
সঙ্গে মিলে
আলিবর্দি খানের
বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে
লিপ্ত হন।
আলিবর্দি খানকে
হত্যা করে
বাংলার শাসনক্ষমতা
দখলই ছিল
তাদের লক্ষ্য।
মীর জাফর
আতাউল্লাহ খানকে
শর্ত দিয়েছিলেন
যে আলিবর্দি
খানকে হত্যার
পর তিনি
বিহারের শাসনভার
গ্রহণ করবেন
আর আতাউল্লাহ
বাংলার। মীর
জাফর উচ্চাভিলাষী
ছিলেন, অন্যদিকে
একের পর
এক সামরিক
সাফল্য তাকে
স্বভাবতই রাজনৈতিক
ক্ষমতা দখলের
হাতছানি দিয়েছিল।
অন্যদিকে মীর
জাফর ষড়যন্ত্রে
যোগ দেয়ার
যুক্তি হিসেবে
হয়তো এটাও
ভেবে থাকবেন
যে আলিবর্দি
খান যদি
তার প্রভুর
উত্তরাধিকারকে হত্যা
করে ক্ষমতা
দখল করতে
পারেন, তাহলে
তিনি কেন
আলিবর্দি খানকে
সরিয়ে নিজে
ক্ষমতায় বসবেন
না। ষড়যন্ত্রের
কথা ফাঁস
হয়ে যায়।
বন্ধুদের পরামর্শে
মীর জাফর
এ পরিকল্পনা
থেকে সরে
আসেন এবং
দরবারে যান
আলিবর্দি খানের
কাছে নিজের
আনুগত্য প্রকাশ
করতে। কিন্তু
আলিবর্দি খান
মীর জাফরকে
সহজভাবে গ্রহণ
করেননি। প্রথমত,
মারাঠাদের সঙ্গে
যুদ্ধে পিছু
হটে যাওয়ার
জন্য তাকে
ভর্ত্সনা করেন।
দরবার থেকে
তাকে অপমান
করে বের
করে দেয়া
হয়। এ
অপমানের পরিপ্রেক্ষিতে
মীর জাফর
কয়েকদিন ঘর
থেকে বের
হননি। অন্যদিকে
নবাব তার
জ্বালা আরো
বাড়িয়ে দিয়েছিলেন
ষড়ন্ত্রের আরেক
চরিত্র আতাউল্লাহ
খানের সঙ্গে
নরম আচরণ
করে। এমনকি
নবাব আতাউল্লাহর
সঙ্গে সাক্ষাৎ
করতে তার
শিবিরে গিয়েছিলেন।
এ ঘটনা
মীর জাফরকে
ক্রুদ্ধ করেছিল।
কিছুদিনের মধ্যে
নবাব মীর
জাফরের প্রয়োজনীয়তা
অনুভব করতে
শুরু করলেন
এবং তার
সঙ্গে সমঝোতার
একটা সুযোগ
খুঁজতে লাগলেন।
এমন সময়
মীর জাফরের
এক আত্মীয়
মারা যান
এবং শোকার্ত
জাফরকে সান্ত্বনা
জানানোর উছিলায়
নবাব যান
তার সঙ্গে
দেখা করতে।
কিন্তু ঔদ্ধত্য
আর বোকামিতে
মীর জাফর
নবাবের সঙ্গে
সম্পর্কোন্নয়নের এ
সুযোগ হাতছাড়া
করেন। নবাবকে
তিনি যাথযথ
সম্মান দেখিয়ে
স্বাগত জানাননি।
এবার নবাব
অপমানিত হন।
এ রকমই
ছিল মীর
জাফরের জীবনের
প্রথম ভাগ।
সাহসী সৈনিক
হিসেবে পেশাগত
জীবনে উন্নতি
এবং একসময়
সাফল্যে অন্ধ
হয়ে ক্ষমতালিপ্সুতে
পরিণত হওয়া
এবং পরিণতিতে
ষড়যন্ত্রে যুক্ত
হতে থাকা।
সূত্র: অতুল চন্দ্র
রায় রচিত
দ্য
ক্যারিয়ার অব
মীর জাফর
খান
অবলম্বনে
এসএম রশিদ: নন-ফিকশন লেখক




