২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এসএমই খাত কতটা গুরুত্ব পেয়েছে? নতুন বাজেটে এ খাতের বিকাশে কতটা সহায়ক হবে বলে মনে করেন?
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এসএমই খাতে উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণ সহজীকরণ, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনের দিকে জোর দেয়া হয়েছে। এ বাজেটে তিন বছরের মধ্যে ১৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, তা আমাদের এসএমই খাত উন্নয়নের জন্য নিঃসন্দেহে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সুতরাং এ বাজেট এসএমই খাতের টেকসই উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক হবে।
দেশে বড় আকারের বিনিয়োগের গতি এখন ধীর। এমন অবস্থায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য আপনাদের মতে এসএমই খাতে বাড়তি মনোযোগ, সহায়তা প্রয়োজন আছে কি? দেশের এসএমই খাত এখন কেমন করছে?
দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এসএমই খাতে বাড়তি মনোযোগ ও সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের বড় ভূমিকা আছে। তাছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ থাকে সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে খেলাপি ঋণের সার্বিক চিত্র দেখলে বোঝা যায়, এমএসএমই গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের আগ্রহ অনেক বেশি। এসএমই খাত ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। তবে তহবিল ও বাজার সংযোগে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।
এসএমই খাতে অনেক উদ্যোক্তা ব্যাংক ঋণের সুযোগের বাইরে আছেন। তাদের জন্য ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে কী কী করা প্রয়োজন?
এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ, মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা ও ক্যাশফ্লো-ভিত্তিক ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা অনেক ব্যাংকেরই রয়েছে। এগুলোয় জোর দেয়ার পাশাপাশি নতুন ধরনের পণ্য ও সেবার মাধ্যমে, উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে আমরা এ খাতের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিক আর্থিক ইনক্লুশন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা এ খাতের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। উল্লেখ্য, সীমান্ত ব্যাংক এরই মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন গ্রামে শাখা ও উপশাখা স্থাপনের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তাকে এসএমই খাতে অন্তর্ভুক্তির জন্য আমরা"সীমান্ত ব্যাংক ‘প্রান্তিক উদ্যোগ’ নামে বিশেষায়িত পণ্যসেবা চালু করেছি, যেখানে ১০/৫০/১০০ টাকার হিসাবধারীরাও ঋণসেবা নিতে পারবেন।
দক্ষতা ও তথ্যের ঘাটতি, প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা দেশের এসএমই খাতের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। এসব সমস্যা দূর করতে কী ধরনের পদক্ষেপ/উদ্যোগ প্রয়োজন?
এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, ই-কমার্স, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া ব্যাংকের মাধ্যমে পরামর্শসেবা দেয়া যেতে পারে।
বাংলাদেশে কীভাবে এসএমই খাতকে আরো কার্যকরভাবে অর্থনীতির মূলধারায় আনা যায়?
করছাড়, সহজ ঋণ সুবিধা, এক্সপোর্ট ও ই-কমার্সে সংযুক্তি, সরকারি ক্রয় পলিসিতে এসএমই পণ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ খাতকে অর্থনীতির মূলধারায় আনা সম্ভব। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গঠন করা দরকার।
এসএমই খাতে কোন ধরনের প্রজেক্টকে আপনি সম্ভাবনাময় মনে করেন?
সেবা খাত (পরামর্শক, আইটি, হেলথকেয়ার), কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, নারীদের হস্তশিল্প/ফ্যাশন পণ্য, পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন সম্ভাবনাময় প্রজেক্ট। এছাড়া স্থানীয় পণ্যকে ব্র্যান্ডিং করে রফতানিযোগ্য করার উদ্যোগও সম্ভাবনাময়।
এসএমই খাতে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য। তাদের সহায়তা দিতে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে কি?
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা তহবিল বরাদ্দ, প্রশিক্ষণ ও জামানতবিহীন ঋণের ব্যবস্থা থাকলেও তা আরো বাড়ানো উচিত। নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণ ও নারী হেল্প ডেস্ক খুলে সহায়তা দেয়া যেতে পারে। আমরা এরই মধ্যে নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য যেমন—শুধু প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ‘নারী শক্তি’, পাশাপাশি ‘সীমান্ত ব্যাংক প্রান্তিক উদ্যোগ’ ও ‘এসএমবিএল আস্থা’ পণ্যের মাধ্যমেও ঋণ বিতরণ করছি। তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক গঠিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিল থেকে রেয়াতি সুদে জামানতবিহীন ঋণ বিতরণও অব্যাহত রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে আর্থিক সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় নারীদের ব্যাংকিং সম্বন্ধে ধারণা দিয়ে যাচ্ছি এবং তা অব্যাহত থাকবে।
সাধারণ এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণ গ্রহণের সুবিধা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেটওয়ার্ক বিশেষভাবে ভূমিকা নিতে পারে। উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছতে কীভাবে আপনাদের এজেন্ট, উপশাখা বা শাখা ভূমিকা রাখছে?
ব্যাংকের শাখা ও উপশাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উদ্যোক্তার কাছে সেবা পৌঁছানো হচ্ছে। শাখা ও উপশাখা থেকে ঋণ আবেদন গ্রহণ, কর্মকর্তা দ্বারা সরাসরি যোগাযোগ ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে দূর-দূরান্তের উদ্যোক্তারা সুবিধা পাচ্ছেন। আমাদের শাখা ও উপশাখায় হেল্পডেস্ক স্থাপনের মাধ্যমে এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে ব্যাংকিং সেবা ও পরামর্শ দেয়া হয়।










