দেশের চামড়াজাত পণ্যের সফল উদ্যোক্তা ও ডিজাইনারের নাম নেয়া হলে প্রথম সারিতেই আসে তানিয়া ওয়াহাবের নাম। চামড়া শিল্পে তার সম্পৃক্ত হওয়ার গল্পটা শুরু হয়েছিল আজ থেকে আরো ২০ বছর আগে। মাত্র ১০ হাজার টাকায় ২০০৫ সালে কাজ শুরু করেন। প্রথম কর্পোরেট অর্ডার ছিল একটি বড় কোম্পানির জন্য ৬০০ ডায়েরি তৈরি। বর্তমানে তার ব্যবসায়িক লেনদেন ৩ কোটি টাকার ওপরে
ব্যবসায়িক কাজের হাতেখড়ি হয় শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায়ই। উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে তানিয়া পড়াশোনা শুরু করেন ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে। ছাত্রজীবন থেকে অল্পবিস্তর ব্যবসা শুরু তার। ঢাকার ইসলামপুর থেকে কাপড় কিনে ডরমিটরির শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা বা ক্যাফেটেরিয়ায় ঘরে বানানো খাবার সরবরাহ। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার সুবাদেই মাথায় আসে চামড়াজাত পণ্য নিয়ে কাজ করার। ওই ধারাবাহিকতায় উৎপাদন আর বিপণনের কাজটা শুরু করেন স্নাতক শেষ বর্ষে এসে। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমি মাত্র একজন শ্রমিক নিয়ে আমার কাজটি শুরু করেছিলাম। এখন আমাদের অধীনে প্রায় ৮০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। উদ্যোক্তা হলে নিজে সাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়।’
২০০৫ সালে ছোট পরিসরে হাজারীবাগে একটা দোকান আর একটা মেশিন দিয়ে কাজ শুরু করেন করপোরেট গিফট তৈরির। ২০০৮ সালে যাত্রা হয় তার কারখানা ‘কারিগর’-এর। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে কারিগর। ছোট কারিগর বড় হয়েছে। এখন তার কারখানায় নিয়মিত কাজ করছেন অর্ধশতাধিক লেদার প্রডাক্ট তৈরির কারিগর। অনিয়মিত তালিকায় আছেন আরো দুই শতাধিক শ্রমিক। দেশ ও বিদেশের অনেক নামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছে কারিগর। নিজের প্রতিষ্ঠান কারিগরের সঙ্গে সঙ্গে সামলাচ্ছেন ‘ট্যান’ নামে একটি অনলাইন বিজনেসও।
তানিয়া ওয়াহাবের ব্র্যান্ড ট্যানে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়। যেমন করপোরেট গিফট, মানিব্যাগ, কম্পিউটার ব্যাগ, অফিশিয়াল ব্যাগ, মেয়েদের ফ্যাশনেবল ব্যাগ, বেল্ট, ডায়েরি, জ্যাকেট ইত্যাদি। এছাড়া উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শও দিয়ে থাকেন তানিয়া।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তাকে তিনি জানান, চামড়ার বিভিন্ন পণ্য ইকো-ফ্রেন্ডলিভাবে তৈরি করতে চান তিনি এবং বিদেশেও আরো বেশি পরিমাণে পণ্য রফতানি করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল টার্গেট এখন বিদেশে রফতানি করা। চামড়ার তৈরি পণ্য কীভাবে ইকো-ফ্রেন্ডলি হিসেবে তৈরি করা যায় সেটির ওপর নজর দিচ্ছি। এরই মধ্যে আমরা বিদেশী অনেক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলেছি। বিভিন্ন দেশে গিয়ে আন্তর্জাতিক মেলাগুলোয় অংশগ্রহণের চেষ্টা করছি। রফতানির ক্ষেত্রে আমাদের যে মূল সমস্যা তা হলো লেদার শিল্পে আমাদের দেশকে অন্যান্য দেশ তেমনভাবে চেনে না। গার্মেন্টস শিল্প দিয়ে বাংলাদেশকে চেনে। আমাদের শিল্পটিকেও বাইরের দেশে চেনাতে হবে। সেজন্য সরকারি সহায়তা অনেক জরুরি। দেশের মানুষকেও এ দেশীয় পণ্য কেনার প্রতি আগ্রহ হতে হবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে।’










