১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এবং অর্থনীতিতে শূন্যতার সৃষ্টি হয়। তখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হয়। প্রথমে একটি উপদেষ্টামণ্ডলী এবং পরে মন্ত্রিসভা তৈরি করা হয়। এম সাইফুর রহমান তখন থেকেই সামনের সারিতে চলে আসেন। তিনি প্রথম দিকে বাণিজ্য ও পরবর্তী সময়ে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করেছিলেন। ঠিক একইভাবে ক্লোজ ইকোনমিকে মার্কেট ইকোনমিতে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করেছিলেন।
সাইফুর রহমান সে সময়টায় প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন। তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল সততা। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে অসাধারণ মেধা, দক্ষতা দিয়ে তিনি দেশের প্রায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতিকে টেনে ওপরে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন।
দেশের প্রধান অর্থনৈতিক যে অর্জন তার একটি বিদেশে শ্রমিক প্রেরণ, আরেকটি হচ্ছে গার্মেন্ট খাতের বিকাশ। এ কাজগুলো জিয়াউর রহমানের সময়ই শুরু হয়। এক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থা তৈরি করার জন্য সাইফুর রহমান সাহেব তখন যে কাজগুলো করেছিলেন তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। যেমন ব্যাক টু ব্যাক এলসি, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা—এসব দিয়ে তিনি নতুন বিনিয়োগকারীদের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনি দেশের অর্থনীতিতে একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিলেন।
পরবর্তীকালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ভ্যাট প্রবর্তন করে সাইফুর রহমান রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে আরেকটা নতুন অধ্যায় শুরু করলেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার দূরদৃষ্টি ছিল। তিনি আর্থিক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন এবং তিনি সেটা করতে সক্ষমও হয়েছিলেন। ম্যাক্রো ইকোনমিকে তিনি স্থিতিশীল করেছিলেন।
সাইফুর রহমান যখন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, তখন বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বলা হয়েছে ‘ইমার্জিং টাইগার’ অর্থাৎ উদীয়মান ব্যাঘ্র হিসেবে তুলনা করা হয়েছিল।
একটা সময় আমাদের জিডিপি গ্রোথ রেট সাত পেরিয়ে গিয়েছিল। আমি মনে করি, এটা শুধু সাইফুর রহমানের দূরদৃষ্টির কারণেই সম্ভব হয়েছিল। অর্থনীতিকে সচল করার ব্যাপারে তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য। আমরা তাকে সবসময় স্মরণ করি। ভবিষ্যতে যারা কাজ করবেন তারা সাইফুর রহমানের সততা-যোগ্যতা, দূরদৃষ্টি-প্রজ্ঞাকে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সেভাবেই কাজ করবেন।
*স্মৃতিচারণগুলো ২০২৪ সালে এম সাইফুর রহমানের সংবর্ধনা (মরণোত্তর) উপলক্ষে বণিক বার্তার বিশেষ প্রকাশনা ‘কৃতী মুখ’ থেকে নেয়া










