তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এবং সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পান কিনা?

আমরা মূলত উন্নয়নে কাজ করছি। আমাদের দেশে নারী ও শিশু পুষ্টি সচেতনতার অভাব, বাল্যবিবাহ, অকাল মাতৃত্ব এবং ভিত্তিহীন অনেক ধরনের কুসংস্কার দেখা যায়। সার্বিক পর্যায়ে রোগীদের সেবার তুলনায় ডাক্তারের আনুপাতিক হার খুবই কম। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে গর্ভবতী নারী ও শিশুর পুষ্টিজনিত মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি, তবে সেটা যথেষ্ট নয়।

মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারের সক্রিয় সহায়তা প্রয়োজন। পাশাপাশি নারীর স্বাস্থ্যরক্ষায় স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো অপরিহার্য পণ্যগুলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজলভ্য করতে আমরা কাজ করছি, ফলে ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। গত ১০ বছরে নারীর স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার ১০ থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশ হয়েছে, বাকি ৭০ শতাংশ ব্যবহার করছেন না।

মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গেলে কী ধরনের প্রতিবন্ধতা তৈরি হয়?

আগে একসময় মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনার কথা বলাই যেত না। এখন আমরা সেই তুলনায় অনেক ভালো অবস্থায় আছি। তবে পিরিয়ড-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে আলোচনা করা যায় না। এ সোশ্যাল ইস্যু নিয়ে আমরা কাজ করছি। এ পরিবর্তন আসতে অনেক সময় লাগবে। এ পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করতে সরকারি সহযোগিতা দরকার।

নারী ও পুষ্টি নিয়ে এসএমসির কার্যক্রম কতটা কার্যকর?

আমাদের অধিকাংশ কাজ প্রি-প্রেগন্যান্সি ও শিশু পুষ্টি সার্ভিস নিয়ে। আমাদের প্রায় ১৫ হাজার সেবাদাতা রয়েছে আমাদের ব্লু স্টার প্রোগ্রামে। সারা দেশে তারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে প্রি-প্রেগন্যান্সি ও শিশুর পুষ্টিসেবা দিচ্ছে। এছাড়া আছে গ্রীন স্টার, পিংক স্টার এবং রোজ স্টার দিচ্ছে বিশেষায়িত সেবা। গ্রামের নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য গোল্ড স্টার প্রোগ্রাম রয়েছে। যেখানে তারা এসএমসির বিভিন্ন পণ্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে এসএমসির অবদান কতটুকু?

এসএমসি নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দিন দিন এর ব্যাপ্তি বাড়ছে, ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি রয়েছে আমাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম। এ বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে অর্জিত লভ্যাংশ দিয়ে পরিচালিত হয় আমাদের সব জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো ও কর্মসংস্থান। আমাদের পণ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখছে। তাই আপনি যখন এসএমসি পণ্য বেছে নেন, দেশের জনমানুষের কল্যাণে আপনি সরাসরি অবদান রাখছেন।