আপনাদের ফ্রিজ উৎপাদন কারখানাটি কোথায় অবস্থিত? আপনাদের ফ্রিজের প্রযুক্তি, সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাই।

আমাদের দুটি বিশাল আকারের ফ্যাক্টরি রয়েছে। একটি গাজীপুরের ধীরাশ্রমে আর অন্যটি ময়মনসিংহের ত্রিশালে। ত্রিশাল ফ্যাক্টরিতে ফ্রিজ উৎপাদন করা হয়। মিনিস্টার রেফ্রিজারেটরের আধুনিক ও নান্দনিক ডিজাইন খুব সহজেই রান্নাঘরকে আকর্ষণীয় করে তোলে। গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী স্টেইনলেস স্টিল, গ্লাস ডোর ও বোল্ড স্টেটমেন্ট উভয় ধরনের পরিমার্জিত ডিজাইন তৈরি করে মিনিস্টার ইলেকট্রনিকস। মিনিস্টার রেফ্রিজারেটরের এজ-লেস ডিজাইনগুলো নজর কাড়বে সবারই। এছাড়া মিনিস্টার রেফ্রিজারেটরের রয়েছে উন্নত মানের কুলিং সিস্টেম। অত্যাধুনিক কম্প্রেসর ও সেন্সর খাবার সতেজ এবং স্বাদ সংরক্ষণে সহায়তা করে। উন্নত প্রযুক্তির এনার্জি সেভিং টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের খরচ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সহায়তা করে। দেশীয় বাজারে শতাধিক মডেলের মিনিস্টার ফ্রিজ ও ফ্রিজার পাওয়া যায়, যা গ্রাহকের চাহিদা ও পছন্দকে কেন্দ্র করে ডিজাইন করা হয়েছে, রাখা হয়েছে সাশ্রয়ী দাম।

দেশে ফ্রিজের বাজার কেমন অবস্থায় আছে?

মূল্যস্ফীতি ও ডলারের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে, যা ফ্রিজের উৎপাদন ও আমদানিতে প্রভাব ফেলেছে। ফ্রিজ উৎপাদনে ব্যবহৃত বেশকিছু কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিনির্ভর। ডলারের উচ্চমূল্যের কারণে এ উপকরণগুলোর দাম বেড়েছে, যা ফ্রিজের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি করেছে। ফলে বাজারে ফ্রিজের দাম বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

গত এক বছরে ফ্রিজের দামের ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য হয়েছে কি?

গত এক বছরে ফ্রিজের দাম বেশ অনেকটাই বেড়েছে। কোম্পানিভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন। যদি মিনিস্টার ফ্রিজের কথা বলি, মিনিস্টার ফ্রিজের দাম অন্যসব কোম্পানির চেয়ে অনেক কম বেড়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সর্বপ্রধান কারণ হলো ডলারের মূল্যবৃদ্ধি। যেহেতু আমাদের বিভিন্ন কাঁচামাল বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হয়, তাই আমাদের আমদানিতে খরচ বাড়ায় পণ্যের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে আমরা খুব সামান্য মূল্যবৃদ্ধি করেছি ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে। আমাদের লাভ কিছুটা কম হলেও গ্রাহকের সন্তুষ্টিই আমাদের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশে ফ্রিজের বাজারের আকার ও প্রবৃদ্ধি এখন কেমন? তাতে আপনাদের হিস্যা কতখানি?

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে ফ্রিজের বাজার এখন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি, যার বার্ষিক চাহিদা ৩০ লাখ ইউনিটেরও বেশি। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের ফ্রিজের বাজারের বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ২ শতাংশ হারে। গত কয়েক বছরে মিনিস্টারের মার্কেটও বেড়েছে। রেফ্রিজারেটরের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই বর্তমানে পূরণ হয় দেশীয় কোম্পানির রেফ্রিজারেটর দ্বারা, যেখানে মিনিস্টারের অংশীদারত্ব ১৫-২০ শতাংশের মধ্যে। বাকি ২০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভর করে।

উচ্চপ্রযুক্তির ফ্রিজ নিয়ে দেশের ক্রেতাদের আগ্রহ কেমন?

বর্তমান সময়ে উচ্চপ্রযুক্তির ফ্রিজগুলোর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেশ লক্ষণীয়। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কারণে ক্রেতারা এখন এমন ফ্রিজ খুঁজছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ ও আরামদায়ক করে তুলবে।

নতুন প্রযুক্তির ফ্রিজগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। ফলে ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ বিল কমিয়ে আনতে পারেন। আধুনিক ফ্রিজগুলোয় এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা খাদ্যের সতেজতা ও পুষ্টিগুণ দীর্ঘদিন পর্যন্ত বজায় রাখে।

বিদ্যুতের খরচ ও বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে ক্রেতারা এক ধরনের দুশ্চিন্তায় থাকেন। আপনাদের ব্র্যান্ডের ফ্রিজে এ দুটো বিষয় নিয়ে ক্রেতারা কতটা নিশ্চিন্তে থাকবেন?

মিনিস্টার ফ্রিজে উন্নত মানের কম্প্রেসার ও এনার্জি সেভিং টেকনোলজি থাকায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। ক্রেতাদের বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য আমাদের সারা দেশে তিন শতাধিক সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। এছাড়া আমাদের ডেডিকেটেড কল সেন্টারের মাধ্যমে গ্রাহকের যেকোনো সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করা হয়। ফলে মিনিস্টার ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনে গ্রাহক শতভাগ নিশ্চিন্তে থাকবেন।

সামনেই ঈদুল ফিতর। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের কোনো বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন কি?

মিনিস্টার গ্রাহকের কথা চিন্তা করে বছরজুড়েই নানা আকর্ষণীয় অফার দিয়ে থাকে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মিনিস্টার নিয়ে এসেছে ‘কোটিপতি হোন’ অফার। এ অফারে মিনিস্টার ফ্রিজ, এসি, টিভি, ওভেন, ওয়াশিং মেশিন ক্রয় করলে সঙ্গে পাচ্ছেন স্ক্র্যাচ কার্ড আর কার্ড ঘষে ক্রেতাদের কোটিপতি কিংবা লাখপতি হওয়ার সুযোগ। এছাড়া রয়েছে একটির সঙ্গে আর একটি ফ্রি, বিশাল ডিসকাউন্টসহ নিশ্চিত উপহার।

ফ্রিজ বাদে অন্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যের বাজার বাংলাদেশে কেমন? টাকার মূল্যমানে তা কত?

বাংলাদেশে ফ্রিজ ছাড়া অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যের বাজারও বেশ বড়। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বর্তমানে হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বাজারের আকার বছরে ২১-৩০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এ বাজার প্রতি বছর ১৫-২০ শতাংশ হারে বাড়ছে।

আপনারা কী কী হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য উৎপাদন করেন?

আমরা ফ্রিজ, টিভি, এসির পাশাপাশি মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ওয়াশিং মেশিন, গ্রাইন্ডার, রাইস কুকার, ইলেকট্রিক কেতলি, ফ্যান, ইলেকট্রিক আয়রন উৎপাদন করছি। এছাড়া আমাদের বিভিন্ন নতুন হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

দেশে হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের ভবিষ্যৎ কেমন দেখছেন?

বাংলাদেশের হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতে আগামী কয়েক বছরে ব্যাপক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তির উন্নয়ন, ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধি, ও স্থানীয় উৎপাদনক্ষমতার প্রসার এ খাতকে শক্তিশালী করছে। তবে মূল্যস্ফীতি, ডলারের উচ্চমূল্য ও কাঁচামালের আমদানি জটিলতা কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।