রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, মূল্যস্ফীতি, ডলারের উচ্চমূল্য—এসবের মধ্যে ফ্রিজের বাজার কেমন অবস্থায় আছে?
ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটর আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে খুবই গুরত্বপূর্ণ একটা অনুষঙ্গ। তাই মানুষ প্রয়োজনের তাগিদেই এটি কিনে থাকেন। নানাবিধ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও দেশে ফ্রিজের বাজার বেশ আশাব্যঞ্জক। তবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, আর মূল্যস্ফীতির ফাঁদে পড়ছে সাধারণ মানুষ। বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে পণ্য উৎপাদনে ও কাঁচামাল আমদানিতে আমাদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
গত এক বছরে ফ্রিজের দামের ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য হয়েছে কি?
বিশ্বব্যাপী ও স্থানীয়ভাবে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়সহ উৎপাদন খাতে অন্যান্য খরচ বহুগুণে বেড়ে গেছে। ফলে উৎপাদনকারীদেরও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করতে হচ্ছে। তবে আশার কথা এত চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও যমুনা দেশ ও দশের সার্বিক স্বার্থে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আমাদের উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করি। অর্থাৎ দাম না বাড়িয়ে ক্রেতাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ব্র্যান্ডটি তুলে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে গ্রাহকের কাছে সেরা পণ্যটি পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য সামনে রেখেই দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপ তাদের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেডের মাধ্যমে ২০১৪ সালে বৃহৎ পরিসরে ইলেকট্রনিকস বা হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদনে যাত্রা শুরু করে।
আপনাদের ফ্রিজ উৎপাদন কারখানা স্থাপন এবং এর প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে চাই।
ইনোভেশন ফর স্মার্টার লাইফ এটা হচ্ছে আমাদের পে লাইন। আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের গ্রাহকের চাহিদা অনুসারে ইনোভেশন (উদ্ভাবন) করছি। প্রতিনিয়তই নিত্যনতুন ফিচারস ও ডিজাইনের ফ্রিজ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের টিম পণ্যের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও মানোন্নয়নে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে গ্লাস ডোর ফ্রিজের প্রথম উদ্যোক্তা যমুনা ইলেকট্রনিকস। সম্প্রতি আমরা বেশকিছু স্মার্ট রেফ্রিজারেটর বাজারজাত করেছি। এরই মধ্যে ক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাচ্ছি। আমরা দীর্ঘস্থায়ী, সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, আকর্ষণীয় ডিজাইন, উন্নত কম্প্রেসার, ওয়ারেন্টি, বিক্রয়-পরবর্তী যথাযথ সেবা ও আধুনিক প্রযুক্তির পণ্য সরবরাহ করছি। এ কারণেই পাঁচ কোটি মানুষের আস্থা যমুনা রেফ্রিজারেটর।
যমুনা রেফ্রিজারেটরে রয়েছে আল্ট্রা মাইক্রোফোমিং ইনসুলেশন টেকনোলজি, যা ফ্রিজের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ধরে রাখা, দীর্ঘক্ষণ খাবার সংরক্ষণ করা ও খাবার প্রকৃতির মতো সতেজ রাখায় কাজ করে। এছাড়া যমুনা রেফ্রিজারেটর ইনভার্টার প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় এটি সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। পাশাপাশি আমাদের প্রতিটি রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজ সিলিকন মুক্ত জেল দিয়ে তৈরি হয়। আমরা শতভাগ ফুড গ্রেডেড ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করি। সেই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব আর৬০০ গ্যাস ব্যবহার করা হয় যমুনা ফ্রিজে। যমুনা রেফ্রিজারেটরে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গ্যাস কিট। আমাদের ফ্রিজে রয়েছে সর্বোচ্চ ১০ বছরের ওয়ারেন্টি। বাংলাদেশের বেস্ট কুলিং পারফরম্যান্স ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ যমুনা। এছাড়া নতুনত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা টাচ ডিসপ্লে, মোবাইল নোটিফেশন, বিল্ট ইন ব্লুটুথ, মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ—এ ধরনের প্রযুক্তি আমাদের ফ্রিজে সংযুক্ত করেছি।
বিদ্যুতের খরচ ও বিক্রয়োত্তর সেবা নিয়ে ক্রেতারা এক ধরনের দুশ্চিন্তায় থাকেন। আপনাদের ব্র্যান্ডের ফ্রিজে এ দুটো বিষয় নিয়ে ক্রেতারা কতটা নিশ্চিন্তে থাকবেন?
যেকোনো প্রযুক্তিগত পণ্যের জন্য বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং আফটার সেলস সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা ক্রেতার কাছে সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করি। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থাকায় আমাদের ফ্রিজ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। যমুনা একমাত্র ব্র্যান্ড, যার উৎপাদন ত্রুটি ১ শতাংশেরও নিচে। যে কারণে আমাদের বিক্রয়-পরবর্তী অভিযোগের সংখ্যা শূন্যের কাছাকাছি। তাই যমুনা রেফ্রিজারেটর কেনার ক্ষেত্রে ক্রয়-পরবর্তী দুশ্চিন্তা ক্রেতাদের নেই বললেই চলে। তার পরও বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি থানায় সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য আমাদের দেশব্যাপী সার্ভিসিং সেন্টার রয়েছে।
সামনেই ঈদুল ফিতর। ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের কোনো বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন কি?
সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস পবিত্র মাহে রমজান চলছে, আর সামনেই ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ বাড়াতে যমুনা ইলেকট্রনিকস নিয়ে এসেছে ‘ডাবল খুশি-সিজন থ্রি’। এ ক্যাম্পেইনের আওতায় গ্রাহক যমুনা প্লাজা, যেকোনো ডিলার শপ ও শোরুম থেকে ফ্রিজ বা অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স কিনেই রেজিস্ট্রেশন করে জিতে নিতে পারবেন ঈদ উপহার। লটারির মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহেই একের অধিক ভাগ্যবান পেয়ে যেতে পারেন বিদেশ ভ্রমণের সুবর্ণ সুযোগ। এছাড়া সব পণ্যে ডিসকাউন্ট তো থাকছেই।
যমুনা কী কী হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য উৎপাদন করে?
জীবনের সব প্রয়োজন-আয়োজনে পাশে থাকতে যমুনা ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইলস কাজ করে যাচ্ছে। আামদের উৎপাদিত হোম অ্যাপ্লায়েন্সগুলোর মধ্যে রয়েছে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, এসি, এলইডি টিভি, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, মিক্সার গ্রাইন্ডার, জুসার, ইলেকট্রিক কেতলি, আয়রন, গ্যাসস্টোভ, ইনফ্রারেড ও ইনডাকশন কুকারসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লায়েন্স।
দেশে হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের ভবিষ্যৎ কেমন?
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে নানা ধরনের ইলেকট্রনিক হোম অ্যাপ্লায়েন্সের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে গ্রাম থেকে শহর কিংবা শহরতলি সব জায়গায় ইলেকট্রনিক পণ্যের শোরুম দেখতে পাওয়া যায়, যা স্থানীয় শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটা সময় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর এ শিল্প এখন অত্যন্ত উজ্জ্বল। সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি সহায়তা এক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। তবে গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণ ও কাঁচামাল আমদানি সহজীকরণে সরকার আরেকটু মনোযোগ দিলেই এ শিল্প আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিরাট ভূমিকা রাখবে।





