এ প্রেক্ষাপটে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা এখন সময়ের দাবি।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে স্বল্পমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অনুমোদন, গ্রিড সংযোগ, নেট মিটারিং এবং লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও নির্ধারিত সময়সীমার আওতায় আনতে হবে। এ লক্ষ্যে একটি কার্যকর ওয়ান স্টেপ সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। যাতে প্রকল্প অনুমোদন, গ্রিড সংযোগ, বিভিন্ন সংস্থার ছাড়পত্র এবং লাইসেন্সিং একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করা যায়। পাশাপাশি নীতিগত ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে কর-প্রণোদনা, সহজ অর্থায়ন, স্বল্প সুদে গ্রিন ফাইন্যান্স এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।

মধ্যমেয়াদে একটি সমন্বিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি, হালনাগাদ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ এবং বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগ, এসআরইডিএ, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম সংযোজন, স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি, ওপেন অ্যাকসেস ব্যবস্থা এবং প্রতিযোগিতামূলক বিদ্যুৎ বাজার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সৌর, বায়ু, বায়োমাস ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য উৎসের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও অন্যান্য প্রযুক্তির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও–সরকারের সমন্বিত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি একটি স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত রোডম্যাপ প্রণয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আকর্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।

ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল আলম: সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিএসআরইএ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, এনগ্রীন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড