যে কারণে বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের প্রচেষ্টা সফল হয়নি। অথচ প্রতিবেশী দেশগুলো নিজস্ব মজুদ থেকে শুরু করে উচ্চ উৎপাদন বজায় রাখতে পেরেছে।
আমাদের গ্যাস খাতে এ মুহূর্তে বৃহৎ আকারে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এজন্য প্রয়োজনে বিদেশী পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিতে হবে। তাদের মাধ্যমে ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রম চালাতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের এ মুহূর্তে দেশে সবচেয়ে বেশি গ্যাসের চাহিদা বিদ্যুৎ খাতে। এ চাহিদা কমাতে হলে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, যাতে গ্যাসের ওপর চাপ কমে। পাশাপাশি গৃহস্থালির কাজে পর্যায়ক্রমে ন্যাচারাল গ্যাস থেকে বেরিয়ে এসে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। দেশে জ্বালানি নিরাপত্তায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়টি এখন ভাবিয়ে তুলেছে।
দেশীয় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর বাইরে এখনো ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি সাশ্রয়ী। ভারতের পাওয়ার এক্সচেঞ্জ থেকে কম মূল্যে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি করা গেলে দেশীয় জ্বালানি তেলভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন কম করা যাবে। এতে বিপিডিবি সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি আরো বড় পরিসরে ভেবে দেখা যেতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিনির্ভরতার বৈশ্বিক ঝুঁকি এড়াতে চীন ও পাকিস্তানের মতো আমাদেরও এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও দীর্ঘমেয়াদি আত্মনির্ভরশীলতার পথে হাঁটতে হবে।
কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন বিভিন্ন সময় অস্থির হয়ে উঠছে। বিশেষ করে আমেরিকা-ইরান দ্বন্দ্বের জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় কাতার ও ওমান থেকে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি আসা এক প্রকার বন্ধ হয়ে গেছে। দেশে এলএনজি আমদানির মোট ৭২ লাখ টনের মধ্যে ৩৬ লাখ টনই এ দুই দেশ থেকে আনা হতো। এখন আমাদেরকে চড়া মূল্যে আন্তর্জাতিক খোলা বাজার থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। ফলে এসব জটিল পরিস্থিতি এড়িয়ে চলতে হলে নিজস্ব উৎসে আমাদের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোকে আরো দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। যেমনটি মার্কিন কোম্পানি শেভরন তাদের গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।










