আমি বলছি, বাংলাদেশে যে পরিমাণ সম্ভাবনা তা কাজে লাগানো হয়নি। জোরালো অনুসন্ধানের পথে গেলে প্রচুর গ্যাস পাওয়া যেত। এটা স্বতঃসিদ্ধ। পৃথিবীর সব ডেল্টা এরিয়ায় গ্যাস আছে। বাংলাদেশে এর ব্যতিক্রম হবে না। বৈজ্ঞানিক সূত্র অনুযায়ী, এখানে গ্যাসের সম্ভাবনা খুবই ভালো। সে সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের যে পরিমাণ অনুসন্ধান করা দরকার, আমরা কখনই সেটা করিনি। গত দুই দশকে করা যায়নি। এ কথা যদি না বোঝা হয় বা কেউ বুঝতে না চান, সেখানেই সমস্যা। আমাদের দেশে বহুবিধ সায়েন্টিফিক অ্যাসেসমেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে ২০০১ সালে ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং পেট্রোবাংলার যৌথ একটা মূল্যায়ন হয়েছিল। তারা সর্বজনীন পদ্ধতিতে মূল্যায়নটা করেছিল। এ মূল্যায়নে তারা সম্ভাব্যতা যাচাই করে বলেছে, এখানে আরো ৩২ টিসিএফ অনাবিষ্কৃত গ্যাস পাওয়ার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে। তারা এটাও বলেছে, ৮ দশমিক ৫ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশ বছরে এক টিসিএফ গ্যাস ব্যবহার করে। এখন যদি আমরা সর্বোচ্চ সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে ৯০ শতাংশের দিকেও যাই, তাহলে হাতে আট বছরের গ্যাস থাকার কথা। সুতরাং সংকট তো এখন আসার কথা না। এরপর নরওয়েজিয়ান পেট্রোলিয়াম ডিরেক্টরেট কোম্পানি আরেকটা অ্যাসেসমেন্ট করে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এটাও যৌথ ছিল। এগুলো কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায়ই হয়েছে। নরওয়ের এ সরকারি কোম্পানি বলেছিল, ৩২ নয়; ৪২ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার ৫০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে। আর ৯৫ শতাংশ সম্ভাবনার কথা বললে ১০ টিসিএফ। ২০১৮ সালে হওয়া আরেকটি অ্যাসেসমেন্টে হয়। এটা করে ড্যানিশ কোম্পানি । পরামর্শক হিসেবে তাদের সহায়তা নেয়া হয়। তারা বলেছিল, ৩৪ টিসিএফ গ্যাস পাওয়ার ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা আছে। এসব মূল্যায়ন আমলে নিয়ে ব্যাপক অনুসন্ধানে নামা উচিত ছিল। এছাড়া আমরা তিনটি কূপ খনন করলে একটাতে গ্যাস পাওয়া যায়। এটাকে বলে সফলতার হার। বিশ্বে এটা বিরল।
বদরূল ইমাম: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ









