আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ব্যাংক-বহির্ভূত ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশা কী? আপনারা কেমন বাজেট চাইছেন?

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা হলো একটি ব্যবসাবান্ধব অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করা, যা ফাইন্যান্স কোম্পানি খাতের জন্য পর্যাপ্ত তারল্য সহায়তা, নীতিগত সংস্কার এবং যৌক্তিক কর হ্রাসের মাধ্যমে খাতটির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ফাইন্যান্স কোম্পানি খাতের মোট সম্পদ প্রায় ৯৯৫ বিলিয়ন টাকা হলেও গত পাঁচ বছরে এর বার্ষিক গড় প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। এ স্থবিরতার পেছনে রয়েছে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, দেশের ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগ জড়তা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর ঋণ বিতরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দ্বিতীয়ত, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের সংকট তাদের ঋণ বিতরণ ক্ষমতা সীমিত করছে। তৃতীয়ত, কর কাঠামোর অসামঞ্জস্যতা খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষুণ্ন করছে। বর্তমানে ফাইন্যান্স কোম্পানির ওপর ৩৭ দশমিক ৫ শতাশ করহার, যা ব্যাংক খাতের সমান, অথচ তারা আমানত সংগ্রহে সীমাবদ্ধতা এবং উচ্চ তহবিল ব্যয় বহন করে।

করহার ৩৭ দশমিক ৫ থেকে ৩০ শতাংশে নামানো হলে খাতটির মূলধন শক্তিশালী হবে এবং ঋণ বিতরণ ক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া করপোরেট বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়া সহজ করা, কর প্রণোদনা দেয়া, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু এবং সিকিউরিটাইজেশন ফ্যাসিলিটি চালু করা হলে, ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো নতুন খাতে বিনিয়োগ করতে সক্ষম হবে। ব্যবসাবান্ধব নীতিগত সংস্কার যেমন দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নে সহায়তা, সুদহার নির্ধারণে স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক ও আর্থিক অনিশ্চয়তা হ্রাস করা গেলে ফাইন্যান্স কোম্পানি খাত পুনরুজ্জীবিত হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

ফাইন্যান্স কোম্পানি খাতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পরিবর্তন বা উন্নয়ন করলে জাতীয় রাজস্বে আপনাদের অবদান বাড়বে বলে মনে করেন?

ফাইন্যান্স কোম্পানি খাতের সক্রিয় এবং টেকসই অবদান নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত, বাস্তবসম্মত ও প্রগতিশীল কৌশল প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। যদি কিছু নীতিগত সংস্কার এবং সহায়তা প্রণোদিত করা যায়, তবে এটি খাতটির টেকসইতা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। করপোরেট বন্ড ইস্যুর প্রক্রিয়াকে সহজ এবং প্রণোদনামূলক করা হলে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর তহবিল সংগ্রহের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই, গ্রিন এবং হাউজিং পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে তারা উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন করতে পারবে। সুশাসন এবং কার্যকর তদারকি প্রতিষ্ঠা করলে গ্রাহক আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব, যা আমানত সংগ্রহ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে, ফাইন্যান্স কোম্পানি খাত টেকসই হবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, এবং কর আদায়ের আওতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্বে একটি দৃশ্যমান অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ চান কি? কোন খাতে এ সুযোগ দেয়া হলে অর্থনীতির জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন?

অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ বিতর্কিত হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি একটি বাস্তবধর্মী নীতি হস্তক্ষেপ হতে পারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি তারল্য সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে বিপর্যস্ত। বাংলাদেশে বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্য এবং ব্যাংক ঋণ প্রবাহও কমতির দিকে। মুদ্রাস্ফীতি ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে এবং সুদের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় অর্থনীতিতে কার্যকর তারল্য সংকট প্রকট হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে, শর্তসাপেক্ষে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, তবে সেটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে নয়, বাধ্যতামূলকভাবে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের শর্তে। এসএমই, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, রপ্তানিমুখী শিল্প, অবকাঠামো ও জ্বালানি খাত, এবং পুঁজিবাজারে প্রাথমিক শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। একটি স্বচ্ছ, ট্র্যাকযোগ্য বিনিয়োগ কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে খাতে বিনিয়োগ নিশ্চিত না হলে অতিরিক্ত জরিমানা বা কর আরোপের ব্যবস্থাও জরুরি।

বাজেটে নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ফাইন্যান্স কোম্পানিভিত্তিক অর্থায়নে বিশেষ প্রণোদনা থাকলে সেটি কীভাবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব?

বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার। এ দুটি জনগোষ্ঠী দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যার বড় অংশ হলেও তাদের উৎপাদনশীলতা এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কাজে লাগানো যাচ্ছে না। যদি আসন্ন জাতীয় বাজেটে সরকার এ খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা চালু করে, তবে তা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং সামগ্রিকভাবে দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বহুগুণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ভিয়েতনামের 'ভিবিএসপি' এবং ইন্দোনেশিয়ার 'মেকার'-এ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করে ইতিবাচক ও কার্যকর ফলাফল পাওয়া গিয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের ইতিমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রনোদনা সুবিধা প্রদান করছে যা নারী গ্রাহকদের সময় মত ঋণ পরিশোধে ও তার সঠিক ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করে আসছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুরুপ প্রনোদনা বিভিন্ন রি ফ্যাইন্যান্স স্কিমের আওতায় তাদের আরো উৎসাহিত করবে। এছাড়াও সময় মত ঋণের কিস্তি পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রণোদনা হিসাবে কিছু কিস্তি সাবসিডি আকারে প্রদান করা, আঞ্চলিক পর্যায়ে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষন কেন্দ্রগুলোকে আরো উদ্যোক্তাবান্ধব করা এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে অর্থায়ন বিষয়ে সমন্বয় বৃদ্ধি করা এবং কেন্দ্রগুলোর সহায়তায় একটি জাতীয় উদ্যোক্তা পোর্টাল থাকতে পারে যেখানে ফাইন্যান্স কোম্পানি উদ্যোক্তা নির্বাচন করতে পারবে ।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম এর চার্জ ও ফি প্রণোদনা হিসাবে প্রদান করলে গ্রাহক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি আরো আগ্রহী হয়ে উঠবে। এছাড়াও নতুন ব্যবসায় প্রথম ৩ বছর ট্যাক্স মওকুফ সুবিধা, এবং সময়মতো রির্টার্ন দাখিল করলে ৪র্থ বছর ৫০% ট্যাক্স মৌকুফ ও ৫ম বছর ২৫% ট্যাক্স মওকুফ সুবিধা নারীদের এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রতিযোগিতা মূলক বাজার ব্যাবস্থায় টিকে থাকার সক্ষমতা প্রদান করবে।

বাজেটে সবুজ অর্থায়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ফাইন্যান্স কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়াতে কী ধরনের কর বা নীতিগত প্রণোদনা প্রয়োজন বলে মনে করেন?

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রেক্ষাপটে পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ এখন সময়োপযোগী ও অপরিহার্য। তবে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর করহার, প্রণোদনার অভাব এবং স্বল্পমূল্যের সবুজ তহবিলে সীমিত প্রবেশাধিকার তাদের পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের সক্ষমতাকে ব্যাহত করছে।

বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎচালিত গাড়ি লিজিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও গ্রিন বিল্ডিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন প্রয়োজন, যেখানে রিটার্ন আসতে সময় লাগে। আন্তর্জাতিকভাবে আয়কর রেয়াত ও কর অব্যাহতি এ ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগে উৎসাহ দিয়ে থাকে; বাংলাদেশেও ট্যাক্স ইনসেনটিভ চালু করলে ফাইন্যান্স কোম্পানিদের অংশগ্রহণ বাড়বে।

গ্রিন বন্ড একটি সম্ভাবনাময় মাধ্যম হলেও ২০২১ সালে দেশের প্রথম গ্রিন বন্ড ইস্যুর পর বাজার সম্প্রসারণ সীমিত রয়েছে। এই বাজার সক্রিয় করতে হলে ফাইন্যান্স কোম্পানিদের জন্য করছাড়, ইস্যু ফি করযোগ্যতা, এবং মূলধন কাঠামোয় ছাড় দেয়ার মতো নীতিগত সুবিধা দরকার। এতে তারা কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে।

যদি কর প্রণোদনা, গ্রিন বন্ড বাজারের সম্প্রসারণ এবং পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে ফাইন্যান্স কোম্পানি অংশগ্রহণ একযোগে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের পরিসর বহুগুণে বাড়বে। এর ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ অবকাঠামো ও টেকসই নগর উন্নয়নে গতি আসবে, যা বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।

খেলাপিদের বিষয়ে এবারের বাজেটে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন কিনা?

এবারের বাজেটে কাঙ্ক্ষিত হবে এমন একটি নীতি, যা ভালো ও খারাপ ঋণগ্রহীতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য সৃষ্টি করবে। যেমন, নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারীদের জন্য বিশেষ কর ছাড়/প্রণোদনা বা হ্রাসকৃত কর সুবিধা এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ক্ষেত্রে কঠোর আর্থিক ও আইনগত ব্যবস্থা বিষয়ক পলিসি। পাশাপাশি, খেলাপি হয়ে যাওয়া ব্যবসার ক্ষেত্রে অপ্রদর্শিত অর্থ বা অন্য যেকোনো উৎস হতে অর্জিত অর্থ দিয়ে খেলাপি ঋণ পরিশোধ করার সুবিধা দেয়া যেতে পারে এবং এ নিয়ে পরবর্তীতে কোনো প্রশ্ন না করা হলে খেলাপি ঋণের মাত্রা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। বাজেটে ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের আলাদা আইনি সংজ্ঞা, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ঋণ পুনরুদ্ধার ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ জরুরি। যেসব ফাইন্যান্স কোম্পানি বাস্তব ভিত্তিতে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে, তাদের জন্য ঋণ শ্রেণীকরণ ও ক্ষতিপূরণ রিজার্ভ নীতিতে সীমিত নমনীয়তা রাখা যেতে পারে।

২০০৮ সালে লিজ ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে বিশেষ কর সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে?

২০০৮ সালে আয়কর আইনের পরিবর্তনের ফলে এক্সিলারেটেড ডিপ্রিসিয়েশন সুবিধা বাতিল হলে লিজ ফাইন্যান্সিং খাত—বিশেষ করে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর জন্য একটি বড় ধাক্কা তৈরি হয়। সুবিধাটি তুলে নেয়ার পর লিজিংয়ের খরচ গড়ে ২–৩ শতাংশ বেড়ে গেছে, এবং একই সম্পদে কর চাপছে উভয় পক্ষের ওপর, ফলে কার্যত দ্বৈত করের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ফলে ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর লিজ ফাইন্যান্সিং ব্যাংক ঋণের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে এসএমই খাতে, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশের কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০% এবং জিডিপির প্রায় ২৫% অবদান রাখছে। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এখন মেশিনারি বা যানবাহনে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছেন, ফলে উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তি আধুনিকায়ন থেমে গেছে। এই সুবিধা ফিরলে লিজ ফাইন্যান্সিং আবারও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। তা না হলে, বাংলাদেশে লিজ ফাইন্যান্সিং ক্রমেই গুরুত্ব হারিয়ে এক অনাবশ্যক অর্থায়ন মডেলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সামষ্টিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফাইন্যান্স কোম্পানি খাতকে আরো অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার বাজেটে কোনো নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিলে সেটি কেমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন?

বাজেটে ফাইন্যান্স কোম্পানি খাতের জন্য একটি সুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ জরুরি, যা কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকর সংস্কারপথ নির্দেশ করবে। নিয়ন্ত্রক সংস্কারের অংশ হিসেবে, ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন ২০২৩’ এর পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক ‘টিয়ারড রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক’ চালু করা যেতে পারে। অর্থায়নে ভারসাম্য ফেরাতে ফাইন্যান্স কোম্পানিদের জন্য বাজেটে পৃথক রিফাইন্যান্স কোটার ব্যবস্থা, সফল অর্থায়নের ভিত্তিতে ইনসেনটিভ এবং ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতে হবে, বিশেষ করে নারী, কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হালকা প্রকৌশল খাতে অর্থায়ন বাড়াতে।

দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের ঘাটতি মেটাতে ফাইন্যান্স কোম্পানিদের করপোরেট বন্ড মার্কেটে প্রবেশাধিকার সহজ করা প্রয়োজন। প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাজেটে ডিজিটাল লোন অ্যাপ্লিকেশন, স্কোরিং সিস্টেমে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহায়তা তহবিল এবং বাধ্যতামূলক ইএসজি রিপোর্টিংয়ের মতো পদক্ষেপ থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়বে এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত হবে।