জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

আমরা আশা করি, সরকার এভিয়েশন খাতকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে, জ্বালানি কর হ্রাস, অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করবে। এ ধরনের কার্যকরী পদক্ষেপের মাধ্যমে এভিয়েশন খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সবশেষে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা অসীম। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট সবাই যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করে, তবে আমরা নিশ্চিতভাবে দেখতে পাব যে খাতটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। আমরা এভিয়েশন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশে এভিয়েশন খাতের বাজার কত? এ খাতের মৌলিক সংকটগুলো কী?

বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত বর্তমানে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে দ্রুত বিকাশমান। গত কয়েক বছরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি মালামাল পরিবহনেও এ খাতের পরিসর উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে বর্তমানে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের বাজারের আকার প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে আরো ত্বরান্বিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে সম্ভাবনাময় খাতটি এখনো কিছু মৌলিক ও কাঠামোগত সংকটে জর্জরিত। পরিকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, উচ্চ জ্বালানি খরচ, দক্ষ জনবলের অভাব, নীতিগত সমন্বয়হীনতা ইত্যাদি চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমরা আশাবাদী। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগে এরই মধ্যে কিছু অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত একটি আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হবে।

যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে আপনাদের ভাবনা কী?

আমাদের লক্ষ্য হলো যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও বিশ্বস্ত সেবা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে আমরা ডিজিটাল টিকেটিং, অনবোর্ড সুবিধা বৃদ্ধি, ভ্রমণকালীন আরামদায়ক অভিজ্ঞতা এবং সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আরো বেশি রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি যাত্রীসেবার সার্বিক মানোন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলবে।

অভ্যন্তরীণ যাত্রী সংখ্যার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বা আরো বাড়িয়ে নিতে সরকারের কাছে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন?

অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির যে ইতিবাচক ধারা সম্প্রতি পরিলক্ষিত হচ্ছে তা ধরে রাখতে হলে নীতি ও পরিকাঠামোগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এ প্রবণতা টেকসই করতে প্রয়োজন বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকীকরণ, যেখানে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, টার্মিনাল সম্প্রসারণ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া বিমান চালনা খাতে ট্যাক্স ও শুল্ক কাঠামো সহজীকরণ এবং জ্বালানি খাতে বিশেষ সুবিধা এয়ারলাইনগুলোর ব্যয় কমিয়ে সেবার গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে একটি স্থিতিশীল, দীর্ঘমেয়াদি ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যাতে নতুন উদ্যোক্তা ও সংস্থা এ খাতে আরো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। এছাড়া খাতটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য এভিয়েশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটগুলোর সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ পাইলট, কেবিন ক্রু, ইঞ্জিনিয়ার ও গ্রাউন্ড স্টাফ তৈরি করতে এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা জোরদারকরণ এ খাতের প্রতি যাত্রীদের আস্থা বৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। এসব উদ্যোগ দেশের এভিয়েশন খাতকে আরো গতিশীল ও টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে।

প্রবৃদ্ধি বাড়াতে এয়ারলাইনসগুলোকেও নিশ্চয়ই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে?

এয়ারলাইনসগুলোর সাশ্রয়ী পরিচালনা, গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন, রুট বৈচিত্র্যকরণ এবং প্রমোশনাল কার্যক্রম এ খাতের প্রবৃদ্ধিকে আরো ত্বরান্বিত করতে পারে। আমরা প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া ও উন্নত সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে যাত্রীদের আস্থা ও আকর্ষণ ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এভিয়েশন খাতে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল কি আমাদের আছে?

এভিয়েশন খাতে দক্ষ পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিশিয়ানের একটি উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (বিসিএএ) ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করা গেলে এ ঘাটতি ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায় অসম প্রতিযোগিতার কথা প্রায়ই শোনা যায়। এ অসম প্রতিযোগিতা কীভাবে হচ্ছে? এতে কি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে?

অভ্যন্তরীণ রুটে কয়েকটি এয়ারলাইনসের আধিপত্য ও নীতিগত পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে, যা ছোট ও নতুন অপারেটরদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিরপেক্ষ নীতিমালা, স্বচ্ছ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশ কি সঠিক পথে রয়েছে?

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের অংশ হিসেবে রানওয়ে সম্প্রসারণ, কার্গো সুবিধা উন্নয়ন ও ট্রানজিট যাত্রী ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন চলছে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ, দক্ষ জনবল গঠন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর মার্কেটিং আরো জোরদার করা প্রয়োজন।