২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা কী?

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) হিসেবে আমরা এমন একটি বাজেট প্রত্যাশা করি, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করবে এবং ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের কার্যপরিচালনার ক্ষেত্রে একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেবে। বাজেট প্রণয়নকালে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস তৈরি, করের বোঝা হ্রাস এবং সিএমএসএমই, গ্রিন ফাইন্যান্স ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা সৃষ্টির দিকগুলো বিবেচনা করলে তা অর্থনীতির সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।

বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ চান কি? কোন খাতে এ সুযোগ দেয়া হলে অর্থনীতির জন্য ভালো হবে বলে মনে করেন?

অপ্রদর্শিত অর্থের বৈধতার সুযোগ নিয়ে মতভেদ থাকলেও যদি সরকার এমন সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তা যেন উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং স্বচ্ছতা বজায় থাকে, এটিই আমাদের পরামর্শ। যথাযথ জবাবদিহিতা ও শর্তসাপেক্ষে এ সুযোগ দিলে তা কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় এ ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ আমাদের জন্য কার্যকর ফলাফল বয়ে আনতে পারে।

সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মাধ্যমে এনবিএফআইগুলো পুঁজিবাজারভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এক্ষেত্রে আপনারা বাজেটে কোনো করছাড় প্রত্যাশা করছেন কি?

হ্যাঁ, আমরা মনে করি পুঁজিবাজারে এনবিএফআইয়ের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে করছাড় বা কর রেয়াত একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে, বাজারের পরিধি বাড়বে, পাশাপাশি প্রান্তিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও বাজার সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে বাজেটে প্রণোদনা থাকলে পুঁজিবাজার আরো শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হবে। উল্লেখ্য যে প্রায় একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সত্ত্বেও মার্চেন্ট ব্যাংকের করহার (৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ) পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানসহ (২৫ শতাংশ করহার) অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক বেশি। পুঁজিবাজারে ব্রোকারেজ, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ও মার্চেন্ট ব্যাংকের মতো সব পুঁজিবাজারভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের মাধ্যমে সমতা বিধান করতে পারলে তা নিঃসন্দেহে জাতীয় অর্থনীতিকে আরো গতিশীল করে তুলবে।

এনবিএফআই খাতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের পরিবর্তন বা উন্নয়ন করলে জাতীয় রাজস্বে আপনাদের অবদান বাড়বে বলে মনে করেন?

সরকারের পক্ষ থেকে কিছু কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিগত সমর্থন পেলে এনবিএফআই খাত জাতীয় অর্থনীতিতে আরো বড় অবদান রাখতে পারবে। যেমন সুশাসন জোরদারে কঠোর তদারকি ও নিয়মনীতি প্রয়োগ, একই ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকের অনুরূপ সুবিধা প্রদান, পেনশন ফান্ড, বন্ড মার্কেট ও ইন্স্যুরেন্স ফান্ডে প্রবেশাধিকার, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে নীতিগত সহায়তা, যার মাধ্যমে একদিকে পরিচালনা ব্যয় কমবে, অন্যদিকে কার্যপরিসর সম্প্রসারণ হবে।

এ ধরনের উদ্যোগগুলো আইডিএলসির মতো সুদক্ষ পরিচালনার অধীনে থাকা এনবিএফআইগুলোকে আরো টেকসইভাবে ব্যবসায় সম্প্রসারণে সহায়তা করবে, যার মাধ্যমে রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

খেলাপিদের বিষয়ে এবারের বাজেটে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করেন কিনা?

বাজেটে খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে একটি দৃঢ় ও বাস্তবভিত্তিক নীতিগত অবস্থান নিশ্চিত করার এটিই উপযুক্ত সময় বলে আমরা মনে করি। এনবিএফআই খাতে স্বল্পমূল্যের তহবিলের সুযোগ সীমিত, তাই ঋণ পুনরুদ্ধার সক্ষমতা এবং দ্রুততা এ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজেটে যদি কৌশলী খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হয় এবং প্রকৃত সমস্যাগ্রস্ত গ্রাহকের জন্য পুনঃতফসিল বা প্রণোদনামূলক নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়, তাহলে এটি এ খাতের অবস্থান পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

২০০৮ সালে লিজ ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে বিশেষ কর সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে?

গত বছরগুলোয় দেশের ব্যাংক ও ফাইন্যান্স খাতে নানা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে খাতের অবকাঠামোকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার প্রচেষ্টা আমরা দেখেছি। এ ধরনের নীতিনির্ধারণী পরিবর্তনকে আমরা সবসময়ই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করি এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি সাপেক্ষে নিজেদের ব্যবসায় পরিচালনা করি। তাই উল্লেখিত কর সুবিধা প্রত্যাহারকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করি না।