সুপারশপ খাতের ব্যবসার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।
বর্তমানে সুপারশপ খাত দেশের একটি সুসংগঠিত ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শহুরে ব্যস্ত জীবনযাত্রা, ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান সচেতনতা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য পণ্যসেবার চাহিদা এ খাতের প্রসারে বড় ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে সারা দেশে ডেইলি শপিংয়ের ৭৪টি আউটলেট রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বাইরে ১৪টি জেলা শহরে ডেইলি শপিংয়ের শাখা চালু আছে।
আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভরতা, ই-কমার্সের সঙ্গে ইন্টিগ্রেশন এবং জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে উপজেলা পর্যন্ত বিস্তারের মাধ্যমে এ খাত আরো গতিশীল ও ব্যাপক হবে। আমাদের লক্ষ্য, আগামীতে দেশের সব জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে আউটলেট চালু করা।
সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে আপনাদের সুপারশপের ব্যবসায় কেমন প্রভাব পড়েছে?
মূল্যস্ফীতি ক্রয়ক্ষম গ্রাহকদের ব্যয় করার প্রবণতাকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে। তবে চেষ্টা করছি ডেইলি শপিংয়ে বিকল্প ব্র্যান্ড, প্রমোশনাল অফার ও সাশ্রয়ী প্যাকেজের মাধ্যমে ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবা দিতে। ট্রাস্ট, স্টক ব্যবস্থাপনা ও লয়্যালটি প্রোগ্রামগুলো আমাদের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাহায্য করছে।
সুপারশপের ধারণা রাজধানী ও বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়েও পৌঁছে যাচ্ছে। এ পর্যায়ে সুপারশপ খাতের সুষ্ঠু বিকাশে সরকারের করণীয়গুলো কী?
প্রথমত, রিয়েল এস্টেট রেন্ট নাগালের মধ্যে রাখা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা দরকার। দ্বিতীয়ত, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য করছাড় বা প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে। তৃতীয়ত, খাদ্যনিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ব্যবসার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করবে।
সুপারশপ ব্যবসায় একক নিয়ন্ত্রক ও নীতিমালা প্রয়োজন বলে দাবি রয়েছে। এ বিষয়ে আপনি কী মনে করেন?
একটি একক নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলে এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়ন সহজ হবে। এতে বাজারে স্বচ্ছতা আসবে, উদ্যোক্তারা সহায়তা পাবেন এবং ভোক্তাও লাভবান হবেন। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবসার ধারাবাহিকতায় কিছুটা জটিলতা তৈরি করে, যা একটি একক নীতিমালার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।
সুপারমার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দাবি গত তিন-চার বছরে দেশে সুপারশপ ব্যবসায় অনেক গতি এসেছে, আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই?
এর সঙ্গে আমি একমত। কয়েক বছরে আমরা ক্রেতাদের মধ্যে সুপারশপ নিয়ে বিশেষ করে সচেতনতা, বিশ্বাস ও নিয়মিত কেনাকাটার অভ্যাসের ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন দেখেছি। একটা সময় যেটা শুধু অভিজাত শ্রেণীর জন্য ভাবা হতো, এখন সেটা মধ্যবিত্ত এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্তের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল পেমেন্ট, হোম ডেলিভারি, অ্যাপভিত্তিক সেবা সব মিলিয়ে খাতটি এখন অনেক পরিপক্ব।
সুপারশপ ব্যবসা স্থাপনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা কী?
সুপারশপের জন্য মূলত অনেক বেশি জায়গা প্রয়োজন হয়। কিন্তু ভাড়ার নীতিমালা না থাকা এক্ষেত্রে বড় বাধা। শুরুতেই জায়গার জন্য প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করতে হয়, ইউটিলিটি খরচও অনেক বেশি। এছাড়া সুপারশপের ব্যবসায়ে যেহেতু সব পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে হয়, তাই অনেক টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশে ব্যাংকের উচ্চ সুদহার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে। দক্ষ মানবসম্পদের অভাবও রয়েছে।
বাজেটে সুপারশপ খাতের প্রত্যাশাগুলো সম্পর্কে বলুন?
ভ্যাট ছাড় থাকলেও সুপারমার্কেট চেইনকে মোট মার্জিনের ওপর যে হারে ভ্যাট দিতে হয়, সেটি আরো কমালে এ খাত সম্প্রসারিত হবে। অ্যালার্জি বা ডায়াবেটিক প্রডাক্টের মতো হেলথ কনশাস পণ্য আমদানিতে সুবিধা দেয়া উচিত। ডিজিটাল পেমেন্ট, লোকাল উৎপাদকদের ইন্টিগ্রেশন এবং গ্রামীণ সম্প্রসারণে বাজেটে সহায়ক পলিসি থাকলে খাতটি অনেক দ্রুত প্রসারিত হতে পারবে।










