বর্তমানে দেশে সিমেন্টের চাহিদা, উৎপাদন সক্ষমতা কেমন? কতটি কোম্পানি এখন সিমেন্ট উৎপাদন করছে?

বর্তমানে দেশে সিমেন্টের বার্ষিক টার্নওভার ৩৬ হাজার কোটি টাকার মতো। ২০২১ সালের পর চাহিদা কমেছে, বাড়েনি। ওই বছর ৩ কোটি ৯০ লাখ টন চাহিদা তৈরি হয়। এরপর কমতে কমতে এখন সেটা প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টনে নেমে এসেছে। চাহিদার তুলনায় আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা অনেক বেশি। একদিকে চাহিদা কমেছে, অন্যদিকে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়েছে। ফলে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতার চেয়ে উৎপাদন কমেছে।

প্রতি বছর বাজেটে সব খাতের উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রত্যাশা থাকে। বিগত বাজেটে সিমেন্ট খাতের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কি? এবারের বাজেটে আপনাদের প্রত্যাশা কী?

বাজেটের জন্য আমরা মূলত যে দাবিগুলো জানিয়েছি তার মধ্যে আছে কাঁচামাল (ক্লিংকার) আমদানি শুল্ক প্রতি টনে ২০০ টাকা করা। অগ্রিম আয়কর যেটি নেয়া হয় সেটিকে আমরা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখছি। তবে তা বছর শেষে সমন্বয়যোগ্য বা ফেরতযোগ্য হতে হবে। এছাড়া আমরা বলেছি, সরকার যে ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্স নেয়, সেটি ইনভয়েস ভ্যালুর ওপর নেয়ার জন্য। আমদানির ক্ষেত্রে আমরা আরো একটা সমস্যার মুখে পড়ি সেটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্লিংকারের দাম বারবার পরিবর্তন। এতে খুচরা পর্যায়ে দাম নির্ধারণটা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া যখন ডলারের মূল্য বেড়ে যায় তখন আরেকটা সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে ডেফার্ড এলসি (পণ্য ডেলিভারির পরে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পর পেমেন্ট করা) করে কাঁচামাল আমদানি করে। এখন ওই কোম্পানি ১২০ টাকা হারে এলসি করল। যখন পেমেন্ট করার সময় এল তখন দেখা যায় দেশের বাজারে ডলারের দাম ১২৫ টাকা হয়ে গেছে। তখন প্রতি ডলারে ওই কোম্পানিকে ৫ টাকা বেশি পেমেন্ট করতে হচ্ছে। যার ফলে প্রতি ব্যাগ সিমেন্টে বাড়তি খরচ পড়ে যায়, এই টাকাটা বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে সমন্বয় করা সম্ভব হয় না। ফলে কোম্পানি ক্ষতির মুখে পড়ে।

সিমেন্টের চাহিদা কমে যাচ্ছে কেন? পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো উপায় আছে কি?

২০২১ সালের পর কভিডের একটা প্রভাব ছিল। এছাড়া সরকারি বড় বড় প্রকল্প ধীরে ধীরে কমেছে। কিছু বর্তমানে বন্ধ। এখন সরকার যদি প্রকল্পগুলো চালু করে এবং নতুন প্রকল্প শুরু করে, তাহলে আবার চাহিদা বাড়বে। আবার আমাদের দেশের রাস্তাগুলোকে বিটুমিনের না করে কংক্রিটের করা যায়। সরকার মাটি পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমানোর কথা বলছে। মাটি পোড়ানোর কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এটি যদি বন্ধ করা হয়, তাহলে কংক্রিটের ব্লক বা ইটের ব্যবহার বাড়বে। সেখানেও চাহিদা বাড়বে। এ কাজগুলো সরকার চাইলেই করতে পারে।

কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? এর সমাধান কোথায়?

জ্বালানির দাম বেড়েছে। আবার কোম্পানিকে তার কর্মীর বেতন প্রতি বছরই বাড়াতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সবকিছুই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। যে কারণে ব্যবসায়ের খরচও বাড়ছে। আমাদের আসলে মূল্য সমন্বয় করার সুযোগ নেই। কারণ বাজারে সক্ষমতা অনেক, জোগান অনেক, কোম্পানি অনেক। ফলে আমাকে টিকে থাকার লড়াইয়ে সিমেন্টের দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। কোম্পানি ব্যবসায়ের খরচ যেটুকু বাড়ে সেটা তাকেই বহন করতে হবে। লস হলেও করতে হবে। না হলে বাজারে টিকে থাকা যাবে না। তাই আমি মনে করি সরকারের উচিত ব্যবসার খরচ কমানোর দিকে নজর দেয়া।