২০১৫ সাল থেকে এলপি গ্যাস বিক্রি করছে ওমেরা। আমদানি, মজুদ ও বাজারজাতে মোটা দাগে এখন কী ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাজেটে কোন ধরনের সহায়তা রাখা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

যদিও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলপিজির ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে, তবু বিকল্প জ্বালানির তুলনায় এলপিজির মূল্য ব্যবধান এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই বিকল্প জ্বালানির সঙ্গে এলপিজির মূল্য প্রতিযোগিতামূলক করতে এলপিজি বিক্রি ও আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি দিলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

এছাড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েলের তুলনায় পরিবেশবান্ধব এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে, রেয়াতি হারে করপোরেট কর, কর অবকাশ এবং এলপিজির জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সিলিন্ডার রিপেন্টিং ও রিফার্বিশমেন্টের ক্ষেত্রে বর্তমান ভ্যাট অব্যাহতিও একইভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে সাহায্য করবে।

এলপিজি বাজারজাত, আমদানি এবং মার্কেট শেয়ারে ওমেরা এখন দেশের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি। ওমেরা এলপিজিতে দেশের বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের আস্থা তৈরিতে কোন পরিকল্পনা কাজ করেছে?

দেশের বাজারে যেমন এলপিজির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, ওমেরাও ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এলপিজির জোগান নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহককে ওমেরা এলপিজিতে আস্থা তৈরিতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ওমেরা ভিএলজিসির (ভেরি লার্জ গ্যাস ক্যারিয়ার) মাধ্যমে একসঙ্গে ৪৫ হাজার টন এলপিজি আমদানি করছে, যা বর্তমান বাজারে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। তাছাড়া শিল্প খাতে এলপিজির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী অবকাঠামগত উন্নয়ন এবং প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ক্রমাগত লজিস্টিকে (উদাহরণস্বরূপ এলপিজি বহনকারী রুট ট্যাংকার, বার্জ ইত্যাদি) বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এলপিজির ব্যবহার আরো সহজ ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে ওমেরা প্রতিষ্ঠানগুলোয় রেটিকুলেশন সিস্টেম স্থাপন এবং এলপিজি স্টোরেজ ট্যাংক স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এলপিজি স্টোরেজ ট্যাংক আমদানি থেকে শুরু করে পুরো প্রক্রিয়ায় বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ওমেরা, যা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি এলপিজি ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেবে।

এলপি গ্যাসের বাজার এখন কত হাজার কোটি টাকার? তিন-চার বছরের ব্যবধানে বাজার চাহিদায় বড় কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন কিনা?

এলপি গ্যাসের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য। গত কয়েক বছরে এ বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ ২০১৩ সালে এলপিজির চাহিদা ছিল প্রায় ৮০ হাজার টন, যেখানে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ এ চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৫ লাখ টনে পৌঁছেছে, যা ১০ বছরে প্রায় ১৫ গুণ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। এ প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের সীমিত সরবরাহ, গৃহস্থালি পর্যায়ে কাঠের ব্যবহার কমানো, সরকারের অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান এবং এলপিজি ব্যবহারে উৎসাহিত করার নীতিমালা।

পাশাপাশি শিল্প খাতে এলপিজি ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিও অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে। সার্বিকভাবে গত তিন-চার বছরে এলপিজি খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এবং পরিবর্তন ঘটেছে, যা দেশের জ্বালানি ব্যবহারে একটি নতুন যুগের সূচনা করেছে।

প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে এবং সমপরিমাণ দামে গ্রাহকের কাছে এলপিজি বিক্রিতে দাম বড় পার্থক্য তৈরি করছে। এ দাম কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বেসরকারি অপারেটররা কোনো ম্যাকানিজম করতে পারেন কিনা যাতে বাজার আরো প্রসারিত হয়?

প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় এলপিজির দাম বাংলাদেশের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য এখনো তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি, বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইন গ্যাস বিদ্যমান। ফলে এলপিজির বাজার সম্প্রসারণে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে এ মূল্য বিভাজন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বেসরকারি অপারেটরদের কিছু বাস্তবভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করতে পারে, যাতে দাম সহনীয় পর্যায়ে আনা যায় এবং বাজার আরো প্রসারিত হয়।

বাল্ক পর্যায়ে, যেমন শিল্প এলাকা বা আবাসিক প্রকল্পে পাইপের মাধ্যমে এলপিজি সরবরাহ করা হলে প্রতি ইউনিট খরচ কমে যায়। একবার অবকাঠামো স্থাপন করলে ইউনিট কস্ট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এছাড়া বেসরকারি অপারেটররা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে আলোচনা করে ক্রস সাবসিডি বা মূল্য ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ প্রাকৃতিক গ্যাসের যে পরিমাণ ভর্তুকি রয়েছে, তার একটি অংশ এলপিজিতেও দেয়ার প্রস্তাব করা যেতে পারে।

এলপিজি সিলিন্ডারের মান এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। সিলিন্ডার নিয়মিত টেস্ট-রিটেস্টের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো কতটুকু গুরুত্ব দেয়? সিলিন্ডার ক্র্যাব কমাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?

ওমেরা ব্যবসার সূচনালগ্ন থেকেই এলপিজি ও এলপিজি সিলিন্ডারের গুণগত মানের নিশ্চয়তার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। এলপিজি সিলিন্ডারের গুণগত মানের নিশ্চয়তা প্রদানের অংশ হিসেবে ওমেরা স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ওমেরা প্রতিনিয়ত বাজারে নতুন সিলিন্ডার প্রবেশ করাচ্ছে, যা ওমেরা গ্রুপের নিজস্ব সিলিন্ডার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওমেরা সিলিন্ডারস লিমিটেডের প্লান্টে সর্বোচ্চ গুণগ তমান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রস্তুত করা হয়। এছাড়া যেসব সিলিন্ডারের বয়স ১০ বছর অতিক্রম করেছে সেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে ওমেরা সিলিন্ডারস লিমিটেডের নিজস্ব রিফার্বিশমেন্ট প্লান্টে পুনঃপরীক্ষণ করেই বাজারে পাঠানো হয়, যা প্রতিটি সিলিন্ডারের গুণগত মান নিশ্চিত করে।