দেশের কেবলস শিল্প বর্তমানে কী চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, কীভাবে মোকাবেলা করছেন?
বর্তমান সময়ে কেবলস শিল্প কতগুলো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এর মধ্যে রয়েছে কাঁচামালের আন্তর্জাতিক দামে অস্থিরতা, উচ্চ আমদানি শুল্ক, ডলার মূল্যের অস্থিতিশীলতা, ইউটিলিটি চার্জের উচ্চহার, বাজারে নিম্নমানের ও অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের সহজ প্রবেশ এবং বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগে ধীরগতি।
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিজলী কেবলস মানসম্পন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন, কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারী, বিক্রেতা ও ইলেকট্রিশিয়ানদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি আমরা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ করে তুলছি, যাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ঘটছে প্রতিনিয়ত, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়েও হইচই হচ্ছে। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও রেগুলেটরি পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়াচ্ছেন?
বিজলী কেবলস সর্বদা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনকে স্বাগত জানায়। উৎপাদন ও বিপণনে অটোমেশন, ইআরপি এবং এআইনির্ভর প্ল্যানিং ও মনিটরিং সিস্টেম চালুর পথে অগ্রসর হয়েছি। পাশাপাশি আইএসও, বিটিআরসি ও বিএসটিআইয়ের নিয়মনীতি হালনাগাদ রেখে সব প্রোডাকশন এবং অপারেশনকে কমপ্লায়েন্স ফ্রেন্ডলি করে তোলা হচ্ছে। এআইয়ের ক্ষেত্রেও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়তা বাড়াতে গবেষণা করছি।
আজ থেকে পাঁচ বছর পরের কেবল ইন্ডাস্ট্রিকে কীভাবে দেখেন এবং নিজেদের কোথায় দেখতে চান?
আগামী পাঁচ বছরে কেবলস শিল্পের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১২-২০ শতাংশ হবে বলে আশা করা যায়। কারণ নগরায়ণ ও বিদ্যুৎ গ্রিড সম্প্রসারণে কেবলের চাহিদা বাড়ছে। আগামীতে এ চাহিদা আরো বাড়বে। এছাড়া ফাইবার অপটিক কেবলসের বিশাল এক সম্ভাবনা আমদের সামনে আসবে। ফলে এ খাতে আগামীতে বিনিয়োগ বাড়বে।
বিজলী কেবলস নিজেদের এ শিল্পের অন্যতম অনুকরণীয় হিসেবে দেখতে চায়। আমাদের লক্ষ্য, উচ্চ ভোল্টেজ ও বিশেষায়িত কেবলস উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক মানের পণ্য দিয়ে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা। সে লক্ষ্যে ২০২১ সাল থেকে ভারতে এবং সম্প্রতি আফ্রিকায় রফতানি শুরু করেছি। এ খাতে রফতানি বাজারে আমরা নিজেদের অগ্রজ হিসেবে দেখতে চাই।
কেবল ইন্ডাস্ট্রির জন্য এবারের বাজেটে প্রত্যাশা কী? সরকারের নীতি সহায়তা এ খাতে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে কি?
আমাদের প্রত্যাশা এবারের বাজেটে কেবলস শিল্পকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ইনফ্রাস্ট্রাকচার সাপোর্ট খাত’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর শুল্ক ও ট্যাক্স রেয়াত, বাণিজ্যিক ইউটিলিটি চার্জ সমন্বয়, স্থানীয় উৎপাদকদের জন্য সহজতর ব্যাংক ঋণ এবং রফতানিমুখী উদ্যোগে প্রণোদনা বাড়ানো হবে।
এছাড়া সরকারি প্রকল্পে স্থানীয় কেবলের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোর নীতি প্রণয়ন প্রয়োজন। সরকারের নীতি সহায়তা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রফতানি প্রণোদনা এবং গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য ভর্তুকির মাধ্যমে সরকার এ সহায়তা করতে পারে। এটি শিল্পের প্রতিযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
কেবল ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ করের বোঝা রয়েছে। এটা উৎপাদন ও উৎপাদিত পণ্যের দাম নির্ধারণে কীভাবে প্রভাব ফেলে?
উচ্চ শুল্ক ও কর কেবল কাঁচামালের খরচ বাড়ায় না, বরং পুরো উৎপাদন প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে, চূড়ান্ত পণ্যের দামও বাড়ে। বাজার প্রতিযোগিতা ব্যাহত হয় এবং অনেক সময় স্থানীয় বাজারে দেশী-বিদেশী নিম্নমানের পণ্য ঢুকে পড়ে। এতে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। আমরা চাই, সরকার কাঁচামাল আমদানিতে কর রেয়াত দিয়ে স্থানীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় টিকতে সাহায্য করবে।
সরকার রফতানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, কর অবকাশের মতো সুযোগ দিচ্ছে। এ সুবিধা আপনারা নিতে পারছেন কি?
এটা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। এ সুবিধা কার্যকরভাবে পেতে কেবলস শিল্পকে রফতানিযোগ্য পণ্য খাত হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কর অবকাশ এবং অন্য সুবিধা আরো প্রসারিত হলে আমাদের মতো কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতা করতে পারবে। তাই সরকারের কাছে নীতি সহায়তার আবেদন করে যাচ্ছি, যেন রফতানি বাড়ানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা আরো বাড়ে।










