ঢাকা ডায়নামাইটস

 বিপিএলের চতুর্থ আসরে এসে প্রথম শিরোপার খোঁজে নামছে ঢাকা ডায়নামাইটস। শিরোপাযুদ্ধে নামার আগে রসদের কমতি নেই দলটিতে। লংকান গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনে রয়েছে ডায়নামাইটসের সঙ্গে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তারকা সাকিব আল হাসানই ডায়নামাইটসের বড় ভরসা। দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়েছে ডায়নামাইটস। বিদেশী তারকা এভিন লুইস, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো ও রবি বোপারার সঙ্গে থাকছেন দেশী সেনসেশন মোসাদ্দেক হোসেন। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার নাসির হোসেন এবারো খেলবেন ডায়নামাইটসে।

মেহেদী মারুফ, ইরফান সুক্কুর ও মোহাম্মদ শহীদ, সানজামুল ইসলামরা দলে বেশ ভারসাম্য এনে দিচ্ছেন। তাদের অবদান ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

তৃতীয় বিপিএলে ফল: চতুর্থ

মূল খেলোয়াড়: সাঙ্গাকারা ও জয়াবর্ধনে থাকলেও ডায়নামাইটসের মূল ভরসা সাকিব আল হাসান। ব্যাট-বলে সমান পারঙ্গম এ খেলোয়াড় বিভিন্ন দেশের টি২০ লিগে খেলে বিশাল অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন।

কোচ: বাংলাদেশের ক্রিকেটে নানা ভূমিকায় দেখা যায় খালেদ মাহমুদ সুজনকে। ক্রিকেট বোর্ডের এ কর্মকর্তাকে এবার হেড কোচ নিয়োগ করেছে ডায়নামাইটস। ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচ হিসেবে সাফল্য রয়েছে তার। তার নেতৃত্বেই গত মৌসুমে আবাহনী ১৮তম বারের মতো জিতে নিয়েছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা।

মুস্তাফিজের অভাব: মুস্তাফিজুর রহমানের অভাব মারাত্মকভাবে অনুভব করবে ডায়নামাইটস। ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা মুস্তাফিজ এখনই খেলতে পারছেন না। গত মৌসুমে ডায়নামাইটসের সাফল্যের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে অভিষেক আসরেই বাজিমাত করা বোলারটির শূন্যতা পূরণ কঠিনই।

চোখ থাকবে যার ওপর: তানভির হায়দারের সামনে নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগস্পিনের ঝলক দেখাতে পারেন তিনি। গত মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করেছেন। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট তার পারফরম্যান্সের ওপর নজর রাখছে।

 

রাজশাহী কিংস

 ২০১৫ আসরে অনুপস্থিত থাকার পর বিপিএলে ফিরছে রাজশাহীর দল। দুরন্ত রাজশাহী আগে এ বিভাগ থেকে বিপিএলে অংশ নিয়েছে। নাম বদলে এবার রাজশাহী কিংস হিসেবেই বিপিএলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে তারা। নতুন মালিক, নতুন কোচ নিয়েই যাত্রা করছে রাজশাহী। একঝাঁক অভিজ্ঞ বিদেশী খেলোয়াড় নিয়ে দল গড়েছে তারা। ড্যারেন স্যামি, মোহাম্মদ সামি, সমিত প্যাটেল, উপুল থারাঙ্গা ও মিলিন্ডা সিরিবর্ধনে খেলবেন রাজশাহীতে। দলটিতে সবার চোখ থাকবে মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর, যিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে ১৯ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। রাজশাহীর হয়ে ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে হবে তাকে। মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, ফরহাদ রেজা ও রনি তালুকদারদের নিয়ে গড়া দলটি সেরা চার টার্গেট করেই নামবে।

মূল খেলোয়াড়: অসংখ্য তারকার মাঝেও রাজশাহীর মূল ভরসা সাব্বির রহমান। গত মৌসুমে বরিশালের হয়ে আলো ছড়ানো সাব্বিরের ওপর অনেক আশা নবাগত দলটির। ব্যাট-বলের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও তার মতো দক্ষ সেনানী দলে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

কোচ: এবার রাজশাহীর দায়িত্ব নিয়েছেন অভিজ্ঞ কোচ সারওয়ার ইমরান। আগের আসরগুলোয় তিনি বরিশাল ও সিলেটের দায়িত্বে ছিলেন এবং মিশ্র ফল করেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিনি এক দক্ষ কোচ হিসেবেই সমাদৃত। বড় বড় দলের কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে সারওয়ারের।

চোখ থাকবে যার ওপর: এ বছরের শুরুর দিকে পেস হান্ট কর্মসূচির আবিষ্কার দীর্ঘদেহী পেসার এবাদত হোসেন। তার উচ্চতা, গতিতে মুগ্ধ হয়ে ক্যারিবীয় গ্রেট কোর্টনি ওয়ালশ বিবিসির ক্যাম্পে ডেকেছেন এবং ফতুল্লায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলারও সুযোগ করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্য এবাদতের বলে যথেষ্ট গতি রয়েছে, যা প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানের বুকে কাঁপন ধরাতে সক্ষম। তাকে নিয়ে বড় আশা রাজশাহীর।

 

খুলনা টাইটানস

 নতুন নামে বিপিএলে প্রত্যাবর্তন করা আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজি খুলনা টাইটানস। আগের আসরে অনুপস্থিত থাকা খুলনা এবার টাইটানস নাম যুক্ত করে বিপিএলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। খুলনা টাইটানসের কর্মকর্তাদের মতে, তাদের দলটিতে হাইপ্রোফাইল খেলোয়াড়ের সংখ্যা কম। তবে মাহমুদউল্লাহর নেতৃত্বাধীন দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি২০ স্পেশালিস্ট কেভন কুপার ও লেন্ডল সিমন্স রয়েছেন টাইটানসে। তাদের সঙ্গে নতুন মুখ হিসেবে বিগ-হিটার হাসানুজ্জামান ও ফাস্ট বোলার আবদুল হালিম থাকছেন। বোলিং বিভাগে আশা দেখাচ্ছেন বেনি হাওয়েল, জুনায়েদ খান, মোহাম্মদ আসগর ও বেন লফলিন। মিডল অর্ডারে রয়েছেন অলক কাপালির মতো বিশ্বস্ত সেনানী।

মূল খেলোয়াড়: গত মৌসুমে বরিশাল বুলসের হয়ে দুরন্ত খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এবার তিনি নেতৃত্ব দেবেন টাইটানসকে। তিনিই দলটির মূল ভরসার প্রতীক হিসেবে থাকবেন। চিরাচরিত রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ের খোলস থেকে বেরিয়ে এসে মাহমুদউল্লাহ এখন বেশ আগ্রাসী মেজাজেই ব্যাট করে থাকেন। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজে তার প্রমাণও রেখেছেন। বাংলাদেশ দলের ‘ফিনিশার’ মাহমুদউল্লাহ আশা দেখাচ্ছেন টাইটানসকে।

কোচ: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে তোলা স্টুয়ার্ট ল’ বিপিএল দিয়ে আবার ফিরছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে। কোচ হিসেবে তাকেই বেছে নিয়েছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি টাইটানস। বিপিএলে অবশ্য এই প্রথম অভিজ্ঞতা নয় তার, এর আগে সিলেট রয়্যালসের (বিলুপ্ত) কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ। খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে স্টুয়ার্ট ল’র অভিজ্ঞতার বিশাল ঝুলি কাজে লাগাতে চায় টাইটানস।

চোখ থাকবে যার ওপর: গত মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের হয়ে খেলেছেন তরুণ তুর্কি হাসানুজ্জামান। খুব বেশি ম্যাচ খেলতে না পারলেও যে কটি খেলেছেন, তা দিয়েই অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে মুগ্ধ করেছেন। তার আগ্রাসী ব্যাটিং দেখেই দলে টেনে নিয়েছে টাইটানস। সম্প্রতি শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সিটি টি২০ টুর্নামেন্টে ইউল্যাবের হয়ে ভালো পারফর্ম করেন হাসানুজ্জামান। এবার বিপিএলের বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ তার সামনে।    

 

রংপুর রাইডার্স

 সমীহ জাগানো এক টপ অর্ডার— মোহাম্মদ শাহজাদ, শারজিল খান, সৌম্য সরকার, নাসির জামশেদ ও গিডরন পোপ। বাবর আজম, শহীদ আফ্রিদি, দাসুন শানকা ও রুবেল হোসেনের ওপরও দলটি খুব বেশি নির্ভর করে থাকবে। একঝাঁক বিগ হিটার দল নির্বাচনকেই ফেলে দিতে পারে মধুর সমস্যায়। স্থানীয় ক্রিকেটার সোহাগ গাজী, জিয়াউর রহমান টি২০ স্পেশালিস্ট। সেসঙ্গে টি২০ ক্রিকেটে ইলিয়াস সানী কিংবা মুক্তার আলীর অভিজ্ঞতাও মন্দ নয়।

তৃতীয় বিপিএলে ফল: তৃতীয়

মূল খেলোয়াড়: আফগান ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ যদি ছন্দ পেয়ে যান, তবে বিপিএল বেশ উপভোগ্যই হতে পারে। বিগ হিটার হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে। নিজের প্রথম বিপিএলটি রাঙাতে তিনি নিশ্চিতভাবেই মরিয়া থাকবেন। তার উইকেট কিপিং দক্ষতাও দারুণ কাজে আসবে দলটির। তবে অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি রংপুর রাইডার্সের মূল কাণ্ডারি হতে পারেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার চাপ নেই বলে বেশ নির্ভার হয়েই খেলতে পারবেন পাকিস্তানের এই মহাতারকা।

কোচ: রংপুর রাইডার্স বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার জাভেদ ওমরকে হেড কোচ ঘোষণা করার পর অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। কারণ এক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা খুব একটা নেই। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলা জাভেদ ওমর চ্যালেঞ্জটি নিয়েছেন বেশ সাহসিকতার সঙ্গেই। রোমাঞ্চকর একটি দলকে কোথায় নিয়ে যান তিনি, তা দেখার অপেক্ষা সবার।

সাকিবের অভাব: গত মৌসুমে রংপুরের আশা-ভরসার প্রতীক হিসেবে খেলেছেন সাকিব আল হাসান। তিনি এবার নাম লিখিয়েছেন ঢাকা ডায়নামাইটসে। এবার বিদেশী তারকা খেলোয়াড় দিয়েই সাকিবের শূন্যতা পূরণ করতে হবে রাইডার্সকে। শহীদ আফ্রিদিই পারেন সাকিবের অভাব পূরণ করতে।

চোখ থাকবে যার ওপর: টপ অর্ডারে তারকাদের ভিড়ে সুযোগ পাওয়া কঠিনই হবে পিনাক ঘোষের। কিন্তু সুযোগ পেলেই নিজেকে চেনাতে তৈরি এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেটে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।    

 

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস

 চতুর্থ বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস নামছে শিরোপা রক্ষার মিশন নিয়ে। এবারো তাদের মূল অস্ত্র একঝাঁক অলরাউন্ডার। নেতৃত্ব দেবেন সেই মাশরাফি বিন মর্তুজা। গত বছর শিরোপাজয়ী দলটির সদস্য ইমরুল কায়েস, লিটন দাস, আশার জাইদি ও নুয়ান কুলাসেকারাকে এবারো সঙ্গী হিসেবে পাচ্ছেন মাশরাফি। ইমাদ ওয়াসিম, সোহেল তানভির, রশিদ খান, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও নাবিল সামাদের অন্তর্ভুক্তি দলের শক্তি বৃদ্ধি করেছে।

আফগান স্পিনার রশিদ খানের লেগস্পিন কাজে লাগানোর আশা মাশরাফির। গতবারের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলে এবার কিছু রান পাবেন লিটন দাস— এমনটি চাইতেই পারেন মাশরাফি। ব্যাটিংয়ের ধরন পাল্টে দারুণ ফর্মে ইমরুল কায়েস। তার কাছ থেকেও দলের বড় প্রত্যাশা।

তৃতীয় বিপিএলে ফল: চ্যাম্পিয়ন

মূল খেলোয়াড়: একঝাঁক শক্তিশালী বিদেশী খেলোয়াড় ও দেশী মেধাবীদের নিয়ে গড়া ভিক্টোরিয়ানস দলের মূল ভরসা ওই মাশরাফিই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে সামনে থেকে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দেয়া মাশরাফি বল হাতে এখনো ব্যাটসম্যানের আতঙ্ক, সেসঙ্গে ব্যাট হাতেও স্লগ ওভারে দ্রুতগতিতে রান তুলতে সক্ষম তিনি। গত মৌসুমে দলের প্রতি তার কমিটমেন্ট মুগ্ধ করেছে সবাইকে, কেননা বেশকিছু ম্যাচে তিনি খেলেছেন ইনজুরি নিয়ে। নাফিসা কামালের দলটি এবারো তাকিয়ে থাকবে মাশরাফি ম্যাজিকের দিকে।

কোচ: মিজানুর রহমান বাবুল

আবু হায়দার রনির অভাব: আবু হায়দার রনি ছিলেন গত বিপিএলের সেরা বোলার। ভিক্টোরিয়ানসের শিরোপা জয়ে তার অসামান্য অবদান ছিল। তিনি সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ও। এবার তাকে লুফে নিয়েছে বরিশাল বুলস।

চোখ থাকবে যার ওপর: ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত খেলেছেন তরুণ ব্যাটসম্যান আল আমিন। ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে বেশকিছু হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। স্পিন বলে তার অসামান্য দক্ষতা, তবে পেস বল সামলানোর কৌশল ভালোভাবে রপ্ত করতে পারলেই বাজিমাত করবেন।

 

বরিশাল বুলস

 স্থানীয় ক্রিকেটাররা সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে শেষ চারে উঠতেই পারে বরিশাল বুলস। শামসুর রহমান, নাদিফ চৌধুরী, শাহরিয়ার নাফীস ও আল-আমিন হোসেনদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নিয়ে গড়া দলটিকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। বিদেশী ব্রিগেড রুম্মন রইস, দিলশান মুনাবিরা, জশুয়া কব, কার্লোস ব্রাফেট ও মোহাম্মদ নওয়াজদের সঙ্গে দেশীরাও জ্বলে উঠলে ভালো সুযোগ থাকবে বরিশালের।

বোলিং ব্রিগেডে রয়েছেন তাইজুল ইসলাম ও আবু হায়দার রনির মতো ভরসা করার মতো নাম। কাগজে-কলমে দুর্দান্ত এক টি২০ দলই পেয়েছে বরিশাল। কিন্তু ব্যস্ত সূচিতে খেই হারিয়ে ফেলার ইতিহাস নতুন নয়।

তৃতীয় বিপিএলে ফল: রানার্সআপ

মূল খেলোয়াড়: বিপিএলে সবসময়ই ভালো পারফর্মার মুশফিকুর রহিম। দুরন্ত রাজশাহী কিংবা সিলেট রয়্যালসে তিনি প্রচুর রান পেয়েছেন। জাতীয় দলের হয়েও ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এখন বরিশালকে টেনে নেয়ার ভার তার কাঁধে। ব্যাটিং, উইকেটকিপিং ও নেতৃত্ব— এ তিন ভূমিকায় দেখা যাবে মুশফিককে। তাই ভয়, চাপে না সেরাটা হারিয়ে যায় তার। তবে এমনও হতে পারে, নিজেকে নির্ভার রাখতে তিনি উইকেট কিপিংটা অন্য কারো হাতেই ছেড়ে দেবেন। কেননা মুশফিকের ব্যাটিংটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

কোচ: বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৭ সালে বিদায় নেন ডেভ হোয়াটমোর। বিপিএল আবার তাকে ফিরিয়ে আনল। বরিশাল বুলসের কোচ হিসেবে কাজ করবেন পর্বতসম অভিজ্ঞ এই কোচ। শ্রীলংকা, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের হেড কোচ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সেরও দায়িত্ব সামলেছেন হোয়াটমোর। বরিশাল ম্যানেজমেন্টে তিনি পাবেন সাবেক নির্বাচক ফারুক আহমেদ ও আতহার আলী খানকে।

ক্রিস গেইলের অভাব: ক্যারিবীয় টি২০ গ্রেট ক্রিস গেইল, কেভন কুপার ও এভিন লুইসকে এবার ছেড়ে দিয়ে নতুনভাবে দল গুছিয়েছে বরিশাল বুলস। তবে দলটি সবচেয়ে বেশি অনুভব করবে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহকে, যিনি দলটিকে ফাইনালে নিয়ে যান দারুণভাবে নেতৃত্ব দিয়ে।

চোখ থাকবে যার ওপর: প্রতিশ্রুতিশীল টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসানের ওপর চোখ থাকবে সবার। অফস্পিন বল হাতেও বেশ দক্ষ তিনি। প্রিমিয়ার লিগে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হয়ে ব্যাটিংয়ে ওপেন করা মেহেদী বিপিএলেও জ্বলে ওঠার অপেক্ষায়।

 

চিটাগং ভাইকিংস

 টি২০ ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা ক্রিস গেইলকে পেয়ে এবার চনমনে চিটাগং ভাইকিংস। তার সঙ্গে আছেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন স্মিথ, আফগানিস্তানের মোহাম্মদ নবীর মতো টি২০ ক্রিকেটের একঝাঁক বড় তারকা। সেসঙ্গে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল, অভিজ্ঞ স্পিনার আবদুর রাজ্জাক, পেসম্যান তাসকিন আহমেদ এবার ভাইকিংসকে শিরোপার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। প্রিমিয়ার লিগে অবিশ্বাস্য খেলা লংকান চতুরঙ্গ ডি সিলভাকেও দলে নিয়েছে ভাইকিংস। স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনও আছেন তামিমের দলে। সব দিক থেকেই সেরা দল গড়েছে ভাইকিংস, এখন শুধু মাঠে সঠিকভাবে পারফর্ম করতে পারার ব্যাপার।

তৃতীয় বিপিএলে ফল: ষষ্ঠ

মূল খেলোয়াড়: অনেক তারকার সমাবেশ থাকলেও চিটাগং ভাইকিংসের শিরোপা-ভাগ্য অনেকখানি নির্ভর করবে তামিম ইকবালের ওপর। দলের ওপেনার ও অধিনায়ক হিসেবে তিনি কেমন করেন, তার ওপরই নির্ভর করবে ভাইকিংসের সম্ভাবনা। গত বিপিএলে তামিমের ব্যাটে রান এলেও দল ভালো করেনি। তাই এবার নিজে পারফর্ম করার পাশাপাশি দলকেও শক্ত হাতে নেতৃত্ব দিতে হবে তাকে।

কোচ: চ্যাম্পিয়ন ভিক্টোরিয়ানসের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে এবার ছিনিয়ে নিয়েছে চিটাগং ভাইকিংস। গতবার ভিক্টোরিয়ানসের শিরোপা জয়ের নেপথ্য নায়ককেই এবার সবার আগে দলে ভিড়িয়েছে চট্টলার দলটি। এবার চট্টগ্রামে শিরোপা নিয়ে যাওয়ার গুরুভার পড়েছে দেশের অন্যতম সেরা এ কোচের কাঁধে। শক্তিশালী স্কোয়াড পাওয়ায় সালাউদ্দিনের কাজ বেশ সহজই হতে পারে।

মোহাম্মদ আমিরের শূন্যতা: ১৪ উইকেট নিয়ে গত আসরে ভাইকিংসের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির। স্পট-ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে নিষেধাজ্ঞা ভোগ করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পর বিপিএলই ছিল তার প্রথম বিদেশী টুর্নামেন্ট। ভালো একটি দল গড়লেও আমিরকে অনুভব করবেন তামিমরা।

চোখ থাকবে যার ওপর: অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আবিষ্কার উইকেটকিপার জাকির হাসান বিপিএলে খেলবেন ভাইকিংসে। গ্লাভস হাতে উইকেটের পেছনে বেশ শান্ত জাকির ব্যাট হাতে দুরন্ত।