গত আসরের সব সমালোচনা পেছনে ফেলে বিপিএল ‘ফোর’কে নতুন আঙ্গিকে সাজানোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিল গভর্নিং কাউন্সিল। গতবারের সম্প্রচারজনিত সমস্যার সঙ্গে বাড়তি যোগ পেয়েছে নিরাপত্তার দুশ্চিন্তা। সেই লক্ষ্যে গত তিন মাসে বিভিন্ন সময়ে সমাধানের পথ খোঁজেন টুর্নামেন্টটির নীতিনির্ধারকরা। আর তাতে এবারের বিপিএল হতে যাচ্ছে বাকি তিন আসরের চেয়ে অনন্য। প্রযুক্তি, সম্প্রচার এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোড়ন তুলেছে বিপিএল ফোর।

অত্যাধুনিক প্রযুক্তি

গত আসরে সম্প্রচার নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বিপিএলকে। নিম্নমানের প্রযুক্তি ব্যবহারে দর্শকদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘চ্যানেল নাইন’। তাই এবারের আসরে শুরু থেকেই বেশ নড়েচড়ে বসেছে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। প্রথমে সম্প্রচারস্বত্বে পরিবর্তন আসার খবর শোনা গেলেও পরবর্তীতে চ্যানেল নাইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যরা।

তাই এবারের বিপিএলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা জানালেন চ্যানেল নাইনের হেড অব প্রোগ্রাম তানভীর খান। জানান, প্রথমবারের মতো বিপিএলে ব্যবহূত হবে পিচ ক্যাম। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবহার করা হয়েছিল এ প্রযুক্তি। সেসঙ্গে আল্ট্রামোশন, আম্পায়ার ক্যামেরাসহ মাঠজুড়ে থাকছে মোট ২৮টি ক্যামেরা।

প্রথমবারের মতো সনি-ইএসপিএন

বিপিএলের জন্মলগ্ন থেকেই গাত্রদাহ ছিল বিসিসিআইয়ের। এক আকাশে দুই তারকা থাকা অসম্ভব বলেই কিনা বিপিএলের কারণে আইপিএলের জৌলুস কমে যাওয়ার শঙ্কা শুরুতে জেঁকে বসেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের মনে। যার প্রমাণ— এখন পর্যন্ত কোনো ভারতীয় ক্রিকেটারকে বিপিএলের জন্য ছাড়পত্র না দেয়া কিংবা নিজ দেশে বিপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করা। কিন্তু বাস্তবতা অস্বীকার করার জো নেই তাদের সামনেও। ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে বিপিএল থেকে বাণিজ্যিক ফায়দা নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারতীয় মিডিয়া। সে লক্ষ্যে এবার বিপিএলের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে ভারতীয় টিভি চ্যানেল সনি-ইএসপিএন, যা কিনা হতে চলেছে ভারতের মাটিতে বিপিএলের প্রথম যাত্রা।

এ প্রসঙ্গে চ্যানেল নাইন কর্তৃপক্ষ জানায়, ভারতের টিভি চ্যানেল সনি-ইএসপিএন প্রথমবারের মতো বিপিএলের সব ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবল ভারত নয়; কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের সব দেশেই সম্প্রচার করা হবে বিপিএল। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ইএসপিএন, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের দেশগুলো প্রাইম স্পোর্টস, পাকিস্তানে জিও টিভি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিপিএল ফোর। তাছাড়া ইন্টারনেটে তুমুল জনপ্রিয়তার কারণে বিপিএল থাকছে ইউটিউবের লাইভ স্ট্রিমিংয়েও।

বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এবার বিপিএলের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। দেশের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিল। কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দায় মল্লিক জানান, নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুসারে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে সব দলকে নিরাপত্তা প্রদান করা কঠিন বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিপিএলে আসা সব খেলোয়াড়কে বিশেষ নিরাপত্তা দিচ্ছি। যদিও ইংল্যান্ডের মতো এত ভিআইপি নিরাপত্তা দিচ্ছি না। তবে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর দেয়া খসড়া ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী তারা কাজ করবে এবং আমরাও করব।’ তবে বিপিএলে খেলোয়াড় সংখ্যা অনেক থাকায় এমন নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান মল্লিক।

নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেডিয়াম এলাকায় শোডাউন ও মিছিল নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শাহাব উদ্দীন কোরেশী বলেন, ‘বিপিএল চলাকালীন স্টেডিয়াম এলাকায় বা মূল ফটকের সামনে কোনো দল তার সমর্থকদের নিয়ে শোডাউন বা মিছিল করতে পারবে না। এমনকি যে হোটেলে খেলোয়াড়রা অবস্থান করবে, সেখানে হোটেল কর্তৃপক্ষ অন্য কোনো অতিথিকে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারবে না।’