বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচটি জেলা হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা। বছরে প্রায় আট মাসই এ এলাকাগুলো পানিতে সয়লাব থাকে। এ কারণে এ বিশালায়তন অঞ্চল ভাটি এলাকা হিসেবে পরিচিত।

এ ভাটি অঞ্চলের মানুষদের জীবন-সংস্কৃতি তাই ভিন্ন রকম— অন্যান্য অঞ্চল থেকে স্বতন্ত্র। মূলত কৃষি ও মত্স্য শিকার এদের প্রধান পেশা এবং সংস্কৃতির প্রধান অনুষঙ্গ। কিন্তু ভরা বর্ষা মৌসুমে হাওড় যখন থৈ থৈ করে, স্থলপথের যোগাযোগ যখন একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়, তখন সুপরিসর অবসরে বিশাল হাওড়ের মাঝে কেবল জল আর জলযান নৌকাকে অবলম্বন করেই যাপিত হয় তাদের জীবন। এ সময় নিখাদ প্রকৃতির তরতাজা রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ তাদের মনে বিচিত্র অনুভূতি ও চিন্তা জাগায়, তা যতটা না বস্তুবাস্তবতাময়, তার চেয়ে অনেক বেশি স্বপ্ন-কল্পনা ও অধ্যাত্মবোধের একাত্মতায় ভাবময়তার। এ ভাবের দোলায় দুলে তারা ক্ষুদ্র অঞ্চলে বাস করেও বিচরণ করে মহাবিশ্বময়। হাওড়ের থৈ থৈ করা ঢেউয়ের কুলকুল ধ্বনি তাঁদের অন্তরাত্মাকে এমনভাবে জাগিয়ে তোলে যে, স্বভাবতই এরা হয়ে ওঠে সাধক, সুফি বা বাউল।

আবদুুল করিমের জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার উজানধল গ্রামে ১৯১৬ সালে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আবদুুল করিম সবার বড়। দরিদ্র পিতা-মাতাকে সাহায্য করার জন্য আট বছর বয়স থেকেই তিনি চাকরির খোঁজে বেরিয়ে পড়েন। কাজ পান গরু রাখালের। জীবনে কোনো দিন স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তাঁর। গ্রামের নৈশবিদ্যালয়ে সপ্তাহখানেক পড়ালেখা করার সুযোগ হয়েছিল মাত্র। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না পেয়েও প্রাত্যহিক জগত্ ও পরিবেশ থেকে তিনি নিয়ত শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন সাধক বাউল হিসেবে স্বীকৃতিও পেয়েছেন। পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারও।

এই শাহ আবদুল করিমকে তাঁর জীবনের শেষ সাতটি বছর আমার সুযোগ হয়েছিল কাছে থেকে দেখার। এই সাত বছরে প্রায় দশবার তাঁর বাড়িতে আমার সাক্ষাত্ হয়েছে। যতবারই তাঁকে দেখেছি, অবাক বিস্ময়ে আমি অনুভব করার চেষ্টা করেছি— কী করে এ লেখাপড়া না জানা মানুষটি এতটা শিক্ষিত হলেন। কে তাকে এ শিক্ষাটুকু দিয়েছে, কীভাবেই বা তিনি জীবনকে দেখার শিক্ষা পেয়েছেন।

করিম যে গ্রামে বাস করেন, সেখানে প্রথম যখন আমি যাই, সেটা ছিল বর্ষাকাল। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে দিরাই থানা, সেখান থেকে চার-পাঁচ মাইল নৌকাপথ। মাঝখানে দুটো হাওড় পাড়ি দিয়ে যে ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জ চোখে পড়ে, সেটাই উজানধল গ্রাম। চারদিকে থৈ থৈ করছে পানি। ঢেউয়ের ওপর দুপুরের খাড়া রোদ পড়ে চিক চিক করছে। দূরে লাল-নীল পালতোলা নায়ের বহর চলে যাচ্ছে। কোনো নাও আসছে, কোনোটা বা যাচ্ছে। দেখলাম, কেবল পানি ও নৌকা নিয়েই এ অঞ্চলের মানুষের বসবাস। নৌকাও আছে নানা রকমের— সাধারণ পণ্য বহনের বড় নৌকা, মাঝারি নৌকা। আবার আছে নিজেদের চলাচল বা পারাপারের জন্য ছোট ছোট নাও। আবার আছে কিছু ‘ঘুণ্টি’ দেয়া ‘নাইওরি’ নৌকা। পরিবার নিয়ে পর্দা পুসিন্দার সাথে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে যাওয়ার জন্য এ রকম নৌকার বড় কদর এ অঞ্চলে।

আবদুল করিমের জন্ম প্রায় ১০০ বছর আগে। তার শৈশব-কৈশোর-যৌবন ও বার্ধক্যের পুরোটা সময় তিনি এ গ্রামেই কাটিয়েছেন। শিক্ষা বলতে এটুকুই। এ ধরনের বাউলরা গুরুবাদী শিক্ষায় দীক্ষিত হন। আবদুল করিম খুব ছোটবেলায় তাঁর বাবার চাচা নসিবুল্লাহ্র কাছে একটা গান শোনেন। ‘ভাবিয়া দেখ তোর মন, মাটির সারিন্দারে বাজায় কোন জন?’ এ গানটি সিলেটের আরেক মুর্শিদ মুন্সি ইরফান আলীর লেখা। এ গানটিই তাঁকে তখন তাড়িত করে। শরীরটা মাটির সারিন্দা!

গানের কথার মধ্যে যেসব রূপক ব্যবহার হয়েছিল, তাঁর সবটুকু মিল খুঁজে পান তার দেহের মধ্যে। তাহলে ‘দেহ’টাই সব! লালন যেমন বলেছেন, ‘যা নাই ভাণ্ডে, তা নাই ব্রহ্মাণ্ডে’। তাহলে এ ‘মাটির সারিন্দা’ যদি শরীর হতে পারে, তাহলে ‘কলের গাড়ি’ বা ‘নৌকা’ই বা নয় কেন?

‘দাদার কোলে বইসা করিম জিগান বারে বার

সারিন্দা কেমনে হইলো এই দেহ আমার?

নসিব উল্লাহ শেখান তারে দেহতত্ত্বের বাণী

এসব কথা শুনিয়া করিম হয় পেরেশানি।

ধল গ্রামেতে ছিলেন আরেক পরহেজগার ইমাম

ধর্মশাস্ত্র জানা ছিলো করমউদ্দিন নাম।

করমউদ্দিন শিখান তারে কোনটা শরিয়ত

কারে বলে হকিকত আর কোনটা মারিফত।

বর্ষাকালে কালনী নদী হাওড়েতে মিশে

কর্মবিহীন আবদুল করিম গাঙের কোলে বসে।

রং বেরং-এর বৈঠা বাইয়া নানা রং-এর নায়

কত রকম মানুষ দেখে আসে আর যায়।

করিম ভাবে কেমনে বুঝি এই দুনিয়ার ভাও

কোন মেস্তরি বানাইছিলো ময়ূরপঙ্খী নাও!

(মহাজনের নাও/লেখক)

করিম জীবনের যৌবনকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় দু-তিনজন ওস্তাদের কাছে একান্তে তালিম নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটাও দীর্ঘস্থায়ী ছিল না। একসময় নিজের গ্রামে ফিরে এসে নিজের বাড়িতেই গানবাজনায় মশগুল হয়ে যান।

তাঁর বাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যায় কালনী নদী। বর্ষায় যদিও নদী আর হাওড়ে কোনো তফাত্ থাকে না, তবে শীত-বসন্তে পাওযা যায়। এ নদীর ওপর দিয়েই বয়ে যায় নানা রকম নৌকা। তিনি লেখেন,

সুসময়ে ছাড়ো নৌকা বেলা বয়ে যায়।

কৃষক মজুর জেলে তাঁতি আয় রে সবাই আয়

নব রঙের পাইক সাজে জনগণের নায়

হাইল ধরিও সুজন মাঝি ইমানের বৈঠায়

এ নৌকাগুলো নিয়ে বাইচ ছিল বর্ষাকালে এ ভাটি অঞ্চলের অন্যতম প্রধান বিনোদন। নানা রকমের ‘খেন্না’ নৌকা, নানা রকম সাজে সেজে আসত। নৌকাগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা হতো। করিম লেখেন,

নাও বাইয়া যায় রে পাইক সারি সারি

হারা জিতা চুবের বেলা দুই নৌকায় জুড়ি

নাও বাইয়া যায় রে

ধনাই মনাই দুই ভাই দুই জনের দুই নাও

মনাইর নৌকা হারে কেন বুঝি না তার বাও

নাও বাইয়া যায় রে

কিন্তু এ বাইচের ফল হিসেবে করিম দেখলেন অন্য কিছু। তিনি বলেন,

বাইতে বাইতে মনাই মিয়ার তনু হইল শেষ

করিম বলে মনাই কোন দিন যায় নিজ দেশ

নাও বাইয়া যায় রে

মনাই মিয়া কোনদিন তাঁর ‘নিজ দেশে’ যাবে, এটা দিয়ে শেষ করেন গানের কথা।

এ ‘নিজ দেশ’ বা ‘সোলার গাঁও’ কিংবা অনন্ত পথে যাত্রার

 

কথা করিম তাঁর বহু গানেই প্রকাশ করেছেন। এটা করতেই তিনি জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিশেল ঘটিয়েছেন বহু জায়গায়। শাহ্ করিমের বাড়ির চারপাশ বর্ষার পানিতে টইটম্বুর থাকে। হাওড় আর সাগরে যেন কোনোই তফাত নেই। এই হাওড়ে যখন নৌকা চলে, তখন মাঝে মাঝেই ঝড়-তুফানের শিকার হতো নৌকাগুলো। করিম লেখেন,

দয়াল আমায় ভাঙ্গা তরী অকূল সাগরে

কূল দাও কি ডুবাইয়া মারো যা লয় তোমার অন্তরে

দয়াল আমার ভাঙা তরী ভবসাগরে তুফান ভারি

প্রাণ কাঁপে ডরে            নিদানে বান্ধব তুমি

আমি আর ডাকব কারে

যাদের নায়ের মাঝি ভালো তারা সবাই চলে গেল

প্রেমের বাজারে ভক্তজনের বিপদ কিসের

তুমি দয়া করো যারে।

বর্ষায় থৈ থৈ করা পানিতে শিশু-কিশোররা এক ধরনের জলকেলি করে। আঞ্চলিক ভাষায় একে ‘লাই খেলা’ বলে। কেউ একজন ‘লাই’ হয়, সে ডুব দিয়ে গিয়ে কাউকে ছুঁয়ে আসে। না ছোঁয়া পর্যন্ত সে সাঁতরাতেই থাকে। যে ‘লাই’ হয়, সে খুব রহস্যময় থাকে। কাকে কোন দিকে দিয়ে ছুঁয়ে দেবে, অন্য খেলোয়াড়রা টের পায় না। এই লাই খেলা দেখেও করিম সৃষ্টিকর্তাকে প্রশ্ন করেন,

তন্ত্র মন্ত্র করে দেখি তার ভিতরে তুমি নাই

শাস্ত্রগ্রন্থ পড়ি যত আরো দূরে সরে যাই

কোন সাগরে খেলতেছ লাই ভাবতেছি তাই অন্তরে

করিম তাঁর এ জীবদ্দশার সঙ্গে ‘ভবতরী’ পাড়ি দেয়াকে মিলিয়েছেন বহু জায়গায়। তাঁর মুর্শিদকে সবসময় মনে করেছেন এক দক্ষ কাণ্ডারি, যিনি ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ অবস্থায়ও, অর্থাত্ জীবনের সব রকমের সংকটাপন্নকালেও তাকে পার করে নেবেন। করিম লেখেন,

তোমায় নাম ভরসা করি           অকূলে ধরেছি পাড়ি

আমি যদি ডুবে মরি কলঙ্ক হবে তোমার

মারিফত-হকিকতের অনেক কথাও করিম বলেছেন নদী, পানি, সাঁতার, এসব নিয়ে। ‘মন্ত্র না জানিয়া’ কালসাপিনী ধরতে যেমন নিষেধ করা আছে তাঁর গানে, এমন কথা বলা আছে সাঁতার না জানা নিয়েও। করিম বলেন,

সাঁতার না জানিয়া জলে দিও না সাঁতার

মায়ানদী ছয়জন বাদি সে ঘাটে ত্রিবেণির বাজার

নদীর আছে তিনটি সুতা, তিন সুতা একযোগে গাঁথা

কুম্ভীরে ভাঙ্গিবে মাথা বায়ুসাধন নাই রে যার

এ বায়ুসাধনের বিষয়টির সঙ্গে বাউলের তত্ত্বসাধনের কথা আছে। বা-উল অর্থাত্ বাতাসের সন্ধানকারী। এ বাতাসই এক পরম রহস্যময়ী আত্মা, রুহের উত্পত্তি, বিকাশ, আগমন ও প্রস্থান নিয়েই সাধকরা ব্যস্ত থাকেন।

করিম কয় সংসারেতে আসা যাওয়া একই পথে

মন চলে না গুরুর মতে কারে কী বলিব আরে।

করিম যে অঞ্চলে বসবাস করেছেন, সেখানে নৌকাই তিনি সবচেয়ে বেশি দেখেছেন, ব্যবহার করেছেন। তাঁর অনেক গানে নিজের শরীরের সঙ্গে নৌকার তুলনা করেছেন। যে মিস্ত্রি ওই নৌকা বানিয়েছেন, তিনিই তাঁর সৃষ্টিকর্তা। আগুন, পানি, বাতাস ও মাটি— এ চার পদার্থ দিয়ে, যেন চার রঙ দিয়ে সাজানো তার এই নাও। করিম লেখেন,

সুজন মেস্তরী পাইয়া, ঐ নাও দিয়াছে গঠন করিয়া

বত্রিশ বান্ধের নৌকাখানা পাইক সারিসারি

চাইর রঙ্গে রঙ লাগাইয়া ঐ নাও দিয়াছে সুন্দর করিয়া

যে জন হয় সুজন নাইয়া রাখে যত্ন করি

এ নতুন তরতাজা নৌকাটি একসময় পুরনো হবে। জীর্ণ-শীর্ণ নৌকাটি আর ব্যবহার হবে না। নৌকাটি ঘাটে রেখে বেপারি চলে যাবে। তাঁর রুহ তাঁর শরীর থেকে বেরিয়ে যাবে।

আবদুল করিম কয় ভাবিয়া ঐ নাও যাবে যখন পুরান হইয়া

ঘাটের নৌকা ঘাটে রইয়া যাইবে

নৌকা, মাঝি, কাণ্ডারি করিমকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। নৌকার মাঝি হিসেবে কখনো নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন, কখনোবা নৌকা। নিজের শরীরটাকে যখন তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেন, তখন তিনি নৌকার কাণ্ডারি, তাঁর শরীরটা তাঁর নৌকা। আবার যখন তিনি কেবলই নৌকা বা নৌকার মাঝি, তখন তাঁর মুর্শিদ তাঁর কাণ্ডারি, যার নিয়ন্ত্রণে তিনি চালিত হন। এ নৌকা কোন মিস্ত্রি বানাল, এ নিয়েও তাঁর চরম জিজ্ঞাসা—

নাও বানাইল নাও বানাইলরে কোন মেস্তরি

কোন সন্ধানে বানাইল নাও বুঝিতে না পারি

নিজের সুন্দর, সুঠাম শরীরটাকে ময়ূরের সাজে সাজানো নৌকার সঙ্গে তুলনা করে করিম লেখেন—

মহাজনে বানাইয়াছে ময়ূরপঙ্খী নাও

সুজন কাণ্ডারী নৌকা সাবধানে চালাও।’

আবার লেখেন,

কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়

ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নাও।

এ নৌকাই তাঁর শরীর। বাইচের সময় ময়ূরপঙ্খী সাজে সাজানো নৌকার আগায় চান-তারা চিহ্ন থকে, চন্দ্র-সূর্য চিহ্ন থাকে। করিম লেখেন,

চন্দ্র সূর্য বান্ধা রাখছে নায়েরই আগায়

দূরবিনে দেখিয়া পথ মাঝি মাল্লায় বায়।

এ চন্দ্র-সূর্যই তাঁর দুই চোখ। শরীরের ওপর দিকে থাকা এ চোখ দিয়ে তিনি দেখেন, যেমন করে দূরবীনে দেখে মাঝিমাল্লারা নাও বায়।

নানা রকমের, নানা রঙের, বর্ণের, জাতির মানুষ এ পৃথিবীতে আসছে যাচ্ছে। খেন্না দৌড়ের নৌকাগুলো যেমন—

রঙ-বেরঙের কত নৌকা ভবের তলায় আয়

রঙ-বেরঙের সারি বাইয়া ভাটি বাইয়া যায়।

কিন্তু একপর্যায়ে এসে করিম পরমাত্মাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে যান। ঘাটে বসে থাকা যেকোনো পর্যবেক্ষকের কাছে নৌকার আসা যাওয়ার বিষয়টি বিস্ময় জাগায়। কোত্থেকে নৌকা এসেছে আর কোথায়ইবা যাচ্ছে— কোত্থেকে মানুষের সৃষ্টি আর কোথায় তার বিনাশ? এ পরম প্রশ্নটি ব্যাকুল করে করিমকে—

বাউল আবদুল করিম বলে বুঝে উঠা দায়

কোথা হতে আসে নৌকা কোথায় চলে যায়।

পৃথিবীর প্রায় সব চিন্তাশীল মানুষই একবারের জন্যও এ প্রশ্ন নিজের কাছে করেছেন। পৃথিবীর তাবত্ র্ধমগ্রন্থেও এ নিয়ে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এ প্রশ্নের ভেদ বের করতে মরিয়া হয়েছেন দার্শনিক, কবি, গীতিকার। সুরে, ছন্দে, রেখায়, লেখায় যে যার মতো করে প্রকাশ করেছেন তার মনের কথা। যে যার মতো করে এর উত্তর খুঁজেছেন। খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হয়েছেন। ভাটির বাউল বা গীতিকবি করিমও দেখেন এভাবে—

হাওয়ায় দৌড়ে রে আমার ময়ূরপঙ্খী নাও।

মাশুক পুরে যাবে নৌকা বাওরে শীঘ্র যাও।

জীবন রবি ডুবে যাবে বেলায় দিকে চাও

আবদুল করিম বলে নৌকার না বুঝিলাম ভাও।

 

লেখক: সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক