সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীতে বড় হচ্ছে হোম টেক্সটাইলের বাজার। বিশাল এ বাজারের আকারের সঙ্গে বড় হচ্ছে বেডশিটের বাজারও। যার প্রভাব পড়েছে দেশেও। গত এক দশকে দেশে বেডশিটের বাজার বড় হয়ে হয়েছে দ্বিগুণ। ২০২১-২২ অর্থবছরে বেডশিটের রফতানি অতীতের রফতানি আকারকে ছাড়িয়ে অর্ধবিলিয়ন ডলারের আকারে রূপ নিয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বেডশিটের পণ্য রফতানি হয় ২৯ কোটি ৬১ লাখ ডলারের। ২০২১-২২ অর্থবছরে এর আকার দাঁড়ায় ৫৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, করোনা মহামারীর পর ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের বাইরে বেডশিটের সর্বোচ্চ ৫৭ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি করে হোম টেক্সটাইল পণ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারকরা। শুধু ২০২১-২২ অর্থবছরে নয়, অর্ধশত কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া বছরগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৪-১৫, ২০১৭-১৮ ও ২০২০-২১ অর্থবছর। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বেডশিট জাতীয় পণ্য রফতানি হয় ৫২ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫২ কোটি ৮৭ লাখ ডলার এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫২ কোটি ১৩ ডলারের পণ্য রফতানি হয়।

২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২৯ কোটি ৬১ লাখ ডলারের বেডশিট রফতানি হয়। পরের অর্থবছর ২৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়। চার বছর পর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা অর্ধশত কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৬ কোটি ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪৭ কোটি ডলার রফতানি হয়। এর পরের বছর আবারো অর্ধশত কোটির ঘর পার করে বেডশিট। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৮ কোটি ডলার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪০ এবং সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪৮ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি হয়।

এসিএস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (রফতানি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‌বেডশিট নিয়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল। করেনাকালে এবং করোনা-পরবর্তী সময়েও আমরা আশা দেখেছি। কিন্তু এখন আমরা হতাশ হয়েছি, আমাদের ব্যবসা ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। আমরা আগে যেখানে মাসে ৮ মিলিয়ন ডলার রফতানি করেছি, এখন তা ৫ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। এটা আমাদের জন্য নেতিবাচক সংবাদ। সামনের দিনগুলোতে কী হয় তা নিয়েও ভয়ে আছি আমরা। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তো আছে, তার ওপর সরকারের নীতিনির্ধারকদের ভুল নীতিমালা এতে প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো চলছে না, ফলে সেখানকার ক্রয়াদেশ ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। এগুলো ভালো লক্ষণ না। তবে প্রত্যাশা আছে সামনের দিনগুলোতে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

‘বেডশিট’ শব্দটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার হয় ১৫ শতকে। যার বাংলা অর্থ করা হয় বিছানার চাদর। ঐতিহ্যগতভাবে সাধারণত সাদা গড়নের কাপড় বিছানার চাদর হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তুলা, লিনেন ও সিল্কের মাধ্যমে বিছানার চাদর তৈরি করা হয়। 

অভিজাত পরিবারগুলো বিছানার চাদর ব্যবহার করলেও বাংলার সাধারণ মানুষজন ব্যবহার করত স্থানীয় পদ্ধতিতে তৈরি শীতল পাটি। এসব পাটি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায় অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি লিখিত শ্রিহট্টের ইতিবৃত্ত গ্রন্থে। পাটির ধরন, শিল্পকর্মের ওপর নির্ভর করত এর দাম। সময় পরিবর্তন হয়েছে। এখন শীতল পাটির পরিবর্তে আধুনিক ব্যবস্থায় তৈরি হচ্ছে বিছানার চাদর। 

এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিছানার চাদর, টেবিল ক্লথ, টয়লেট লিনেন, কিচেন লিনেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে বিছানার চাদর, টয়লেট লিনেন ও কিচেন লিনেন। কারুকার্যসম্পন্ন বিছানার চাদর, টেবিল ক্লথের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর বাইরেও রায়ন, নাইলন ও পলিয়েস্টার ফাইবার পণ্যের চাহিদা তুলনামূলক কম।