হোম টেক্সটাইলের যাত্রা বাংলাদেশে আপনার হাত ধরেই শুরু। এ শুরুর গল্পটা জানতে চাই।

আমরা মূলত শুরু করি ১৯৯৮ সালে। ২০০০ সালে পুরোদমে কাজ শুরু হয়। প্রথম মাসে আমাদের রফতানির পরিমাণ ছিল ৪৮ হাজার ডলার। বর্তমানে আমাদের মাসিক রফতানির পরিমাণ ৩ কোটি ডলার। নব্বইয়ের দশকে আমার মনে হয়েছিল গার্মেন্টস সেক্টর ভালো করছে, কিন্তু হোম টেক্সটাইলে কাজ খুব বেশি হচ্ছে না। প্রায় হচ্ছেই না। এখানে প্রতিযোগিতা কম ছিল, কিন্তু কাজের সুযোগ ছিল। পাশাপাশি সরকার সেখানে কিছু প্রণোদনাও দিয়েছিল। পরে অবশ্য সেটা আর ছিল না। কিন্তু শুরুতে ব্যাপারটা কাজের উৎসাহ তৈরি করেছিল। প্রথমে ইনসেনটিভ ছিল ২৫ শতাংশ। আমরা যখন শুরু করলাম তখন ইনসেনটিভ কমে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। তবে আমার চিন্তাধারা ছিল যে কেউ যখন এখানে কাজ করেনি, আমি করতে পারি। ইউরোপ, আমেরিকার অনেক কারখানার খবর নিয়েছিলাম।

বিশ্বের অনেক দেশের কারখানা আপনি দেখেছেন। সে সম্পর্কে কিছু বলুন।

আমি তুরস্কের অনেক কারখানা দেখেছি। এছাড়া পাকিস্তান ও চীনের কারখানাও দেখা হয়েছে। ইউরোপের কারখানাগুলো সে তুলনায় ছোট। তুরস্কের জলু বেশ বড় একটি কারখানা। পাকিস্তানে গুল আহমদসহ বেশ কয়েকটি বড় কারখানা আছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় এত বড় ক্যাপাসিটি আপনাদের ছাড়া কারো কি আছে?

না, আমাদের মতো এত বড় ক্যাপাসিটি দক্ষিণ এশিয়ায় আর কারো নেই।

এই সেক্টর কি গার্মেন্টসের মতো? মানে ওরা ডিজাইন করে দেয়?

পুরোপুরি না। কারণ হিসাব করলে দেখা যাবে ৯৫ শতাংশ ডিজাইন তারা দেয়। বাকি ৫ শতাংশ আমরা করি। আমরা ডিজাইন ডেভেলপ করি। আমাদের ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট ক্যাপাসিটি আছে। তবে দেখা যায়, আমরা ১০টি ডিজাইন দিলে তারা দুটি সেখান থেকে সিলেক্ট করে। এর মধ্যে আবার পরিবর্তন হয়। 

প্রাথমিকভাবে আপনার বিনিয়োগ কত ছিল? 

৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার মতো।

এই সেক্টরের চ্যালেঞ্জ এ সময়ে কী?

চ্যালেঞ্জ এখন পাকিস্তান। পাকিস্তানের কারেন্সি এখন ১ ডলারে ২৯২ টাকা। তাদের নিজস্ব তুলা আছে। কেমিক্যাল তারা নিজেরা বানায়। সব তুলা, ডাই, কেমিক্যাল নিজেদের। কিন্তু আমাদের সবকিছু আমদানি করতে হয়। আবার আমাদের দেশে জ্বালানি খরচ হঠাৎ করে তিন-চার গুণ বাড়িয়ে দেয়ার কারণে মোট খরচটা বেড়ে গেছে। 

হোম টেক্সটাইলের ডিমান্ড কেমন বর্তমানে?

ডিমান্ড আছে, কারণ টি-শার্ট তো পরতে হবে। বেডশিট, বালিশ লাগে। এটা সব সময়ই দরকার। এ কাজগুলো বাইরেও চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তারা টিকে থাকতে পারেনি। 

আমাদের হোম টেক্সটাইল এখন মূলত কোন বাজারে রফতানি হচ্ছে?

বায়ার মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রায় ৬০ শতাংশই তারা নেয়। সবচেয়ে বড় ক্রেতা আইকিয়া। তারপর এইচএনএম, প্রাইমার, নিডেল, ওয়ালমার্ট। আর ছোটখাটো দু-তিনশ ক্রেতা আছেন।

বাংলাদেশে হোম টেক্সটাইলের বিকাশ আরো কি সম্ভব? ডিমান্ড কতটা আছে?

না। এখন যে অবস্থা, তাতে আরো নতুন কোম্পানি তৈরি হওয়া সম্ভব না। এক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে নীতি সহায়তা লাগবে। ভারতেও দুটো বড় প্রতিষ্ঠান আছে। ফলে বিষয়টা কঠিন হয়ে গেছে। পাকিস্তান বড় ফ্যাক্টর হবে না। কারণ ওদের জিএসপি নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটা বড় মার্কেট, কিন্তু ওখানে জিএসপি না থাকার কারণে আমরা ভালো করতে পারছি না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন চীন, ভিয়েতনাম ও ভারত থেকে হোম টেক্সটাইল যাচ্ছে।

আপনারা এখন লোকাল মার্কেটে কি হোম টেক্সটাইল দিচ্ছেন?

আমরা লোকাল মার্কেটে দিচ্ছি না।

এ বিষয়ে আপনি কি আরো কিছু বলতে চান?

বলতে চাই যে কাজটা আমরা একা এগিয়ে নিতে পারব না। এনার্জি, লেবার কস্ট, কাঁচামালের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।