মেট্রোরেলের
প্রথম চালক
নারী, প্রথম
যাত্রী নারী,
একজন স্টেশন
কন্ট্রোলার হিসেবে
নিয়োগ দেয়া
হয়েছে নারীকে,
রেলে স্বতন্ত্র
কোচ থাকবে
নারীদের জন্য—এভাবেই
মেট্রোরেল শোনাবে
নারীর জয়গান।
নারী উন্নয়ন
কর্মী ও
সংশ্লিষ্টরা বলছেন,
এমন পদক্ষেপ
নারীদের ভিন্ন
কিছু করতে
সাহস জোগাবে।
দুই কোটি
মানুষের নগরীতে
আশার আলো
হয়ে ছুটবে
দেশের প্রথম
বৈদ্যুতিক ট্রেন।
উদ্বোধন উপলক্ষে
উত্তরা থেকে
আগারগাঁও রুটের
যাত্রীদের মধ্যে
বইছে উৎসবের
আমেজ। বিশেষ
চাহিদাসম্পন্ন বা
প্রতিবন্ধীদের জন্যও
রেলে থাকবে
আলাদা ব্যবস্থা।
গল্পটা মরিয়ম আফিজা ও আসমা আকতারের। আফিজা ট্রেন অপারেটর ও আসমা স্টেশন কন্ট্রোলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনিং একাডেমিতে দুই মাসের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তারা। ঢাকায় ফিরে নেন আরো চার মাসের প্রশিক্ষণ। তার আগে উত্তীর্ণ হন লিখিত, মৌখিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষায়। সব পেরিয়ে দুই নারী এখন পুরোদস্তুর মেট্রোরেলের অংশীজন। দেশের প্রথম নারী মেট্রোরেলচালক হিসেবে আফিজা প্রথম দিনই কাঁধে তুলে নিচ্ছেন দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া এ নারী এখন এক দৃষ্টান্তের নাম। প্রশিক্ষিত এ দুই নারী আবার একে অন্যের কাজ করতেও সক্ষম। ট্রেন অপারেটর প্রয়োজন হলে স্টেশন কন্ট্রোলারের দায়িত্ব পালন করবেন আর স্টেশন কন্ট্রোলার প্রয়োজন হলে ট্রেন চালাবেন। নারী উন্নয়ন কর্মীরা বলছেন, তাদের এ অর্জন আমাদের চিরাচরিত সমাজকে একটি বার্তা দিয়েছে। অনেক নারীর জন্য তারা উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। পুরুষপ্রধান এ সমাজে মেয়েরাও যে সব ধরনের কাজ করতে পারে এটা তারই প্রমাণ।
মেট্রোরেলে প্রথম যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারীদের জন্য একটি কোচ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য মেট্রোরেলে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। যাত্রীদের জন্য শুরুতে প্রস্তুত করা হয়েছে ছয়টি কোচের ১০টি ট্রেন। ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছে আরো দুটি। এসব ট্রেনের একটি কোচ শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত। কোচটিতে সর্বোচ্চ ৩৯০ জন নারী যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। চাইলে বাকি পাঁচটিতেও নারীরা উঠতে পারবে। স্টেশনে নারীদের জন্য থাকবে আলাদা টয়লেটের সুবিধা। থাকবে শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের বিশেষ ব্যবস্থাও। তাছাড়া গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক যাত্রীদের জন্যও প্রতিটি কোচে আসন সংরক্ষিত থাকবে। তবে মেট্রোরেলের সঙ্গে যাত্রীদের অভ্যস্ত করতে এবং আন্তর্জাতিক মান বিবেচনা করে প্রথম দিকে ট্রেনের চলাচল সময় কম এবং স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় বেশি থাকবে।
ডিএমটিসিএল ও এমআরটি লাইন-৬-এর কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের যাতায়াতের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী ও খর্বাকৃতির জনগণ যাতে টিকিট অফিস মেশিনের (টিওএম) মাধ্যমে সহজে টিকিট সংগ্রহ করতে পারে সেজন্য তুলনামূলক কম উচ্চতায় টিকিট বুথ রাখা হয়েছে। একইভাবে যারা হুইল চেয়ার ব্যবহার করে তাদের জন্য টিকেট ভেন্ডিং মেশিন (টিভিএম) ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের টিকিট সংগ্রহ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীদের পেইড জোনে সহজে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য হুইল চেয়ারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় ভাড়া পরিশোধের প্রশস্ত গেট রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য লিফটে ওঠানামার ব্যবস্থা রয়েছে। আবার লিফটের ভেতরে ধরার জন্য হাতল, নিম্ন উচ্চতায় কন্ট্রোল প্যানেল ও নিজের অবস্থান বোঝার জন্য আয়না রয়েছে। লিফটের কন্ট্রোল প্যানেলে ব্রেইল পদ্ধতির নির্দেশনা থাকবে। তাদের স্বাচ্ছন্দ্যে স্টেশনে ওঠানামার জন্য লিফটের সামনের পথ ঢালু রাখা হয়েছে। মূক ও বধির যাত্রীরা ডিজিটাল নির্দেশিকা অনুসরণ করে স্বাচ্ছন্দ্যে মেট্রো স্টেশনে ও ট্রেনে যাতায়াত করতে পারবে। অন্ধ যাত্রীদের মেট্রো স্টেশনে চলাচলের জন্য ব্লাইন্ড স্টিম ব্যবহারের সুবিধার জন্য হলুদ রঙের ট্যাকটাইল পথের ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা যায়।





