বেসরকারি
উদ্যোগে গড়ে ওঠা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ২০১৯ সালের দিকে রাজধানীর গ্রিন রোডের অস্থায়ী ক্যাম্পাস ছেড়ে উত্তরার স্থায়ী ক্যাম্পাসে কার্যক্রম স্থানান্তর করে এ বিশ্ববিদ্যালয়। ওই সময় ঠিকানা পরিবর্তন, যাতায়াত সমস্যাসহ নানা জটিলতায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী সংখ্যায় ব্যাপক ধস নামে। স্থায়ী ক্যাম্পাসে তিন শিক্ষাবর্ষেরও বেশি সময় পার করলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থী সংকট থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। তবে মেট্রোরেল চালু হলে এ সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয়টির।
এ প্রসঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, আইন অনুযায়ী ২০১৮ সালেই আমরা উত্তরায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করি। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ধরনের কার্যক্রম স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা আশঙ্কাজনক কমে যায়। এরপর করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ঋণাত্মক এ ধারা আরো ত্বরান্বিত হয়। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে এ অবস্থায় ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন আসছে। আমাদের সবার প্রত্যাশা মেট্রোরেল চালু হলে এ সংকট সম্পূর্ণরূপে কেটে যাবে।
শুধু
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি নয়; মেট্রারেল চালু হলে শিক্ষার্থী কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে প্রত্যাশী উত্তরা অঞ্চলের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এ অঞ্চলের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি), অতীশ
দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এডিইউএসটি), বিজিএমইএ
ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি), শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এরই মধ্যে মেট্রোরেলের স্টেশন থেকে তাদের ক্যাম্পাস পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শাটল বাস সেবা চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মেট্রোরেলের সুফলকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থী সংখ্যায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চান তারা।
এডিইউএসটির
বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সৈয়দ মো. হেমায়েত হোসেন বলেন, শহরের ক্যাম্পাস ছেড়ে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের কারণে আমাদের ৪০ শতাংশের মতো শিক্ষার্থী কমে যায়। এর প্রধান কারণ যাতায়াতের সমস্যা। তখন বিশ্ববিদ্যালয়কে বড় আকারের শিক্ষার্থী ও আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়তে হয়। তবে আমরা মনে করছি, মেট্রোরেল চালু হলে উত্তরার পাশাপাশি মিরপুরসহ শহর অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী পাব। কারণ শহরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তুলনায় আমরা অনেক কম টিউশন ফি নিচ্ছি।
উত্তরা অঞ্চলে গড়ে ওঠা প্রথম বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়। উত্তরা মডেল টাউন এলাকায় ৬ নং সেক্টরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাস। মেট্রোরেল চালুর প্রভাব বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা (অ্যাডমিশন অ্যান্ড প্রমোশন) আবিদ আজিজ বণিক বার্তাকে বলেন, ২০০৩ সালে উত্তরা এলাকার প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি। তবে এখন আরো অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এ এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তুলেছে। যেহেতু মেট্রোরেল ঢাকা দক্ষিণের সঙ্গে ঢাকা উত্তরের একটা সংযোগ তৈরি করবে। তাই আশা করছি, আমরা দক্ষিণ সিটি থেকে অনেক শিক্ষার্থী পাব।





