নিত্যদিনের যানজটের কারণে ঢাকার বিশেষণই বদলে গেছে। ঢাকাকে বিশ্ব চিনেছে জানজটের নগরী হিসেবে। তবে মেট্রোরেলে স্বপ্ন দেখছে রাজধানীবাসী। এর সঙ্গে সংগতি রেখে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পরিকল্পনা ও মেট্রোরেলের নানা দিক নিয়ে বণিক বার্তার মুখোমুখি হয়েছেন সংস্থাটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল ফাতাহ মামুন
মেট্রোরেল উদ্বোধন নিয়ে আপনার
ভাবনা বলুন।
আজ বিজয়ের এই মাসে দেশের ইতহাসে প্রথম মেট্রোরেলের যাত্রাপথ উদ্বোধন হচ্ছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ করে ঢাকাবাসী আনন্দিত। আমাদের স্বপ্ন ছিল মেট্রোরেল। আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনেছি মেট্রোরেলের মতো আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা ঢাকা শহরে হবে। কিন্তু সেটা শুধু শোনার মধ্যেই ছিল। স্বপ্ন পর্যন্তই ছিল। আমাদের শৈশব কেটেছে, কৈশর কেটেছে, যৌবনের বড় অংশ কেটেছে, কিন্তু সে স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সময়লব্ধভাবে সুচারুরূপে মেট্রোরেলের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্পন্ন করেছেন। সে শুভক্ষণ এখন আমাদের দ্বারপ্রান্তে। আজ মেট্রোরেলের শুভ উদ্বোধন। প্রধানমন্ত্রী মেট্রোরেলের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দিয়াবাড়ী থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হবে। এবং পরবর্তী সময়ে আগারগাঁও থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত সংযোগটা বর্ধিত হবে। এ কাজ শেষ হলে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য যাত্রাপথ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মাঝে সরকার সে লক্ষ্য ধরে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় ঢাকাবাসীর জন্য। আমি ঢাকাবাসীর জনপ্রতিনিধি হিসেবে খুবই আনন্দিত।
ঢাকায় কেন
মেট্রোরেল প্রয়োজন ছিল?
মেট্রোরেলের
প্রয়োজনীয়তা কিন্তু
রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক
ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানেই
(আরএসটিপি) বলা
আছে। আরএসটিপি
যেটা করা
হয়েছিল, সেখানে
ঢাকার বিশাল
জনসংখ্যার যোগাযোগ
সমস্যার বিষয়ে
সুস্পষ্ট সমাধন
নিয়ে বিভিন্ন
প্রস্তাব ছিল।
এর মধ্যে
মেট্রোরেলও ছিল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
মেট্রোকে অগ্রাধিকার
দিয়েছেন। সে
আরএসটিপি পরিকল্পনা
বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই
মেট্রোরেল নির্মাণের
দরকার ছিল।
ধীরে ধীরে
সেটা বাস্তবায়ন
হচ্ছে। এরই
দৃশ্যমান অগ্রগতির
অংশ হিসেবে
উত্তরা থেকে
আগারগাঁওয়ে মেট্রোরেলের
উদ্বোধন করবেন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
আমি অত্যন্ত
আনন্দিত যে
একটি সময়লব্ধ
কার্যক্রমের মাধ্যমে
মেট্রোর কাজ
সম্পন্ন হচ্ছে
এবং অত্যন্ত
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর
এ মেট্রোরেল
চালু হয়েছে।
ঢাকা শহরের
সেবক হিসেবে,
জনপ্রতিনিধি হিসেবে
আমি উচ্ছ্বসিত।
আমাদের স্বপ্ন
বাস্তবায়ন হয়েছে।
নগরবাসীর স্বপ্ন
বাস্তবায়ন হয়েছে।
মেট্রোরেলের সঙ্গে
আমাদের যানজট,
বৃহত্ভাবে ও
বহুলাংশে এটা
নিরসন করবে।
পাশাপাশি গণপরিবহনকেও
সুশৃঙ্খলাবদ্ধ করবে।
গণপরিবহন শৃঙ্খলায় মেট্রোর ভূমিকা কেমন হবে?
মেট্রোর
মাধ্যমে ঢাকায়
বিদ্যমান গণপরিবহনগুলো
বাধ্য হয়েই
শৃঙ্খলায় চলে
আসবে। ঢাকাবাসীকে
এখন আর
কোনো একটি
বা দুটি
গণপরিবহনের ওপর
নির্ভরশীল থাকতে
হবে না।
সুতরাং অন্যরাও
তখন মেট্রোরেলের
সঙ্গে মিলিয়ে
একটি শৃঙ্খলায়
আসতে বাধ্য
হবে। ঢাকার
ওপরে-নিচে,
ভেতরে-বাইরে
সব জায়গায়ই
গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায়
একটি আমূল
পরিবর্তন ও
শৃঙ্খলা আমরা
দেখতে পাব।
যে পরিবর্তনের
সুফল ঢাকাবাসী
পাবে। আমাদের
যাতায়াতের সময়সীমা
অনেক কমে
যাবে। খরচ
কমে যাবে।
সব মিলিয়ে
ঢাকা শহরের
বাসিন্দাদের জীবনে
ভিন্নধর্মী পরিবর্তন
আসবে, যা
বহুল কাঙ্ক্ষিত,
বহুল প্রত্যাশিত।
এজন্য মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীকে আমি
আবারো ধন্যবাদ
জানাই। আসলে
গণপরিবহন হলো
যেকোনো শহরের
একটি মূল
উপাদান। যে
শহরের গণপরিবহন
ব্যবস্থাপনা যত
ভালো, সুষ্ঠু,
সে শহরটা
ততটাই মানুষের
কাছে গ্রহণযোগ্য,
আবাসযোগ্য। সে
পরিপ্রেক্ষিত আমাদের
অনেক প্রতিকূলতা
ছিল, সব
প্রতিকূলতা অতিক্রম
করে আজ
আমরা সেই
মেট্রোরেল সম্পন্ন
করতে পারছি,
উদ্বোধন করতে
পারছি।
ডিএসসিসির ৩০
বছর মেয়াদি সমন্বিত মহাপরিকল্পনায় মেট্রোরেল কী
প্রভাব ফেলছে?
ঢাকা
দক্ষিণ সিটি
করপোরেশন ত্রিশ
বছর মেয়াদি
যে মহাপরিকল্পনা
করছে, এখানেও
গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা
অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
সে অগ্রাধিকারে
যেমন মেট্রোরেল
রয়েছে, তেমনি
অন্যান্য গণপরিবহনও
রয়েছে। আমরা
মনে করি,
আমাদের মহাপরিকল্পনার
আওতায় বা
সমন্বিত মহাপরিকল্পনার
যে রূপরেখা,
সে রূপরেখার
একটা বড়
অংশেই মেট্রোরেলকেন্দ্রিক
কার্যক্রম আছে
ও থাকবে।
মেট্রোরেলের ফলে
নগরবাসী কী
সুবিধা পাবে?
সবগুলো
মেট্রোরেলে যাত্রাপথ
যদি সম্পন্ন
হয়, তাহলে
ঢাকা শহরে
আমরা মনে
করি একদমই
যানজট থাকবে
না। কারণ
একজন যাত্রী
বা একজন
ঢাকাবাসীর কাছে
বিভিন্ন ধরনের
বাহনের সুযোগটা
থাকবে। সে
কোন বাহনে
যেতে চায়
সেটা সে
নির্ধারণ করবে।
এখন যেমন
আমাদের যে
গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা
রয়েছে, আমরা
যাত্রীরা, ঢাকাবাসীরা
অনেকটা জিম্মি।
সে জিম্মি
দশা থেকে
ঢাকাবাসী মুক্ত
হতে পারবে।
যেটা আমি
আগেই বলেছি,
মেট্রোরেলের মাধ্যমে
অন্যান্য গণপরিবহন
ব্যবস্থাপনাও তখন
আরো জবাবদিহিতা
ও শৃঙ্খলার
মধ্যে আসতে
বাধ্য হবে।
স্টেশন এলাকাগুলোয় পর্যাপ্ত ফুটপাথ ও ওপেন
স্পেস প্রয়োজন। এ নিয়ে
ডিএসসিসির পরিকল্পনা কী?
মেট্রোরেলের নকশা বা মেট্রোরেলের যাত্রাপথে যেসব স্টেশন বা স্থাপনা করা হয়েছে, সেগুলো ঢাকাবাসী তথা যাত্রীরা যেন সাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারে, উঠতে পারে, নামতে পারে, চলতে পারে এবং কিছু গণপরিসর, কিছু এলাকাজুড়ে অন্যান্য কার্যক্রমও যেন তারা করতে পারে, সেটার সঙ্গে সংগতি রেখে আমরা আমাদের ৩০ বছর মেয়াদি সমন্বিত মহাপরিকল্পনার আওতায় যেসব অবকাঠামোর প্রয়োজন, আমরা সেটা সেভাবে করব। নগরবাসীর সুবিধার কথা মাথায় রেখে যে ধরনের অবকাঠামো প্রয়োজন আমরা তাই করব। আমাদের পরিকল্পনায়ও সেভাবেই সাজানো হচ্ছে।
প্রকল্পের সামনের কাজগুলোর ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কী?
একটি বিষয় বলতে হয়—সমন্বয়। এরই মাঝে মেট্রোরেলের অন্যান্য যে প্রকল্প নেয়া হয়েছে, সেগুলো আমাদের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে। প্রকল্প প্রণয়নের সময় আমাদের সঙ্গে মিটিং হলে সেখানে আমরা আমাদের মতামত দিচ্ছি এবং যেখানে যেটা সন্নিবেশ করা প্রয়োজন, সেভাবেই সেটা আমরা করে যাচ্ছি। সুতরাং আমি মনে করি, ভবিষ্যতে মেট্রোরেলের কার্যক্রম বৃদ্ধির যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে, সেটা রিভাইজড স্ট্যাটিজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি) অনুযায়ী হবে। এক্ষেত্রে আমাদের সমন্বিত মহাপরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করার যে ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। আশা করছি, আমাদের এসব কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এর সুফল ঢাকাবাসী পাবে। আজ মেট্রোরেলের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ঢাকাবাসী এর দৃশ্যমান সুফল ভোগ শুরু করবে।





