ইরানে সরকার পরিবর্তনকে সবচেয়ে ভালো বিষয় হিসেবে মনে করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাতের পক্ষে তার সমর্থন সুস্পষ্ট হলো। খবর রয়টার্স।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নর্থ ক্যারোলাইনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক সামরিক অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প বলেন, ৪৭ বছর ধরে ইরান এক কথাই বলে যাচ্ছে। এর মধ্যে অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।
ইরানে ক্ষমতায় ট্রাম্প কাদের দেখতে চান সে বিষয় কিছু বলেননি তিনি। কেবল জানিয়েছেন, সেখানে দেশের দায়ভার নেয়ার জন্যে উপযুক্ত মানুষ আছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের বিষয়ে ইরানের ধর্মীয় সর্বোচ্চ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।
এদিকে, ইরানকে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি করতে পেন্টাগন থেকে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এ ধরনের মন্তব্য করলেন ট্রাম্প।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী দ্য ইউএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরিই ক্যারিবীয় সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে আটক অভিযানে অংশ নিয়েছিল রণতরীটি।
এর আগে জানুয়ারিতে ইরানে গণবিক্ষোভে সহিংসতাকে ঘিরে আরেক বিমানবাহী রণতরী ইউএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই রণতরীটির ছবি শনিবার ট্রাম্প নিজের সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করেন।

একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন, যেখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবেন ওমানের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ অবসানে তারা দুই দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা এবং দেশের জনগণের পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলোও সামনে আনতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান নিষেধাজ্ঞার বিনিময়ে পরমাণবিক চুক্তিতে প্রস্তুত থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কিত কোনো আলোচনায় রাজি নয় বলে জানিয়েছে।
এই চুক্তি না হলে ট্রাম্প এর মধ্যেই ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে তেহরানও পাল্টা প্রতিশোধের অঙ্গীকার করেছে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সৈন্য সমাবেশ করায় যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।
তবে বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার তিনি ট্রাম্প বলেন, হামলা এড়াতে ইরানের উচিত এমন একটি চুক্তি দেয়া, যা প্রথমবারেই তাদের দেয়া উচিত ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহু ইরানের প্রতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনের প্রতি সমর্থন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এসব দাবিদাওয়ার প্রতি কোনো নতি স্বীকার করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি করেন। যা ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যাহার করা হয়। এরপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন ফলে ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে চাপে পড়ে।














